ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন মাসে বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ভারে কাবু ব্যাংক খাত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ১২ বার

খেলাপি ঋণের পাগলা ঘোড়ার দৌড় থামছেই না। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ খানিকটা কম থাকলেও চলতি বছরের মার্চে তা ফের বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ নবায়নে বড় বড় ছাড় দিয়েও এর ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্চ প্রান্তিকে অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। একই সঙ্গে খেলাপির আগের ধাপের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ প্রতিবেদন অনুমোদন করেছেন।

এদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। তারল্যের একটি বড় অংশ আটকে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মূলধন কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের বেশি থাকলেই ঝুঁকি হিসাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ৩ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। কেবল খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ছিল। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার একেবারেই কম।

খেলাপি ঋণের এ চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বাইরে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। খেলাপিযোগ্য কিন্তু খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি এমন ঋণের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়া বিশেষ ছাড়েও খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অবলোপন করা ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বর্তমান হিসাবের বাইরে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেসব ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে ঋণ আদায় কমে যাচ্ছে। একটি পর্যায়ে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা হয়েছিল। ওইসব ঋণও ফের খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অনেক উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ওইসব ঋণও খেলাপি হচ্ছে। যে কারণে গত ডিসেম্বরের পর মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ফের বেড়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল।

গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে বড় ছাড় দিয়ে নবায়ন করার ফলে ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছিল ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমার পর মার্চেই আবার তা বেড়ে গেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ও নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রভিশন রাখা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রয়েছে। বাকি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর হাতে কোনো প্রভিশন নেই। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। মার্চে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে অর্থাৎ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এসব ঋণ এখন পরিশোধিত বা নবায়ন করা হলে খেলাপিতে পরিণত হবে বা অংশবিশেষ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে এ হিসাবে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ১১২ শতাংশ। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন মাসে বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ভারে কাবু ব্যাংক খাত

আপডেট টাইম : ০৯:২৯:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

খেলাপি ঋণের পাগলা ঘোড়ার দৌড় থামছেই না। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ খানিকটা কম থাকলেও চলতি বছরের মার্চে তা ফের বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ নবায়নে বড় বড় ছাড় দিয়েও এর ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্চ প্রান্তিকে অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। একই সঙ্গে খেলাপির আগের ধাপের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ প্রতিবেদন অনুমোদন করেছেন।

এদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। তারল্যের একটি বড় অংশ আটকে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মূলধন কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের বেশি থাকলেই ঝুঁকি হিসাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ৩ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। কেবল খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ছিল। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার একেবারেই কম।

খেলাপি ঋণের এ চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বাইরে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। খেলাপিযোগ্য কিন্তু খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি এমন ঋণের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়া বিশেষ ছাড়েও খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অবলোপন করা ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বর্তমান হিসাবের বাইরে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেসব ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে ঋণ আদায় কমে যাচ্ছে। একটি পর্যায়ে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা হয়েছিল। ওইসব ঋণও ফের খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অনেক উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ওইসব ঋণও খেলাপি হচ্ছে। যে কারণে গত ডিসেম্বরের পর মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ফের বেড়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল।

গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে বড় ছাড় দিয়ে নবায়ন করার ফলে ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছিল ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমার পর মার্চেই আবার তা বেড়ে গেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ও নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রভিশন রাখা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রয়েছে। বাকি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর হাতে কোনো প্রভিশন নেই। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। মার্চে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে অর্থাৎ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এসব ঋণ এখন পরিশোধিত বা নবায়ন করা হলে খেলাপিতে পরিণত হবে বা অংশবিশেষ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে এ হিসাবে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ১১২ শতাংশ। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।