ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

জ্বালানিতে বড় স্বস্তি, বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • ৪৪ বার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এবার বাজারে আসতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা।

 

তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’

অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।

এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো। ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তেল কিনতে যাচ্ছে যেসব দেশ

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা।

গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে।চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।

কেপলার জানায়, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল।

অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

আমদানিতে যে জটিলতা

তবে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কিছু পূর্ববর্তী ক্রেতা ইরানি তেল কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল বলে দুটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ইরানি তেলের বড় একটি অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

জ্বালানিতে বড় স্বস্তি, বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল

আপডেট টাইম : ০৬:২০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এবার বাজারে আসতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল।

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা।

 

তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’

অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।

এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো। ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে।

তেল কিনতে যাচ্ছে যেসব দেশ

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা।

গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে।চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।

কেপলার জানায়, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল।

অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে।ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

আমদানিতে যে জটিলতা

তবে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কিছু পূর্ববর্তী ক্রেতা ইরানি তেল কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল বলে দুটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ইরানি তেলের বড় একটি অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।