ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: আসছে বড় ঘোষণা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ১৫ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অবসানে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার বরাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি একটি খসড়া চুক্তি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে দুই পক্ষই স্থল, আকাশ ও জলপথে সব ধরনের সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে চলমান প্রচারণামূলক বা “মিডিয়া যুদ্ধ” বন্ধ রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

খসড়ায় দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরব সাগর, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা সম্ভাব্য জটিলতা নিরসন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করবে। খসড়ায় আরও উল্লেখ রয়েছে, চুক্তি ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে দুই দেশ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান চুক্তির শর্তগুলো মানলে ধাপে ধাপে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত মন্তব্য দেয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ইরানি পক্ষও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের কথা জানিয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে এই অচলাবস্থা নিরসনে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল আরাবিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: আসছে বড় ঘোষণা

আপডেট টাইম : ১২:২৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের উত্তেজনা অবসানে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার বরাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি একটি খসড়া চুক্তি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে দুই পক্ষই স্থল, আকাশ ও জলপথে সব ধরনের সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে চলমান প্রচারণামূলক বা “মিডিয়া যুদ্ধ” বন্ধ রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।

খসড়ায় দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরব সাগর, ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা সম্ভাব্য জটিলতা নিরসন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করবে। খসড়ায় আরও উল্লেখ রয়েছে, চুক্তি ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে দুই দেশ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান চুক্তির শর্তগুলো মানলে ধাপে ধাপে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত মন্তব্য দেয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ইরানি পক্ষও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসহ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের কথা জানিয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগে এই অচলাবস্থা নিরসনে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল আরাবিয়া