ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সমঝোতার পর প্রথম বিদেশ সফরে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ১ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একদিন পরই পাকিস্তান সফর করেলন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২৩ জুন ইসলামাবাদের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

একদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ছিল মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ সুইজারল্যান্ডের আলোচনা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্তনিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

বৈঠকের পর ইসলামাবাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পেজেশকিয়ান। আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে ইরান কোন আপস করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ”আমেরিকার সাথে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, তাতে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি নেই। এবং তা কখনো থাকবেও না। যদি আমাদের আত্মরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র না থাকত—তাহলে ইসরাইল ও আমেরিকা, গাজার মতো ইরানকেও আক্রমণ করত। তরুণ বা বৃদ্ধ, কারোর প্রতিই তারা কোনো দয়া দেখাতো না। তারা মানবাধিকারের কথা বলে—যা এক বিরাট মিথ্যা। যদি আমরা আত্মরক্ষা করতে অক্ষম হতাম, তবে তারা আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দিত। তাই কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করব না।”

রাষ্ট্রীয় সফরের মাঝে পেজেশকিয়ানকে পেশাগত সম্মাননা দেয় পাকিস্তান কলেজ অব ফিসিশিয়ানস এন্ড সার্জনস। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বিভিন্ন সিভিল বা সামরিক পদক দেওয়া হয়। কিন্তু শাহবাজ শরিফ সরকার পেজেশকিয়ানের ব্যক্তিগত পরিচয়কে সম্মান জানিয়ে এই ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছে। যা দুই নেতার মধ্যে গভীর ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া তৈরি করেছে।

পেজেশকিয়ানের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সম্প্রতি পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বাক্ষর করেন। সেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পাকিস্তান সফর করেছিলেন। সে সময় ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন পর তিনি ইসলামাবাদে যান, যা ছিল ওই সংঘাত-পরবর্তী তার প্রথম বিদেশ সফর।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পেজেশকিয়ানের এই সফর পাকিস্তানের কূটনৈতিক মর্যাদাকে বাড়িয়েছে। প্রকাশ্যে ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ইরান আসলে প্রমাণ করে দিল যে পাকিস্তান আর শুধু বার্তাবাহক নয়, তারা এখন এই অঞ্চলের একটি স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারী। এই সফরের মাধ্যমে পেজেশকিয়ানও প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন যে কূটনীতি মানেই আত্মসমর্পণ নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে সাড়া দিচ্ছে না; বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থানে অনড় আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

সমঝোতার পর প্রথম বিদেশ সফরে পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট

আপডেট টাইম : ১০:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একদিন পরই পাকিস্তান সফর করেলন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২৩ জুন ইসলামাবাদের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

একদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ছিল মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ সুইজারল্যান্ডের আলোচনা নিয়ে কথা বলেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্তনিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

বৈঠকের পর ইসলামাবাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পেজেশকিয়ান। আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে ইরান কোন আপস করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ”আমেরিকার সাথে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, তাতে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি নেই। এবং তা কখনো থাকবেও না। যদি আমাদের আত্মরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র না থাকত—তাহলে ইসরাইল ও আমেরিকা, গাজার মতো ইরানকেও আক্রমণ করত। তরুণ বা বৃদ্ধ, কারোর প্রতিই তারা কোনো দয়া দেখাতো না। তারা মানবাধিকারের কথা বলে—যা এক বিরাট মিথ্যা। যদি আমরা আত্মরক্ষা করতে অক্ষম হতাম, তবে তারা আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দিত। তাই কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করব না।”

রাষ্ট্রীয় সফরের মাঝে পেজেশকিয়ানকে পেশাগত সম্মাননা দেয় পাকিস্তান কলেজ অব ফিসিশিয়ানস এন্ড সার্জনস। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বিভিন্ন সিভিল বা সামরিক পদক দেওয়া হয়। কিন্তু শাহবাজ শরিফ সরকার পেজেশকিয়ানের ব্যক্তিগত পরিচয়কে সম্মান জানিয়ে এই ফেলোশিপের ব্যবস্থা করেছে। যা দুই নেতার মধ্যে গভীর ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া তৈরি করেছে।

পেজেশকিয়ানের এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সম্প্রতি পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বাক্ষর করেন। সেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পাকিস্তান সফর করেছিলেন। সে সময় ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার অল্প কিছুদিন পর তিনি ইসলামাবাদে যান, যা ছিল ওই সংঘাত-পরবর্তী তার প্রথম বিদেশ সফর।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পেজেশকিয়ানের এই সফর পাকিস্তানের কূটনৈতিক মর্যাদাকে বাড়িয়েছে। প্রকাশ্যে ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ইরান আসলে প্রমাণ করে দিল যে পাকিস্তান আর শুধু বার্তাবাহক নয়, তারা এখন এই অঞ্চলের একটি স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারী। এই সফরের মাধ্যমে পেজেশকিয়ানও প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন যে কূটনীতি মানেই আত্মসমর্পণ নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে সাড়া দিচ্ছে না; বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থানে অনড় আছে।