ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানে থাকতে হবে : মোজতবা খামেনি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১২ বার

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানে থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

এই নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো- ইরানের অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর শর্ত থাকবে। খবর রয়টার্সের।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করবেন না।

ইরানি সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। তবে ইরানের বন্দর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে শান্তি আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও এখনও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার (২০ মে) বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ‘স্পষ্ট ও গোপন ইঙ্গিত’ পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। যদিও তিনি বলেন, ‘সঠিক উত্তর’ পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েকদিন অপেক্ষা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটুকু এখনও অক্ষত রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানে থাকতে হবে : মোজতবা খামেনি

আপডেট টাইম : ১১:৩১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানে থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

এই নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো- ইরানের অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, যেকোনো শান্তি চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর শর্ত থাকবে। খবর রয়টার্সের।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করবেন না।

ইরানি সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। তবে ইরানের বন্দর অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে শান্তি আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও এখনও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার (২০ মে) বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ‘স্পষ্ট ও গোপন ইঙ্গিত’ পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। যদিও তিনি বলেন, ‘সঠিক উত্তর’ পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েকদিন অপেক্ষা করতে পারে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটুকু এখনও অক্ষত রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।