ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে ওবামার চেয়েও নিখুঁত চুক্তি করব: ট্রাম্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১১ বার

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা নিয়ে সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তার প্রশাসন যে চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির তুলনায় “অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর” হবে।

রোববার (২৪ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে তা হবে অত্যন্ত ভালো ও যথাযথ। এটি ওবামার চুক্তির মতো হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসনের সময় করা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোর ছিল না।

ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তার ভাষায়, “এখনো কেউ জানে না চুক্তির ভেতরে কী আছে। তাই না জেনে সমালোচনা করা ঠিক নয়।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক বিরোধীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো দীর্ঘদিন ধরেও ইরান ইস্যুর কার্যকর সমাধান করতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি “দুর্বল বা খারাপ” কোনো চুক্তি করবেন না।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ছে। মার্কিন কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউস বা ইরান কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট শর্ত ছাড়া কোনো সমঝোতা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয় এবং এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে আনেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

বর্তমানে ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য নতুন চুক্তি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে ওবামার চেয়েও নিখুঁত চুক্তি করব: ট্রাম্প

আপডেট টাইম : ১২:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা নিয়ে সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তার প্রশাসন যে চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, তা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির তুলনায় “অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর” হবে।

রোববার (২৪ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তবে তা হবে অত্যন্ত ভালো ও যথাযথ। এটি ওবামার চুক্তির মতো হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ওবামা প্রশাসনের সময় করা ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোর ছিল না।

ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তার ভাষায়, “এখনো কেউ জানে না চুক্তির ভেতরে কী আছে। তাই না জেনে সমালোচনা করা ঠিক নয়।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক বিরোধীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো দীর্ঘদিন ধরেও ইরান ইস্যুর কার্যকর সমাধান করতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি “দুর্বল বা খারাপ” কোনো চুক্তি করবেন না।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ছে। মার্কিন কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কাঠামো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউস বা ইরান কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট শর্ত ছাড়া কোনো সমঝোতা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয় এবং এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে আনেন এবং ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

বর্তমানে ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য নতুন চুক্তি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা