ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির সাত বিদ্রোহী জয়ী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। তাঁরা সবাই বিএনপির নেতা ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ কারণে তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে ভোট বাতিল করা হয়। এ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে ২১২ আসন। আর জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো পেয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিব। তাঁর চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র আবদুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমদ। তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। এখানে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সালমান ওমর। প্রার্থী হওয়ায় দল তাঁকে বহিষ্কার করে। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল আহাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল বহিষ্কার করে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির সাত বিদ্রোহী জয়ী

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন। তাঁরা সবাই বিএনপির নেতা ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ কারণে তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে ভোট বাতিল করা হয়। এ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে ২১২ আসন। আর জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো পেয়েছে ৭৭টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জুনায়েদ আল হাবিব। তাঁর চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এবার তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। তিনি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র আবদুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হান্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৫৫। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম ওরফে শাওন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তিনি উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। তাঁর নিকটতম প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী রেদোয়ান আহমদ। তিনি পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। এখানে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সালমান ওমর। প্রার্থী হওয়ায় দল তাঁকে বহিষ্কার করে। দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল আহাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ কে এম কামরুজ্জামান। রেজয়ানুল হক বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল বহিষ্কার করে।