ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছোটবড় ১৫টি হাওর এখন পানির নিচে, ধান তোলার নিরলস প্রচেষ্টা কৃষকের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ২০ বার

সুনামগঞ্জের বৃহৎ  শষ্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওর, মই হাওর ও পিংলার হাওর সহ ছোটবড় ১৫টি হাওর-ই এখন পানির নিচে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর পাকা বোর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষকরা হাওরে পানির নিচ থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন।

যেখানে সোনালী ধানের ঘ্রাণে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে উপজেলার ১২টি হাওরের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। উপজেলার প্রধান শস্যভাণ্ডার নলুয়াসহ প্রতিটি হাওর এখন পানির নিচে। কৃষকের কষ্টের ফসল, যা তাদের সারা বছরের আহারের যোগান দেয়, তা এখন পচে নষ্ট হচ্ছে কর্দমাক্ত পানির নিচে।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যানের চেয়েও মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রায়  ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ফলানো বোর ধানের প্রায় অর্ধেক ফসলই তলিয়ে যায়। কয়েক দিনের অঝোর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। সরেজমিনে হাওর এলাকায় গেলে চোখে পড়ে কৃষকদের আর্তনাদ । কেউ পানির নিচ থেকে ডুবে যাওয়া ধানের গোছা টেনে তুলছেন, কেউবা নির্বাক চেয়ে আছেন দিগন্ত জোড়া জলরাশির দিকে।

কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয় । কৃষকদের অভিযোগ, এক শ্রেণির দালাল চক্র কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ভাড়া নিয়ে চালায় চরম নৈরাজ্য। নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করেন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আগে। কিন্তু বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক এই যন্ত্রগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

মেশিন বন্ধ থাকায় কৃষকের শেষ ভরসা ছিল শ্রমিক। কিন্তু সেখানেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। আগে যেখানে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন পানির নিচে ধান কাটতে ১,৫০০ টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। অনেক কৃষক কোনোমতে ধান কেটেছেন ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা বাড়ি নিতে না পারায় মাঠেই ধানে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, অকাল এই দুর্যোগে কৃষকদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোটবড় ১৫টি হাওর এখন পানির নিচে, ধান তোলার নিরলস প্রচেষ্টা কৃষকের

আপডেট টাইম : ০৬:৫৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জের বৃহৎ  শষ্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওর, মই হাওর ও পিংলার হাওর সহ ছোটবড় ১৫টি হাওর-ই এখন পানির নিচে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর পাকা বোর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষকরা হাওরে পানির নিচ থেকে ধান তোলার চেষ্টা করছেন।

যেখানে সোনালী ধানের ঘ্রাণে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই হাহাকার। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে উপজেলার ১২টি হাওরের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। উপজেলার প্রধান শস্যভাণ্ডার নলুয়াসহ প্রতিটি হাওর এখন পানির নিচে। কৃষকের কষ্টের ফসল, যা তাদের সারা বছরের আহারের যোগান দেয়, তা এখন পচে নষ্ট হচ্ছে কর্দমাক্ত পানির নিচে।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যানের চেয়েও মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রায়  ২১ হাজার হেক্টর জমিতে ফলানো বোর ধানের প্রায় অর্ধেক ফসলই তলিয়ে যায়। কয়েক দিনের অঝোর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। সরেজমিনে হাওর এলাকায় গেলে চোখে পড়ে কৃষকদের আর্তনাদ । কেউ পানির নিচ থেকে ডুবে যাওয়া ধানের গোছা টেনে তুলছেন, কেউবা নির্বাক চেয়ে আছেন দিগন্ত জোড়া জলরাশির দিকে।

কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয় । কৃষকদের অভিযোগ, এক শ্রেণির দালাল চক্র কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ভাড়া নিয়ে চালায় চরম নৈরাজ্য। নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করেন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আগে। কিন্তু বর্তমানে জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক এই যন্ত্রগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

মেশিন বন্ধ থাকায় কৃষকের শেষ ভরসা ছিল শ্রমিক। কিন্তু সেখানেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। আগে যেখানে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন পানির নিচে ধান কাটতে ১,৫০০ টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। অনেক কৃষক কোনোমতে ধান কেটেছেন ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা বাড়ি নিতে না পারায় মাঠেই ধানে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, অকাল এই দুর্যোগে কৃষকদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।