ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট গুপ্ত এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে ভোট করতে হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে জুবাইদা রহমান ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের নতি স্বীকার: ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছুটান ট্রাম্পের আলোচনার দাবিকে উড়িয়ে দিল ইরান, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি’—আরাগচি ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষেধ শারীরিক অবস্থার উন্নতি কথা বলতে পারছেন মির্জা আব্বাস, দোয়া চেয়েছে পরিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে ‌অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন ৯০ টাকার তরমুজ ৬০ টাকা, তবুও মিলছে না ক্রেতা

জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে যা জানালেন শৈশবের কোচ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক আলোচিত নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি আলোচনায় তার শৈশবের এক অনন্য ক্রীড়া প্রতিভা। জাইমা রহমানের সেই প্রতিভা নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিম।

জাইমা রহমানের ফুটবল প্রেম এবং যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ক্লাব চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও।

আলোচনা ধরেই সোমবার চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে কথা বলেন জাইমার শৈশবের কোচ। বর্তমানে কানাডার একটি ফুটবল ক্লাবের প্রধান গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্বরত মোহাম্মদ হাকিম জানিয়েছেন, শৈশবে জাইমা ছিলেন একজন টপ অ্যাথলেট। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজন তার অবদান।

‘আমি ২০০৩ সালে আইএসজি (ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা)-তে একজন শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং ফুটবল কোচ হিসেবে যোগ দিই। যেহেতু আমি পরে কানাডায় কাজ করেছি, সেখানে ফুটবলকে ‘সকার’ বলা হয়, তাই দুটোই একই অর্থে ব্যবহার করছি।’

‘জাইমা তখন আমাদের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট ছিল। পরবর্তীতে সে গোলকিপার হিসেবে খেলতে শুরু করে। আমরা যখন ইন্টার-স্কুল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতাম—যেখানে আগা খান স্কুল, স্কলাস্টিকা, সানিডেল, সানবিমস, আমেরিকান স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিত—তখন জাইমা ছিল আমাদের দলে। কখনো আমরা তাদের আমন্ত্রণ দিতাম, আবার কখনো আমরা তাদের স্কুলে গিয়ে ম্যাচ খেলতাম।’

‘তখন জাইমা সম্ভবত ক্লাস সিক্সে পড়ত এবং অনূর্ধ্ব-১৪ দলের গোলকিপার ছিল। সে ছিল দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ গোলকিপার। আমার কাছে এখনো কিছু ছবি আছে, যেগুলো আমি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করেছি। কারণ এসব স্মৃতি মনে পড়ে- আমার মনে হয়েছে, তার সম্পর্কে কিছু বলা উচিত।’

‘সে শুধু গোলকিপারই ছিল না—সে পুরো দলকে বুঝত এবং নেতৃত্ব দিত অসাধারণভাবে। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং খুবই ইতিবাচক মানসিকতার। সাঁতারেও সে ছিল অসাধারণ—ব্যাকস্ট্রোক, বাটারফ্লাইসহ সব ধরনের ইভেন্টেই সে সেরা পারফরমারদের একজন ছিল। শুধু ফুটবল নয়, বাস্কেটবল, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড—সব খেলাতেই সে এগিয়ে থাকত, এমনকি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তুলনা করলেও সে সবার সেরা ছিল।’

‘আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য—তার বাবা-মা সবসময় তাকে সমর্থন করতেন। সবসময় আসতে না পারলেও অনেক সময় তারা উপস্থিত থাকতেন এবং তাকে উৎসাহ দিতেন। আইএসজি’র পরিবেশ, জাইমা এবং পুরো দলের সঙ্গে সময়টা ছিল সত্যিই আনন্দময়।’

‘পরে আমি জানতে পারি, জাইমা লন্ডনে চলে যায় এবং সেখানে চেলসির যুব দলে সুযোগ পায়। ইংল্যান্ডে বিশাল স্কাউটিং নেটওয়ার্ক রয়েছে—বিশেষ করে ১৩-১৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের ওপর তাদের নজর বেশি থাকে। স্কুল গেম, লোকাল লিগ, সানডে লিগ কিংবা ছোট ছোট একাডেমি—যেখানেই প্রতিভা দেখা যায়, তারা দ্রুত সেটি খুঁজে বের করে।’

‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশে বিশেষ করে কানাডার মতো দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এই পর্যায়ে সন্তানদের এগিয়ে নেয়া সহজ নয়। জাইমার মতো প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় একাডেমিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আইএসজি-তে আমি যখন তাকে গোলকিপার হিসেবে কোচিং করাতাম, তখন তার উচ্চতা, নমনীয়তা, নেতৃত্বগুণ—সবকিছুই ছিল অসাধারণ, বিশেষ করে এত কম বয়সে।’

‘এখন আমি উপলব্ধি করি, বাংলাদেশে জাইমার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা উচিত। বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে জাইমার মতো খেলোয়াড়দের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘জাইমা সম্পর্কে একটি বিষয় বিশেষভাবে বলব—সে অত্যন্ত বিনয়ী ছিল। তার পরিবার যে এত প্রভাবশালী, সেটা কখনো তার আচরণে বোঝা যেত না। আমি তাকে সবসময় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেছি এবং সেভাবেই আচরণ করেছি। তবে তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ—খেলাধুলার প্রায় সব ক্ষেত্রেই সে সবার শীর্ষে ছিল।’

‘সে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী ছিল। পিই ক্লাসে বাস্কেটবল, সাঁতার, হকি—সব খেলাতেই অংশ নিত, কিন্তু স্কুলের পর ফুটবলেই বেশি সময় দিত। গোলকিপার হিসেবে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর অল্প সময়েই সে দারুণ উন্নতি করে।’

‘একটি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কিছু পুরস্কারও পেয়েছিল। সেই সময়ের কিছু ছবি আমার কাছে ছিল, যা আমি শেয়ার করেছি—কারণ আমি মনে করি, তার সংগ্রাম, দক্ষতা এবং সাফল্যের গল্প মানুষকে জানা উচিত।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মারা গেছেন আলোচিত সেই ‌‘সিরিয়াল কিলার’ সাইকো সম্রাট

জাইমা রহমানের ক্রীড়া প্রতিভা নিয়ে যা জানালেন শৈশবের কোচ

আপডেট টাইম : ১১:০৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক আলোচিত নাম ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও সম্প্রতি আলোচনায় তার শৈশবের এক অনন্য ক্রীড়া প্রতিভা। জাইমা রহমানের সেই প্রতিভা নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ হাকিম।

জাইমা রহমানের ফুটবল প্রেম এবং যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ক্লাব চেলসির বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও।

আলোচনা ধরেই সোমবার চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে কথা বলেন জাইমার শৈশবের কোচ। বর্তমানে কানাডার একটি ফুটবল ক্লাবের প্রধান গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্বরত মোহাম্মদ হাকিম জানিয়েছেন, শৈশবে জাইমা ছিলেন একজন টপ অ্যাথলেট। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে প্রয়োজন তার অবদান।

‘আমি ২০০৩ সালে আইএসজি (ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা)-তে একজন শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং ফুটবল কোচ হিসেবে যোগ দিই। যেহেতু আমি পরে কানাডায় কাজ করেছি, সেখানে ফুটবলকে ‘সকার’ বলা হয়, তাই দুটোই একই অর্থে ব্যবহার করছি।’

‘জাইমা তখন আমাদের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট ছিল। পরবর্তীতে সে গোলকিপার হিসেবে খেলতে শুরু করে। আমরা যখন ইন্টার-স্কুল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতাম—যেখানে আগা খান স্কুল, স্কলাস্টিকা, সানিডেল, সানবিমস, আমেরিকান স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিত—তখন জাইমা ছিল আমাদের দলে। কখনো আমরা তাদের আমন্ত্রণ দিতাম, আবার কখনো আমরা তাদের স্কুলে গিয়ে ম্যাচ খেলতাম।’

‘তখন জাইমা সম্ভবত ক্লাস সিক্সে পড়ত এবং অনূর্ধ্ব-১৪ দলের গোলকিপার ছিল। সে ছিল দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ গোলকিপার। আমার কাছে এখনো কিছু ছবি আছে, যেগুলো আমি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করেছি। কারণ এসব স্মৃতি মনে পড়ে- আমার মনে হয়েছে, তার সম্পর্কে কিছু বলা উচিত।’

‘সে শুধু গোলকিপারই ছিল না—সে পুরো দলকে বুঝত এবং নেতৃত্ব দিত অসাধারণভাবে। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং খুবই ইতিবাচক মানসিকতার। সাঁতারেও সে ছিল অসাধারণ—ব্যাকস্ট্রোক, বাটারফ্লাইসহ সব ধরনের ইভেন্টেই সে সেরা পারফরমারদের একজন ছিল। শুধু ফুটবল নয়, বাস্কেটবল, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড—সব খেলাতেই সে এগিয়ে থাকত, এমনকি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তুলনা করলেও সে সবার সেরা ছিল।’

‘আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য—তার বাবা-মা সবসময় তাকে সমর্থন করতেন। সবসময় আসতে না পারলেও অনেক সময় তারা উপস্থিত থাকতেন এবং তাকে উৎসাহ দিতেন। আইএসজি’র পরিবেশ, জাইমা এবং পুরো দলের সঙ্গে সময়টা ছিল সত্যিই আনন্দময়।’

‘পরে আমি জানতে পারি, জাইমা লন্ডনে চলে যায় এবং সেখানে চেলসির যুব দলে সুযোগ পায়। ইংল্যান্ডে বিশাল স্কাউটিং নেটওয়ার্ক রয়েছে—বিশেষ করে ১৩-১৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের ওপর তাদের নজর বেশি থাকে। স্কুল গেম, লোকাল লিগ, সানডে লিগ কিংবা ছোট ছোট একাডেমি—যেখানেই প্রতিভা দেখা যায়, তারা দ্রুত সেটি খুঁজে বের করে।’

‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশে বিশেষ করে কানাডার মতো দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এই পর্যায়ে সন্তানদের এগিয়ে নেয়া সহজ নয়। জাইমার মতো প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় একাডেমিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আইএসজি-তে আমি যখন তাকে গোলকিপার হিসেবে কোচিং করাতাম, তখন তার উচ্চতা, নমনীয়তা, নেতৃত্বগুণ—সবকিছুই ছিল অসাধারণ, বিশেষ করে এত কম বয়সে।’

‘এখন আমি উপলব্ধি করি, বাংলাদেশে জাইমার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা উচিত। বাংলাদেশের নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে জাইমার মতো খেলোয়াড়দের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘জাইমা সম্পর্কে একটি বিষয় বিশেষভাবে বলব—সে অত্যন্ত বিনয়ী ছিল। তার পরিবার যে এত প্রভাবশালী, সেটা কখনো তার আচরণে বোঝা যেত না। আমি তাকে সবসময় একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেছি এবং সেভাবেই আচরণ করেছি। তবে তার দক্ষতা ছিল অসাধারণ—খেলাধুলার প্রায় সব ক্ষেত্রেই সে সবার শীর্ষে ছিল।’

‘সে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী ছিল। পিই ক্লাসে বাস্কেটবল, সাঁতার, হকি—সব খেলাতেই অংশ নিত, কিন্তু স্কুলের পর ফুটবলেই বেশি সময় দিত। গোলকিপার হিসেবে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর অল্প সময়েই সে দারুণ উন্নতি করে।’

‘একটি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কিছু পুরস্কারও পেয়েছিল। সেই সময়ের কিছু ছবি আমার কাছে ছিল, যা আমি শেয়ার করেছি—কারণ আমি মনে করি, তার সংগ্রাম, দক্ষতা এবং সাফল্যের গল্প মানুষকে জানা উচিত।’