ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

গাবতলী হাটে পশুর দামে ধস: অবিক্রীত গরু নিয়ে ফেরার শঙ্কায় বিক্রেতারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৭২ বার

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কম থাকা এবং পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় গরুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে অনেক খামারি ও ব্যাপারী লোকসানে গরু বিক্রি করে অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে অবিক্রিত গরু তুলছেন বিক্রেতারা। কেউ আবার পরিবহণ সংকটে হাটজুড়ে ট্রাক খুঁজছেন।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ৫০টি গরু এনেছিলেন, কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কুরবানি হয়ে গেছি।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টি বিক্রি হয়নি। ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণ করে গরু কিনেছি, টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

খামারি ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে হাটে গরু রাখায় পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই বড় লোকসান মেনেই অনেকে গরু বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রতি গরুতে লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকের মতে, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গরু কিনতে যাওয়া আবু নাঈম জানান, যে গরুর দাম আগে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি তিনি দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন।

আরেক ক্রেতা পরাণ বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে, ফলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

ব্যাপারীদের দাবি, এবার কুরবানির পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শেষ সময়ে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় বাজারে দামের বড় পতন ঘটেছে। বুধবার ভোর থেকেই দাম কমতে শুরু করে।

ফার্মগেট থেকে হাটে আসা ক্রেতা সাকিব আল আমিন খান বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে হাটে এসেছি। পর্যাপ্ত গরু আছে, কিন্তু ব্যাপারীরা সহজে দাম ছাড়ছেন না। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ছোট ও মাঝারি গরুর দাম অনেকটাই কম মনে হচ্ছে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কুরবানি হয়েছিল। আর চলতি বছর কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি ১ লাখ পশু।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান সাবেক ছাত্রদল নেতা আনম উল্লাহ সানি

গাবতলী হাটে পশুর দামে ধস: অবিক্রীত গরু নিয়ে ফেরার শঙ্কায় বিক্রেতারা

আপডেট টাইম : ০২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কম থাকা এবং পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় গরুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে অনেক খামারি ও ব্যাপারী লোকসানে গরু বিক্রি করে অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে অবিক্রিত গরু তুলছেন বিক্রেতারা। কেউ আবার পরিবহণ সংকটে হাটজুড়ে ট্রাক খুঁজছেন।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, তিনি ৫০টি গরু এনেছিলেন, কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কুরবানি হয়ে গেছি।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টি বিক্রি হয়নি। ঈদের দুই দিন আগে যে গরুর দাম ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণ করে গরু কিনেছি, টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

খামারি ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে হাটে গরু রাখায় পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই বড় লোকসান মেনেই অনেকে গরু বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রতি গরুতে লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকের মতে, ঈদের আগের দিনের তুলনায় গরুর দাম লাখে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গরু কিনতে যাওয়া আবু নাঈম জানান, যে গরুর দাম আগে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটি তিনি দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন।

আরেক ক্রেতা পরাণ বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করে, ফলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

ব্যাপারীদের দাবি, এবার কুরবানির পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শেষ সময়ে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় বাজারে দামের বড় পতন ঘটেছে। বুধবার ভোর থেকেই দাম কমতে শুরু করে।

ফার্মগেট থেকে হাটে আসা ক্রেতা সাকিব আল আমিন খান বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে হাটে এসেছি। পর্যাপ্ত গরু আছে, কিন্তু ব্যাপারীরা সহজে দাম ছাড়ছেন না। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ছোট ও মাঝারি গরুর দাম অনেকটাই কম মনে হচ্ছে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখের বেশি পশু কুরবানি হয়েছিল। আর চলতি বছর কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি ১ লাখ পশু।