ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু, ক্রেতা কম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ১১ বার

রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম, যার ফলে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, তবে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ গুরু তুলতায় অতি অতিরিক্ত দাম চেয়েছে ব্যাপারীরা। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। ব্যাপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

হাটে বরাবরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব গরুর ক্ষেত্রে গোশতের দাম গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মণ পড়ছে বলে জানা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ গোশত মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ঢাকায় গরু রাখার জায়গা সংকটের কারণে সাধারণত ঈদের দুদিন আগে কেনাবেচা বেশি জমে।

গাবতলী গরুর মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন তাহমিদ ইরতিজা নামে এক যুবক। তিনি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে এসেছেন এবং সেই বাজেট অনুযায়ী গরুর দাম যাচাই করছেন। ব্যাপারীরা বর্তমানে দাম অনেক বেশি হাঁকছেন। বিকেল থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিনি গরু কিনতে পারি নি। বলছেন আজকে না পারলে কালকে কিনবো।

মনিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যাপারী বলেন, গাবতলী হাটে দেশি ষাঁড় গরু এনেছি। হাটে ক্রেতা একেবারেই কম। প্রথমে দেশে আনার সময় গরুগুলোর শরীরে শুধু হাড় ছিল। এরপর ধানের কুড়া, খেসারি, ভুট্টা, ধান ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার খাইয়ে সেগুলো ধীরে ধীরে মোটাতাজা করা হয়। এখন এসব গরু দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর গাবতলী, পোস্তগোলা, শাজাহানপুর, ধোলইখাল, কমলাপুর, মাতুয়াইল পশুর হাটে প্রতিদিনই আসছে কোরবানির পশু। ক্রেতারা আসছেন, পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু ক্রয়ও করছেন, তবে কম।

মানিকগঞ্জ থেকে তেজগাঁও রাস্তার পাশে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন কলেক ব্যাপারি। এদের মধ্যে মানিক নেমে একজন বলেন, ক্রেতারা এসে গরু দেখছেন, গায়ে হাত বুলাচ্ছেন, দরদাম করছেন। তবে কিনছেন এমন লোকের সংখ্যা কম। আমরা আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা আরো জমে উঠবে। পুরোপুরি হাট জমতে কিছুটা সময় লাগবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু, ক্রেতা কম

আপডেট টাইম : ১২:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম, যার ফলে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, তবে বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ গুরু তুলতায় অতি অতিরিক্ত দাম চেয়েছে ব্যাপারীরা। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। ব্যাপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

হাটে বরাবরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব গরুর ক্ষেত্রে গোশতের দাম গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মণ পড়ছে বলে জানা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ গোশত পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ গোশত মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। ঢাকায় গরু রাখার জায়গা সংকটের কারণে সাধারণত ঈদের দুদিন আগে কেনাবেচা বেশি জমে।

গাবতলী গরুর মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন তাহমিদ ইরতিজা নামে এক যুবক। তিনি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে এসেছেন এবং সেই বাজেট অনুযায়ী গরুর দাম যাচাই করছেন। ব্যাপারীরা বর্তমানে দাম অনেক বেশি হাঁকছেন। বিকেল থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তিনি গরু কিনতে পারি নি। বলছেন আজকে না পারলে কালকে কিনবো।

মনিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যাপারী বলেন, গাবতলী হাটে দেশি ষাঁড় গরু এনেছি। হাটে ক্রেতা একেবারেই কম। প্রথমে দেশে আনার সময় গরুগুলোর শরীরে শুধু হাড় ছিল। এরপর ধানের কুড়া, খেসারি, ভুট্টা, ধান ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার খাইয়ে সেগুলো ধীরে ধীরে মোটাতাজা করা হয়। এখন এসব গরু দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর গাবতলী, পোস্তগোলা, শাজাহানপুর, ধোলইখাল, কমলাপুর, মাতুয়াইল পশুর হাটে প্রতিদিনই আসছে কোরবানির পশু। ক্রেতারা আসছেন, পশুর গায়ে হাত বুলিয়ে দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু ক্রয়ও করছেন, তবে কম।

মানিকগঞ্জ থেকে তেজগাঁও রাস্তার পাশে হাটে গরু নিয়ে এসেছেন কলেক ব্যাপারি। এদের মধ্যে মানিক নেমে একজন বলেন, ক্রেতারা এসে গরু দেখছেন, গায়ে হাত বুলাচ্ছেন, দরদাম করছেন। তবে কিনছেন এমন লোকের সংখ্যা কম। আমরা আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে বেচাকেনা আরো জমে উঠবে। পুরোপুরি হাট জমতে কিছুটা সময় লাগবে।