মোহাম্মদ জাকির হোসাইনঃ নতুন সরকারকে ঘিরে দেশের ব্যবসায়ী মহলে বাড়ছে আশাবাদ। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা গেলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে—এমনটাই মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এখন প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ‘ইটিভি বিজনেস’ টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে খান ব্রাদার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান বলেন, ব্যবসার বর্তমান মন্দাভাব কাটাতে হলে দ্রুত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, নীতি সহায়তা ও বাজারে আস্থার ঘাটতি দূর করা গেলে শিল্প ও বাণিজ্যে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।
তিনি বিশেষভাবে তিনটি খাতে সরকারের মনোযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন—নীতিগত ধারাবাহিকতা, জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। তোফায়েলের ভাষায়, “এই তিনটি খাত স্থিতিশীল হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দ্রুত ফিরবে এবং উৎপাদন চক্র স্বাভাবিক হবে।
বিজনেস বিশ্লেষণ:
আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে ব্যবসা খাতের প্রধান সংকট হলো আস্থার ঘাটতি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং ঋণপ্রবাহে অনিশ্চয়তা—এই তিন চাপ শিল্পখাতের সম্প্রসারণকে ধীর করেছে। ফলে নতুন সরকারের জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে বাজারে ‘পলিসি ক্ল্যারিটি’ দেওয়া।
বিশ্লেষণে দেখা যায়—
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভোক্তা চাহিদা বাড়বে
ডলার বাজার স্থিতিশীল হলে আমদানি ব্যয় কমবে
ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ফিরলে শিল্পঋণ প্রবাহ বাড়বে
জ্বালানি নিশ্চয়তা পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমবে
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা যদি দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বাজারে ইতিবাচক মনস্তত্ত্ব তৈরি হবে—যা বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা,
তবে সময় লাগবে শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ বলছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন জানালা খুলতে পারে। তবে অর্থনীতির পূর্ণ গতি ফিরে পেতে সময় লাগবে—এমন সতর্ক বার্তাও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার—বিশেষ করে রাজস্ব ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত এবং জ্বালানি পরিকল্পনায়—টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দেবে।
ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশা:
সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ী সমাজ নতুন সরকারের কাছে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার, নীতিগত পূর্বানুমেয়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে। তাদের বিশ্বাস, সুসমন্বিত নীতি সহায়তা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি আবারও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে পারবে।
Reporter Name 



















