ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ চলছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম সংসদ থেকে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বাড়ল দেশের রিজার্ভ দায়িত্বের বাইরে কেউ যেন মন্তব্য না করে : প্রধানমন্ত্রী সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই যুদ্ধের মধ্যেই সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার সবার আগে : ডিএসসিসি প্রশাসক প্রথম অধিবেশন ঘিরে অতিথিদের প্রবেশ ও গাড়ি পার্কিং নির্দেশনা ইরাকের মাটির নীচে ইরানের ‘মিসাইল সিটি’

অগোছালো শিক্ষার মশাল উঠবে কার হাতে, নতুন সরকারের শপথের প্রাক্কালে শিক্ষামন্ত্রী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৯ বার

Oplus_16908288

তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সংসদ সদস্যদের শপথের কয়েক ঘণ্টা পরই শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। আর এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—দিশাহীন, অগোছালো ও সংকটাপন্ন শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে?

সংকটে শিক্ষাতরী:

জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট, বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আর যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমের অভাবে দেশের শিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেখানে দক্ষতা ও উদ্ভাবন নির্ধারণ করছে ভবিষ্যৎ, সেখানে এখনো ডিগ্রিনির্ভর ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বোঝা বইছে শিক্ষার্থীরা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও দক্ষতার অভাবে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদা ও শিক্ষার পাঠ্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য বেকারত্ব বাড়াচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায়ও রয়েছে বৈষম্যের প্রকট চিত্র। সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা ও এনজিও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের পৃথক ধারায় শিশুরা শুরুতেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে। প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের কাছে শিক্ষা যেখানে উপবৃত্তির প্রত্যাশা, উচ্চবিত্তের কাছে তা প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধার প্রতিযোগিতা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা UNICEF ও Transparency International Bangladesh একাধিক প্রতিবেদনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষায় ‘শিখনক্ষতি’র ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে।
কে হচ্ছেন শিক্ষার অভিভাবক?
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—

১. ড. ওসমান ফারুক

কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা প্রশাসনে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, অস্থির শিক্ষা খাতে স্থিতিশীলতা আনতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন—সেই বিবেচনায় তিনি শক্ত অবস্থানে।

২. ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন

চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষা খাতে সংস্কারমুখী অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। অতীতে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেকেই তাকে সম্ভাব্য ‘রিফর্মার’ হিসেবে দেখছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা:

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় হিসেবেই থাকবে, নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একীভূত হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে কয়েকটি নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন—

নুরুল হক নূর — পটুয়াখালী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।
সাঈদ আল নোমান — চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ সংসদ সদস্য।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতা:

শিক্ষা খাত এখন সংস্কারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। নতুন সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে—শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈষম্যহীন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
এখন সবার দৃষ্টি শপথের মঞ্চে—অগোছালো শিক্ষার মশাল কার হাতে উঠছে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মির্জা ফখরুল

অগোছালো শিক্ষার মশাল উঠবে কার হাতে, নতুন সরকারের শপথের প্রাক্কালে শিক্ষামন্ত্রী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

আপডেট টাইম : ০১:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সংসদ সদস্যদের শপথের কয়েক ঘণ্টা পরই শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। আর এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—দিশাহীন, অগোছালো ও সংকটাপন্ন শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে?

সংকটে শিক্ষাতরী:

জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট, বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আর যুগোপযোগী পাঠ্যক্রমের অভাবে দেশের শিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যেখানে দক্ষতা ও উদ্ভাবন নির্ধারণ করছে ভবিষ্যৎ, সেখানে এখনো ডিগ্রিনির্ভর ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বোঝা বইছে শিক্ষার্থীরা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও দক্ষতার অভাবে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদা ও শিক্ষার পাঠ্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য বেকারত্ব বাড়াচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায়ও রয়েছে বৈষম্যের প্রকট চিত্র। সরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা ও এনজিও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের পৃথক ধারায় শিশুরা শুরুতেই বিভক্ত হয়ে পড়ছে। প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের কাছে শিক্ষা যেখানে উপবৃত্তির প্রত্যাশা, উচ্চবিত্তের কাছে তা প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধার প্রতিযোগিতা।

আন্তর্জাতিক সংস্থা UNICEF ও Transparency International Bangladesh একাধিক প্রতিবেদনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিক্ষায় ‘শিখনক্ষতি’র ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে।
কে হচ্ছেন শিক্ষার অভিভাবক?
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—

১. ড. ওসমান ফারুক

কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা প্রশাসনে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, অস্থির শিক্ষা খাতে স্থিতিশীলতা আনতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন—সেই বিবেচনায় তিনি শক্ত অবস্থানে।

২. ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন

চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষা খাতে সংস্কারমুখী অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। অতীতে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেকেই তাকে সম্ভাব্য ‘রিফর্মার’ হিসেবে দেখছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা:

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় হিসেবেই থাকবে, নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একীভূত হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে কয়েকটি নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন—

নুরুল হক নূর — পটুয়াখালী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।
সাঈদ আল নোমান — চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ সংসদ সদস্য।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতা:

শিক্ষা খাত এখন সংস্কারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। শুধু মন্ত্রী পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। নতুন সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে—শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বৈষম্যহীন মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
এখন সবার দৃষ্টি শপথের মঞ্চে—অগোছালো শিক্ষার মশাল কার হাতে উঠছে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।