অনেকেই কুরবানির পশু নির্বাচনের সময় বিভ্রান্তিতে পড়েন— কোন পশু দিয়ে কুরবানি হবে, কোনটি হবে না, ভাঙা শিংয়ের পশু কুরবানি করা জায়েজ কি না— এসব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
কুরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইবাদত। এখানে বাহ্যিক জবাইয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ
‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির পশুর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা আল-হাজ্জ: আয়াত ৩৭)
ভাঙা শিংয়ের পশু দিয়ে কি কুরবানি হবে?
অনেক সময় দেখা যায়, কুরবানির পশুর জন্মগতভাবে শিং নেই অথবা শিং ভেঙে গেছে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। ফকিহগণের মতে—
যে পশুর জন্মগতভাবে শিং নেই, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ। কারণ কুরবানির জন্য শিং থাকা শর্ত নয়। একইভাবে—
যে পশুর শিংয়ের সামনের অংশ ভেঙে গেছে, তা দিয়েও কুরবানি করা জায়েজ।
হুজ্জিয়াহ ইবনে আদী (রহ.) বলেন—
‘আমি হজরত আলী (রা.)-কে শিং ভাঙা পশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন— এতে কোনো অসুবিধা নেই।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা)
কখন ভাঙা শিংয়ের পশু দিয়ে কুরবানি হবে না?
যদি পশুর শিং এমনভাবে উপড়ে যায় যে তার মগজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি ক্ষতি মগজ পর্যন্ত না পৌঁছে, তাহলে শুধু শিং ভাঙা থাকার কারণে কুরবানি অশুদ্ধ হবে না।
কুরবানি মুসলিম জীবনের এক মহান ইবাদত, যা আমাদের ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। এই ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি।
ভাঙা শিংয়ের পশু নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে বলা যায়— যদি শিংয়ের আঘাত মগজ পর্যন্ত না পৌঁছে, তাহলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ। তবে কুরবানির ক্ষেত্রে সর্বদা উত্তম ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করাই শ্রেয়।
Reporter Name 
























