ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান; পরমুহূর্তেই ইসরায়েলে অপ্রতিরোধ্য ক্লাস্টার বোমা হামলা, চাকুরীচ্যুত হল মার্কিন সেনাপ্রধান ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে সাহায্যের ধুম ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকের কান্না

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫ বার
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মঙ্গলবার ( ৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশ এই ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
ভিসা বন্ড কী?
ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে জমা রাখতে বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অবস্থানের সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো পর্যটক, শিক্ষার্থী ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটি ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়।
বিশ্বের অনেক দেশ ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চাইলেও ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড ব্যবস্থা খুব সীমিত। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
কত টাকা বন্ড দিতে হতে পারে
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা সাধারণ বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে তাদের ওপর ভিসা বন্ড আরোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ তিনটি ধাপে নির্ধারিত হবে-৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার এবং ১৫ হাজার ডলার।
আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।
কীভাবে জমা দিতে হবে বন্ড
বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পে.গভর্নমেন্ট–এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোনো আবেদনকারীকে আগেভাগে অর্থ জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন চালু হলো ভিসা বন্ড
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বন্ড কি ফেরতযোগ্য?
ভিসা বন্ড ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে আবেদনকারী তার বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে। তবে কেউ যদি ভিসার মেয়াদের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন আশ্রয় বা রাজনৈতিক আশ্রয়), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এগুলো হলো-
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে), ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)। এই বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।
তালিকায় আর কোন দেশ আছে
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখে এই নীতি কার্যকর হচ্ছে।
নতুন এই নীতির ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মঙ্গলবার ( ৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশ এই ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
ভিসা বন্ড কী?
ভিসা বন্ড হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে জমা রাখতে বলা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অবস্থানের সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো পর্যটক, শিক্ষার্থী ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটি ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়।
বিশ্বের অনেক দেশ ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চাইলেও ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড ব্যবস্থা খুব সীমিত। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
কত টাকা বন্ড দিতে হতে পারে
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা সাধারণ বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে তাদের ওপর ভিসা বন্ড আরোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ তিনটি ধাপে নির্ধারিত হবে-৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার এবং ১৫ হাজার ডলার।
আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।
কীভাবে জমা দিতে হবে বন্ড
বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পে.গভর্নমেন্ট–এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোনো আবেদনকারীকে আগেভাগে অর্থ জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন চালু হলো ভিসা বন্ড
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বন্ড কি ফেরতযোগ্য?
ভিসা বন্ড ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে আবেদনকারী তার বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে। তবে কেউ যদি ভিসার মেয়াদের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন আশ্রয় বা রাজনৈতিক আশ্রয়), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এগুলো হলো-
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (বিওস), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জেএফকে), ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (আইএডি)। এই বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।
তালিকায় আর কোন দেশ আছে
বাংলাদেশের পাশাপাশি এই ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখে এই নীতি কার্যকর হচ্ছে।
নতুন এই নীতির ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।