ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’

পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশই ১১ দেশে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩ বার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে মাত্র ১১টি দেশ। ২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বছরে এ ১১ দেশে এককভাবে ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি যেমন বড় বাজারনির্ভরতার প্রমাণ, তেমন ঝুঁকি কমাতে দ্রুত নতুন বাজার তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১ দেশেই গেছে ৩ হাজার ১০৩ কোটি ডলারের পণ্য, যা মোট রপ্তানির ৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। দেশভিত্তিক রপ্তানির চিত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৭৫৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এরপর জার্মানিতে ৪৬৭ কোটি, যুক্তরাজ্যে ৪৪০ কোটি এবং স্পেনে ৩৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে ২১১ কোটি, ফ্রান্সে ২০৪ কোটি, ইতালিতে ১৫০ কোটি, পোল্যান্ডে ১৭৭ কোটি, কানাডায় ১৩৩ কোটি এবং জাপানে ১১৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ডেনমার্কে রপ্তানি হয়েছে ৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের। এ ১১ দেশের মধ্যে ১০টিই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বা প্রচলিত বাজার-যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাজ্য ও কানাডা। কেবল জাপানকে অপ্রচলিত (নন-ট্র্যাডিশনাল) বাজার হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ রপ্তানির বড় অংশ এখনো মূলত পুরোনো বাজারগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, এত উচ্চমাত্রার বাজার কেন্দ্রীকরণ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো একটি বড় অর্থনীতিতে মন্দা, বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন, শুল্ক বৃদ্ধি বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সরাসরি চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কসুবিধা কমে গেলে এ নির্ভরতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের মতে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতি এবং পূর্ব এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে কৌশলগতভাবে প্রবেশ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সার্বিকভাবে ১১ দেশের ওপর প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানিনির্ভরতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শক্তি যেমন তুলে ধরে, তেমন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাজার বহুমুখীকরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নিকলী-বাজিতপুরের সাবেক ইউএনও সোহানা নাসরিন এবার কিশোরগঞ্জের ডিসি

পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশই ১১ দেশে

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে মাত্র ১১টি দেশ। ২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার বছরে এ ১১ দেশে এককভাবে ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি যেমন বড় বাজারনির্ভরতার প্রমাণ, তেমন ঝুঁকি কমাতে দ্রুত নতুন বাজার তৈরির প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১১ দেশেই গেছে ৩ হাজার ১০৩ কোটি ডলারের পণ্য, যা মোট রপ্তানির ৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। দেশভিত্তিক রপ্তানির চিত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ৭৫৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এরপর জার্মানিতে ৪৬৭ কোটি, যুক্তরাজ্যে ৪৪০ কোটি এবং স্পেনে ৩৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে ২১১ কোটি, ফ্রান্সে ২০৪ কোটি, ইতালিতে ১৫০ কোটি, পোল্যান্ডে ১৭৭ কোটি, কানাডায় ১৩৩ কোটি এবং জাপানে ১১৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ডেনমার্কে রপ্তানি হয়েছে ৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের। এ ১১ দেশের মধ্যে ১০টিই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বা প্রচলিত বাজার-যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাজ্য ও কানাডা। কেবল জাপানকে অপ্রচলিত (নন-ট্র্যাডিশনাল) বাজার হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ রপ্তানির বড় অংশ এখনো মূলত পুরোনো বাজারগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, এত উচ্চমাত্রার বাজার কেন্দ্রীকরণ ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো একটি বড় অর্থনীতিতে মন্দা, বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন, শুল্ক বৃদ্ধি বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সরাসরি চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কসুবিধা কমে গেলে এ নির্ভরতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের মতে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতি এবং পূর্ব এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে কৌশলগতভাবে প্রবেশ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সার্বিকভাবে ১১ দেশের ওপর প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানিনির্ভরতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শক্তি যেমন তুলে ধরে, তেমন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাজার বহুমুখীকরণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে।’