ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ৮ বার

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি করেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। এর জবাবে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসির।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

এর আগে গত সপ্তাহেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে, যা এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় অস্বীকার করে বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির কারণ ছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি।

এদিকে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি করেছে, যা চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। এর জবাবে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসির।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

এর আগে গত সপ্তাহেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে, যা এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় অস্বীকার করে বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির কারণ ছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি।

এদিকে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।