ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল : ডা. জিয়াউল হক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭ বার
ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তিনি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ অবস্থায় আছেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়মিত ডায়লাসিস দেওয়া হচ্ছে। ডায়লাসিস বন্ধ হলেই শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যের অনেক জটিলতা থাকায় বয়সের কারণে একসঙ্গে সব চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। আমি হাসপতালে যাচ্ছি। উনাকে রেগুলোর ডায়লাইসিস দিতে হচ্ছে। বন্ধ করলে অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
বোর্ডের আরেক সদস্য ডা. জাফর ইকবাল বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবস্থা বলতে গেলে ‘ক্রিটিক্যালি ইল’। ভালো বলা যাচ্ছে না। সবার কাছে দোয়া চাই। আমরা ফারদার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর রেজাল্ট আসলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনও তিনি সিসিইউতেই চিকিৎসাধীন আছেন।
মেডিকেল বোর্ডের আরেক চিকিৎসক বলেন, বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এখন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা৷ খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এই বয়সে পুরনো সব অসুখ সামনে এসেছে। কিছু রোগের যথা সময়ে চিকিৎসা পাননি তিনি। বয়সের কারণে এখন সব জটিলতা থেকে সেরে উঠা কঠিন হচ্ছে৷ এই ভালো তো এই খারাপ হচ্ছে শারিরীক অবস্থা। তাকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষ করা হচ্ছে।
১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে ফেরার পর মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। শনিবার ও রোববার দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে আবারও মাকে দেখতে যান তিনি। কয়েক ঘণ্টার মায়ের শয্যাপাশে অবস্থান করে মধ্য রাতে তিনি হাসপাতাল ছাড়ছেন। অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে মিনিট শনিবার বিশেক মোনাজাতও করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে মায়ের সুস্থতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন।
জানা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শে গুলশানের বাসা থেকে প্রতিদিন খাবার পাঠানো হচ্ছে। সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এবং স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এভারকেয়ার হাসপাতালের খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সভা শেষে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, তার শারীরিক অবস্থা এখনও জটিল। আগের মতই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
ডা. জাহিদ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল। এ কারণে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। এখন আইসিউতে চিকিৎসাধীন আছেন। কাজেই স্বাভাবিকভাবে ওনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। উনার অবস্থা জটিল এবং অত্যন্ত একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বসুন্ধরার এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। যেগুলোর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন। এবার, নিজ বাস ভবনে অবস্থানকালে তার শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি-পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষায় তার ফসফস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গত ২৭ নভেম্বর তাকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছেন।
প্রথমবারের মতো মনোনয়নপত্রে টিপসই দিলেন খালেদা জিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)। গুরুতর অসুস্থ থাকায় প্রথমবারের মতো এবার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের বদলে টিপসই দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জানা যায়, খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল : ডা. জিয়াউল হক

আপডেট টাইম : ১০:১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তিনি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ অবস্থায় আছেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়মিত ডায়লাসিস দেওয়া হচ্ছে। ডায়লাসিস বন্ধ হলেই শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যের অনেক জটিলতা থাকায় বয়সের কারণে একসঙ্গে সব চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। আমি হাসপতালে যাচ্ছি। উনাকে রেগুলোর ডায়লাইসিস দিতে হচ্ছে। বন্ধ করলে অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
বোর্ডের আরেক সদস্য ডা. জাফর ইকবাল বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) অবস্থা বলতে গেলে ‘ক্রিটিক্যালি ইল’। ভালো বলা যাচ্ছে না। সবার কাছে দোয়া চাই। আমরা ফারদার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছি। সেগুলোর রেজাল্ট আসলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনও তিনি সিসিইউতেই চিকিৎসাধীন আছেন।
মেডিকেল বোর্ডের আরেক চিকিৎসক বলেন, বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এখন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা৷ খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। এই বয়সে পুরনো সব অসুখ সামনে এসেছে। কিছু রোগের যথা সময়ে চিকিৎসা পাননি তিনি। বয়সের কারণে এখন সব জটিলতা থেকে সেরে উঠা কঠিন হচ্ছে৷ এই ভালো তো এই খারাপ হচ্ছে শারিরীক অবস্থা। তাকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষ করা হচ্ছে।
১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে ফেরার পর মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। শনিবার ও রোববার দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে আবারও মাকে দেখতে যান তিনি। কয়েক ঘণ্টার মায়ের শয্যাপাশে অবস্থান করে মধ্য রাতে তিনি হাসপাতাল ছাড়ছেন। অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে মিনিট শনিবার বিশেক মোনাজাতও করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে মায়ের সুস্থতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন।
জানা গেছে, এক মাসের বেশি সময় ধরে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শে গুলশানের বাসা থেকে প্রতিদিন খাবার পাঠানো হচ্ছে। সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন পুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এবং স্টাফ রূপা আক্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সার্বক্ষণিক পাশে আছেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এভারকেয়ার হাসপাতালের খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সভা শেষে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, তার শারীরিক অবস্থা এখনও জটিল। আগের মতই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
ডা. জাহিদ বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল। এ কারণে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। এখন আইসিউতে চিকিৎসাধীন আছেন। কাজেই স্বাভাবিকভাবে ওনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এ কথা বলা যাবে না। উনার অবস্থা জটিল এবং অত্যন্ত একটা সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছে। গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বসুন্ধরার এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। যেগুলোর চিকিৎসা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন। এবার, নিজ বাস ভবনে অবস্থানকালে তার শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি-পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষায় তার ফসফস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গত ২৭ নভেম্বর তাকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দেশি-বিদেশি ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছেন।
প্রথমবারের মতো মনোনয়নপত্রে টিপসই দিলেন খালেদা জিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)। গুরুতর অসুস্থ থাকায় প্রথমবারের মতো এবার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের বদলে টিপসই দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জানা যায়, খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।