ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে বিশ্বব্যাংকের ৩৫ কোটি ডলার ঋণ পেল বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ১৬ বার

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী।

অতিরিক্ত এই অর্থায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এলএনজি আমদানির জন্য ব্যয়-সাশ্রয়ী অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এছাড়া পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অর্থায়নের ফলে পেট্রোবাংলা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহে সক্ষম হবে। এতে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অতিরিক্ত অর্থায়নের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) গ্যারান্টি সমর্থিত অর্থায়ন সুবিধা থাকবে, যা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধ নিরাপদ করবে।

এর ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য এলএনজি সংগ্রহ ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে এবং একইসাথে বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তাও বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ‘এনার্জি সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল ৩৫ কোটি ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন করে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কারণে বিশ্বব্যাংকের ৩৫ কোটি ডলার ঋণ পেল বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১১:১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী।

অতিরিক্ত এই অর্থায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এলএনজি আমদানির জন্য ব্যয়-সাশ্রয়ী অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

এছাড়া পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অর্থায়নের ফলে পেট্রোবাংলা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহে সক্ষম হবে। এতে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

বিশ্বব্যাংক মনে করছে, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অতিরিক্ত অর্থায়নের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) গ্যারান্টি সমর্থিত অর্থায়ন সুবিধা থাকবে, যা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধ নিরাপদ করবে।

এর ফলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য এলএনজি সংগ্রহ ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে এবং একইসাথে বাজারের অস্থিরতা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তাও বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ‘এনার্জি সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মূল ৩৫ কোটি ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন করে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।