ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বিগত ৩ নির্বাচনে প্রশাসন, পুলিশ, ইসি ও গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের দামে ইতিহাস, ভরি কত মোস্তাফিজ বিশ্বকাপ দলে থাকলে বাড়বে নিরাপত্তা ঝুঁকি: আইসিসির চিঠি কোটিপতি তাহেরীর স্বর্ণ ৩১ ভরি, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই কথিত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে সহিংসতা করছে: মির্জা আব্বাস ইসিতে আপিল শুনানি: তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৪১ জন বিক্ষোভকারীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চরিত্র একই ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল কার্ড দিচ্ছে সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা অবশেষে সুখবর পেলেন মেহজাবীন

নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল হচ্ছে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘোষণা হচ্ছে না নতুন পে-স্কেল। তবে পে-স্কেলের ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করে দেবে এ সরকার। এ সংক্রান্ত কমিশনের সর্বশেষ সভায় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। কমিশনের হাতে সময় খুব কম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তাই দ্রুততার সঙ্গে সুপারিশগুলো তৈরি করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি কাঠানো চূড়ান্ত করে বিদায় নেবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করবে। আগামী ২১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত।

জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে পে-কমিশন। এই প্রস্তাব তিনটির যে কোনো একটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সংকটকে আমলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর জন্য একটি কমিশন গঠন করা হলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হতে যাচ্ছে। কেন না, আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। তবে পে-কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী একটি বেতন কাঠামোর সুপারিশ মালা চূড়ান্ত করবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে। অবশ্য এই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা ও বাস্তবায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারি চাকুরেরা নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য হচ্ছেন। এদিকে কমিশনের এক সূত্র জানায়, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোতে ‘১:৮, ১:১০, ১:১২ ও অন্যান্য’ অপশন রাখা হয়েছে। এই অনুপাতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্কেলের মূল বেতন বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মজীবীর বেতন যদি এক টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। আরও পরিষ্কারভাবে বললে, ১০০ টাকা বেতন ধরে ১:৮ অনুপাতে

সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেডের বেতন ১০০ হলে সর্বোচ্চ হবে ৮০০ টাকা। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে-স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান। নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেডের সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বর্তমান বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো নতুন কমিশনে দূর করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।

সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার নিয়ম থাকলেও বিগত সরকার তা রহিত করে দেয়। এর ফলে কর্মচারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি চাকুরেরা মনে করেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মচারীরা মনে করছেন, ২০২০ এবং ২০২৫ সালের পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর করা হলে তাদের বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা উচিত। অবশ্য ২০১৫ সালে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে কমিশন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম

নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল হচ্ছে না

আপডেট টাইম : ১০:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘোষণা হচ্ছে না নতুন পে-স্কেল। তবে পে-স্কেলের ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করে দেবে এ সরকার। এ সংক্রান্ত কমিশনের সর্বশেষ সভায় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। কমিশনের হাতে সময় খুব কম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তাই দ্রুততার সঙ্গে সুপারিশগুলো তৈরি করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি কাঠানো চূড়ান্ত করে বিদায় নেবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করবে। আগামী ২১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত।

জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে পে-কমিশন। এই প্রস্তাব তিনটির যে কোনো একটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক সংকটকে আমলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর জন্য একটি কমিশন গঠন করা হলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হতে যাচ্ছে। কেন না, আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। তবে পে-কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী একটি বেতন কাঠামোর সুপারিশ মালা চূড়ান্ত করবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে। অবশ্য এই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা ও বাস্তবায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারি চাকুরেরা নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য হচ্ছেন। এদিকে কমিশনের এক সূত্র জানায়, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোতে ‘১:৮, ১:১০, ১:১২ ও অন্যান্য’ অপশন রাখা হয়েছে। এই অনুপাতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ স্কেলের মূল বেতন বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মজীবীর বেতন যদি এক টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮ টাকা। আরও পরিষ্কারভাবে বললে, ১০০ টাকা বেতন ধরে ১:৮ অনুপাতে

সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেডের বেতন ১০০ হলে সর্বোচ্চ হবে ৮০০ টাকা। সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন গ্রেড রয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পে-স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান। নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেডের সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বর্তমান বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান বৈষম্যগুলো নতুন কমিশনে দূর করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।

সাধারণত প্রতি ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার নিয়ম থাকলেও বিগত সরকার তা রহিত করে দেয়। এর ফলে কর্মচারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি চাকুরেরা মনে করেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মচারীরা মনে করছেন, ২০২০ এবং ২০২৫ সালের পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর করা হলে তাদের বেতন প্রায় ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা উচিত। অবশ্য ২০১৫ সালে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করবে কমিশন।