ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা,মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালী এখন ফুটপাতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ১৫ বার
রাজধানীর আটটি হাসপাতাল ঘুরেও মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোনো চিকিৎসা মেলেনি। বর্তমানে ওই নারী ধানমণ্ডি ২৭-এর জেনেটিক প্লাজার পাশের ফুটপাতে পলিথিন মুড়িয়ে পড়ে আছেন, রয়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

মুছা করিম রিপন নামের এক যুবক ওই নারীকে উদ্ধার করে আটটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই নানা অজুহাতে চিকিৎসা দিতে অপারগতা করেছে।ওই নারীর নাম দুলালী। তার বাড়ি ও পরিবারের বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।

জানান, গত ২২ মে সকালে তার বাসার পাশে একটি গলিতে ওই নারীকে দেখতে পান। এ সময় ওই নারীর শারীরিক অবস্থা দেখে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেন। তখন তাকে কলা ও পাউরুটি কিনে দেন মুছা। কিন্তু ওই নারী কিছুই খেতে পারছেন না।
অবস্থা খারাপ দেখে তাকে প্রথমে নিয়ে নেওয়া হয় শ্যামলীতে অবস্থিত মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারীকে দেখে ওষুধ লিখে দিলেও চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।এরপর সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসায় সাড়া মেলেনি। হতাশ হয়ে মুছা ফার্মগেটের মডার্ন সাইকিয়াট্রিক নামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জানানো হয়, কেরানীগঞ্জে এই হাসপাতালের অন্য শাখায় ওই নারীকে পাঠানা হবে।

সেখানে চলবে তার চিকিৎসা। মুছাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে সায় দেন। পরে সেখান থেকে জানানো হয়, মানসিক সমস্যার চেয়ে ওই নারী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ, তাকে আগে এসবের চিকিৎসা দিতে হবে।এরপর সেখান থেকে এক্সিম ব্যাংক হসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকেও জানানো হয়, ওই নারীকে হাসপাতালে রাখা যাবে না। পরে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে নিরাময় ক্লিনিক নেওয়া হয়। এখানেও হতাশ হলেন মুছা। কোনো উপায় না পেয়ে এক অ্যাম্বুল্যান্সচালকের সহায়তায় ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের সুপারম্যাক্স হসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে চিকিৎসা দিতে রাজি নয়। পরে তাকে পুনরায় রাস্তার পাশে ফুটপাতে এনে রেখে দেন।

মুছা আরো জানান, দুলালীর চিকিৎসা যেন হয়, সে জন্য ‘দুলালিকে বাঁচাতে চাই’—এমন লেখা সংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও দাঁড়িয়ে আকুতি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, সব হাসপাতালেই ওই নারীর এনআইডি ও লিগ্যাল গার্ডিয়ান দেখতে চেয়েছে। এ ছাড়া টাকা-পয়সার বিষয় তো আছেই। সব ম্যানেজ করার পরও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য আইনটি পড়েছি। সেখানে দেখেছি, অনিচ্ছুক রোগী যারা, তাদের ভর্তির ক্ষেত্রে এনআইডি লাগবে, লিগ্যাল গার্ডিয়ান লাগবে—এ রকম কোনো বাধ্যবাতা নেই। মেডিক্যাল অফিসার রোগীর অবস্থা দেখে নিজেই ভর্তি করতে পারে। এ জন্য তাদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। কিন্তু ওনারা নানা অজুহাতে আটকিয়েছেন। এটা অনেক বড় একটা হিউম্যান রাইট মানে ভায়োলেশন। কারণ, একটা মানুষ পাগল হোক বা অন্য কিছু তার চিকিৎসার অধিকার আছে।

মুসা আরো বলেন, যেকোনো সময় ওই নারী মারা যেতে পারেন। রাষ্ট্রের উচিত দুলালীকে বাঁচাতে সব পদক্ষেপ নেওয়া।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৮ হাসপাতাল ঘুরেও মেলেনি চিকিৎসা,মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালী এখন ফুটপাতে

আপডেট টাইম : ১২:০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
রাজধানীর আটটি হাসপাতাল ঘুরেও মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কোনো চিকিৎসা মেলেনি। বর্তমানে ওই নারী ধানমণ্ডি ২৭-এর জেনেটিক প্লাজার পাশের ফুটপাতে পলিথিন মুড়িয়ে পড়ে আছেন, রয়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

মুছা করিম রিপন নামের এক যুবক ওই নারীকে উদ্ধার করে আটটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই নানা অজুহাতে চিকিৎসা দিতে অপারগতা করেছে।ওই নারীর নাম দুলালী। তার বাড়ি ও পরিবারের বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।

জানান, গত ২২ মে সকালে তার বাসার পাশে একটি গলিতে ওই নারীকে দেখতে পান। এ সময় ওই নারীর শারীরিক অবস্থা দেখে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেন। তখন তাকে কলা ও পাউরুটি কিনে দেন মুছা। কিন্তু ওই নারী কিছুই খেতে পারছেন না।
অবস্থা খারাপ দেখে তাকে প্রথমে নিয়ে নেওয়া হয় শ্যামলীতে অবস্থিত মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই নারীকে দেখে ওষুধ লিখে দিলেও চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।এরপর সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসায় সাড়া মেলেনি। হতাশ হয়ে মুছা ফার্মগেটের মডার্ন সাইকিয়াট্রিক নামের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জানানো হয়, কেরানীগঞ্জে এই হাসপাতালের অন্য শাখায় ওই নারীকে পাঠানা হবে।

সেখানে চলবে তার চিকিৎসা। মুছাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে সায় দেন। পরে সেখান থেকে জানানো হয়, মানসিক সমস্যার চেয়ে ওই নারী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ, তাকে আগে এসবের চিকিৎসা দিতে হবে।এরপর সেখান থেকে এক্সিম ব্যাংক হসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকেও জানানো হয়, ওই নারীকে হাসপাতালে রাখা যাবে না। পরে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে নিরাময় ক্লিনিক নেওয়া হয়। এখানেও হতাশ হলেন মুছা। কোনো উপায় না পেয়ে এক অ্যাম্বুল্যান্সচালকের সহায়তায় ধানমণ্ডি ২৭ নম্বরের সুপারম্যাক্স হসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে চিকিৎসা দিতে রাজি নয়। পরে তাকে পুনরায় রাস্তার পাশে ফুটপাতে এনে রেখে দেন।

মুছা আরো জানান, দুলালীর চিকিৎসা যেন হয়, সে জন্য ‘দুলালিকে বাঁচাতে চাই’—এমন লেখা সংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও দাঁড়িয়ে আকুতি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, সব হাসপাতালেই ওই নারীর এনআইডি ও লিগ্যাল গার্ডিয়ান দেখতে চেয়েছে। এ ছাড়া টাকা-পয়সার বিষয় তো আছেই। সব ম্যানেজ করার পরও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য আইনটি পড়েছি। সেখানে দেখেছি, অনিচ্ছুক রোগী যারা, তাদের ভর্তির ক্ষেত্রে এনআইডি লাগবে, লিগ্যাল গার্ডিয়ান লাগবে—এ রকম কোনো বাধ্যবাতা নেই। মেডিক্যাল অফিসার রোগীর অবস্থা দেখে নিজেই ভর্তি করতে পারে। এ জন্য তাদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। কিন্তু ওনারা নানা অজুহাতে আটকিয়েছেন। এটা অনেক বড় একটা হিউম্যান রাইট মানে ভায়োলেশন। কারণ, একটা মানুষ পাগল হোক বা অন্য কিছু তার চিকিৎসার অধিকার আছে।

মুসা আরো বলেন, যেকোনো সময় ওই নারী মারা যেতে পারেন। রাষ্ট্রের উচিত দুলালীকে বাঁচাতে সব পদক্ষেপ নেওয়া।