ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সদরঘাটে ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর ডেক থেকে শুরু করে ছাদ, যে যেখানে সিট পেয়েছেন সেভাবে এসেছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা বড় বড় লঞ্চগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল।

বরিশাল থেকে আগত এমভি এম খান-৭ লঞ্চের যাত্রী সাইফুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আজকে বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে যুদ্ধ করে উঠতে হয়েছে। লঞ্চে ওঠার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্য বসার জায়গা পাইনি। পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে। ভেতরে এত মানুষ যে দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তাই বাধ্য হয়ে ছাদে গিয়ে বসেছিলাম। সেখানেও মানুষের ভিড়। ঢাকায় নামার সময় মনে হচ্ছিল পন্টুনে পড়ে যাব। ঈদের আনন্দটা এই ফেরার পথেই মাটি হয়ে গেল। আজকে মানুষ চাপ ছিল অতিরিক্ত।”

ভোলা থেকে আগত এমভি সুরভী লঞ্চের যাত্রী রাবেয়া খাতুন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে এই ভিড়ে নামা যে কী কষ্টের, তা শুধু মায়েরা বোঝে। লঞ্চে জায়গা না পেয়ে কোনো মতে কেবিনে হাঁটাচলার পাশে বসে আসতে হয়েছে। গাদাগাদি করে মানুষ থাকায় গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রশাসন আছে ঠিকই, কিন্তু এত মানুষের সামনে তারা কিছুই করতে পারছে না।”

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে আগত এমভি তাসরিফ লঞ্চে যাত্রী মোস্তফা মারুফ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আজকে কোনো মতে জীবন নিয়ে ঢাকায় এসে পৌছাইছি। আমার জীবনে লঞ্চ ভ্রমণে এত খারাপ অভিজ্ঞতা আর কখনো হয়নি। লঞ্চের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মনে হচ্ছিল যুদ্ধ করছি। পন্টুনে নামার পর মানুষের চাপে প্রায় ১০ মিনিট এক জায়গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ায় লঞ্চগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। এই ভোগান্তি না থাকলে ঈদটা আরো সুন্দর হতো।”

পটুয়াখালী থেকে আগত ঈগল লঞ্চে যাত্রী তোহা কবির রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “লঞ্চ থেকে নামার পর টার্মিনালের গেট পর্যন্ত পৌঁছাতেই আধঘণ্টা লেগেছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে পকেটমারদের ভয়ও কাজ করছে। আর সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি। কোনো মতে এক কোণো দাঁড়ি এসেছি। মানুষের চাপে ভর্তা হয়ে যাওয়া পালা হয়েছে। তবে এত ঝামেলার পর ঠিক সময়ে আসতে পেড়েছি এর জন্য খুশি। কারণ সময়মত অফিস ধরতে হবে।”

আজকে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপের সম্পর্কে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “ছুটির শেষ দিন হওয়াতে আজ যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। এটা অনুমেয় ছিল। তবে আমাদের প্রস্তুতি ছিল, তাই দুই একটা সমস্যা ছাড়া এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থা সুন্দর করা সম্ভব হয়েছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সদরঘাটে ঈদ শেষে ঢাকামুখী মানুষের ভিড়

আপডেট টাইম : ১১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর ডেক থেকে শুরু করে ছাদ, যে যেখানে সিট পেয়েছেন সেভাবে এসেছেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা বড় বড় লঞ্চগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল।

বরিশাল থেকে আগত এমভি এম খান-৭ লঞ্চের যাত্রী সাইফুল ইসলাম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আজকে বরিশাল লঞ্চ ঘাট থেকে যুদ্ধ করে উঠতে হয়েছে। লঞ্চে ওঠার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্য বসার জায়গা পাইনি। পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে। ভেতরে এত মানুষ যে দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তাই বাধ্য হয়ে ছাদে গিয়ে বসেছিলাম। সেখানেও মানুষের ভিড়। ঢাকায় নামার সময় মনে হচ্ছিল পন্টুনে পড়ে যাব। ঈদের আনন্দটা এই ফেরার পথেই মাটি হয়ে গেল। আজকে মানুষ চাপ ছিল অতিরিক্ত।”

ভোলা থেকে আগত এমভি সুরভী লঞ্চের যাত্রী রাবেয়া খাতুন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে এই ভিড়ে নামা যে কী কষ্টের, তা শুধু মায়েরা বোঝে। লঞ্চে জায়গা না পেয়ে কোনো মতে কেবিনে হাঁটাচলার পাশে বসে আসতে হয়েছে। গাদাগাদি করে মানুষ থাকায় গরমে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রশাসন আছে ঠিকই, কিন্তু এত মানুষের সামনে তারা কিছুই করতে পারছে না।”

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে আগত এমভি তাসরিফ লঞ্চে যাত্রী মোস্তফা মারুফ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আজকে কোনো মতে জীবন নিয়ে ঢাকায় এসে পৌছাইছি। আমার জীবনে লঞ্চ ভ্রমণে এত খারাপ অভিজ্ঞতা আর কখনো হয়নি। লঞ্চের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মনে হচ্ছিল যুদ্ধ করছি। পন্টুনে নামার পর মানুষের চাপে প্রায় ১০ মিনিট এক জায়গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ায় লঞ্চগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। এই ভোগান্তি না থাকলে ঈদটা আরো সুন্দর হতো।”

পটুয়াখালী থেকে আগত ঈগল লঞ্চে যাত্রী তোহা কবির রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “লঞ্চ থেকে নামার পর টার্মিনালের গেট পর্যন্ত পৌঁছাতেই আধঘণ্টা লেগেছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে পকেটমারদের ভয়ও কাজ করছে। আর সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি। কোনো মতে এক কোণো দাঁড়ি এসেছি। মানুষের চাপে ভর্তা হয়ে যাওয়া পালা হয়েছে। তবে এত ঝামেলার পর ঠিক সময়ে আসতে পেড়েছি এর জন্য খুশি। কারণ সময়মত অফিস ধরতে হবে।”

আজকে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপের সম্পর্কে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, “ছুটির শেষ দিন হওয়াতে আজ যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। এটা অনুমেয় ছিল। তবে আমাদের প্রস্তুতি ছিল, তাই দুই একটা সমস্যা ছাড়া এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থা সুন্দর করা সম্ভব হয়েছে।”