আলিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমে গোপনে ও পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন আনার অভিযোগ তুলে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, আলিয়া মাদরাসা ৮ম ও ৯ম শ্রেণির আকাইদ ও ফিকহ বিষয়ক পাঠ্যবই থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত ইলমে তরিকত, ইলমে মারিফাত, আল্লাহর ওলিদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য, সুফিয়ানা জীবনের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহ ২০২৬ সালের নতুন বই থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব পরিবর্তন শিক্ষকদের ও সংশ্লিষ্ট আলেম সমাজকে অবগত না করেই করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও জানান, অষ্টম শ্রেণির আকাইদ ও ফিকহ বইয়ের আল-আকাইদ, আল-ফিকহ ও আল-আখলাক অংশের মধ্যে তরিকত ও তাসাউফ সংশ্লিষ্ট আলোচনা বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নবম শ্রেণির বইয়ে পূর্বে থাকা ইসলাম,ইমান ও ইহসান’এই তিনটি পরিচ্ছেদের মধ্যে ইহসান অধ্যায়টি নতুন পাঠ্যবই থেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর অভিযোগ, শুধু তরিকত ও তাসাউফ সংশ্লিষ্ট বিষয় বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের পাঠ্যবইয়ে থাকা মদিনাতুল মুনাওয়ারার ফজিলত এবং আরব বিশ্বের বিভিন্ন পবিত্র স্থানের গুরুত্ব সম্পর্কিত অধ্যায়গুলোও নতুন কারিকুলামে রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
ভিডিও বার্তায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সূক্ষ্মভাবে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লা-মাজহাবি মতাদর্শে দীক্ষিত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ও বিশ্বাসকে দুর্বল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ অরাজনৈতিক মাদ্রাসা শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সহিহ আকিদার যোগ্য আলেমদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে পাঠ্যবই সংশোধন ও পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি।
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর এই বক্তব্য প্রকাশের পর আলিয়া মাদ্রাসার কারিকুলাম পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষক, আলেম ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
Reporter Name 
























