ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

সরকারি চার ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬ বার
বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের মধ্যেই বছর শেষে সরকারি চার ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। নগদ অর্থ আদায় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ও রেমিট্যান্স আয় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। বেড়েছে খেলাপি অর্থের আদায়ও। সব মিলিয়ে নানা কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকারি ব্যাংকগুলো। এদিকে সুশাসন নিশ্চিত হলে ভালো অবস্থানে যাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলে জানিয়েছে ব্যাংকাররা। অন্যদিকে, খেলাপির অর্থ আদায়ে রাজনৈতিক সরকারকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
জানা যায়, পরিকল্পিতভাবেই অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মেকানিজমেই সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে অর্থ সরিয়ে নেয় লোপাটকারীরা। আওয়ামী সরকার পতনের পর যার চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু থমকে না দাঁড়িয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে ব্যাংকগুলোর নতুন পর্ষদ। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের বিদায় বছরের রিপোর্ট বলছে, ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ভাঙা মেরুদণ্ড।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা জমা রেখেছেন ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। প্রবাসীদের আয়েও চমক দেখিয়ে রেমিট্যান্স আয় হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। ২ হাজার কোটি টাকা কমে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি, রেমিট্যান্স আয় ১ হাজার ৮৪২ কোটি ও পুনঃতফসিল করেছে ৭৫০ কোটি টাকা।
এক বছরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণ ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৬৫ শতাংশে। ক্যাশ রিকভারি ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে চার ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহকারী ১৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করেছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি ৯১৫ কোটি আর ব্যাংকটিতে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭ হাজার ৫৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়া, রূপালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ৬ শতাংশ কমে বর্তমানে মোট ঋণের ৩৬ শতাংশে। আর রেমিট্যান্সে এসেছে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী জানান, খেলাপি অর্থ আদায়ের হার বাড়ায় মার্চের মধ্যে আশান্বিত পর্যায়ে নামবে মন্দ ঋণের পরিমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ জানান, ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি সংকটে রেখেছে হেভিওয়েট খেলাপিদের মাধ্যমে বেহাত হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। যা রাজনৈতিক সরকারের সহযোগিতা ছাড়া উদ্ধার সম্ভব নয়। আর্থিক খাতের দীর্ঘ পথচলা সরকারি ব্যাংকগুলোর। দেশের যেকোনো সংকট বা দুর্যোগে নানাভাবে ভূমিকা রাখে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই বৃহৎ স্বার্থে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন ভাবমূর্তি ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

সরকারি চার ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ১১:৪০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের মধ্যেই বছর শেষে সরকারি চার ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। নগদ অর্থ আদায় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ও রেমিট্যান্স আয় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। বেড়েছে খেলাপি অর্থের আদায়ও। সব মিলিয়ে নানা কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকারি ব্যাংকগুলো। এদিকে সুশাসন নিশ্চিত হলে ভালো অবস্থানে যাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলে জানিয়েছে ব্যাংকাররা। অন্যদিকে, খেলাপির অর্থ আদায়ে রাজনৈতিক সরকারকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
জানা যায়, পরিকল্পিতভাবেই অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মেকানিজমেই সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে অর্থ সরিয়ে নেয় লোপাটকারীরা। আওয়ামী সরকার পতনের পর যার চিহ্ন স্পষ্ট হতে শুরু করে। কিন্তু থমকে না দাঁড়িয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে ব্যাংকগুলোর নতুন পর্ষদ। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের বিদায় বছরের রিপোর্ট বলছে, ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ভাঙা মেরুদণ্ড।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা জমা রেখেছেন ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা। প্রবাসীদের আয়েও চমক দেখিয়ে রেমিট্যান্স আয় হয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। ২ হাজার কোটি টাকা কমে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। ক্যাশ রিকভারি হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি, রেমিট্যান্স আয় ১ হাজার ৮৪২ কোটি ও পুনঃতফসিল করেছে ৭৫০ কোটি টাকা।
এক বছরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণ ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮.৬৫ শতাংশে। ক্যাশ রিকভারি ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে চার ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহকারী ১৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করেছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ক্যাশ রিকভারি ৯১৫ কোটি আর ব্যাংকটিতে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭ হাজার ৫৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়া, রূপালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ৬ শতাংশ কমে বর্তমানে মোট ঋণের ৩৬ শতাংশে। আর রেমিট্যান্সে এসেছে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী জানান, খেলাপি অর্থ আদায়ের হার বাড়ায় মার্চের মধ্যে আশান্বিত পর্যায়ে নামবে মন্দ ঋণের পরিমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ জানান, ব্যাংকগুলোকে সবচেয়ে বেশি সংকটে রেখেছে হেভিওয়েট খেলাপিদের মাধ্যমে বেহাত হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। যা রাজনৈতিক সরকারের সহযোগিতা ছাড়া উদ্ধার সম্ভব নয়। আর্থিক খাতের দীর্ঘ পথচলা সরকারি ব্যাংকগুলোর। দেশের যেকোনো সংকট বা দুর্যোগে নানাভাবে ভূমিকা রাখে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই বৃহৎ স্বার্থে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালনায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন ভাবমূর্তি ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।