থাইল্যান্ডের রানী সুতিদা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান গেমসে (এসইএ গেমস) নৌকাবাইচে স্বর্ণপদক জিতেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিজ দেশ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই আঞ্চলিক ক্রীড়া আসরে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন।
মিশ্র কিলবোট এসএসএল৪৭ বিভাগে ৪৭ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি পালতোলা নৌকায় নয়জন সহকর্মীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন রানী সুতিদা। ৪৭ বছর বয়সী রানী ছিলেন দলের ট্যাকটিশিয়ান ও হেল্মসওম্যান। পাট্টায়ার উপকূলীয় জলরাশিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারকে পেছনে ফেলে স্বর্ণ জেতে থাই দল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক তুলে দেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা বজিরালংকর্ন। বিজয়ীদের মধ্যে তাঁর স্ত্রী রানী সুতিদাও ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাজা বজিরালংকর্নের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুতিদা।
এর আগে কালো রঙের মিলিত নৌকাবাইচ পোশাকে নিজেদের নৌকাতেই উল্লাসে মেতে ওঠে থাই দল। এ সময় একজন নাবিক থাইল্যান্ডের জাতীয় পতাকা নাড়ান।
যোগাযোগবিদ্যায় স্নাতক রানী সুতিদা একসময় থাই এয়ারওয়েজে কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করেছেন। পরে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। খেলাধুলায় আগ্রহী এই রানী চলতি মাসে ব্যাংককে আয়োজিত একটি হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন। ওই দৌড়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেনিয়ার কিংবদন্তি দৌড়বিদ এলিউড কিপচোগে।
গত ৯ ডিসেম্বর ব্যাংককে এসইএ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রানী সুতিদা।
নৌকাবাইচে স্বর্ণ জেতা থাই রাজপরিবারের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এসইএ গেমসের চতুর্থ আসরে রাজা বজিরালংকর্নের পিতা প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুল্যাদেজ নৌকাবাইচে অংশ নেন। নিজের তৈরি করা নৌকায় ‘ওকে’ শ্রেণিতে প্রতিযোগিতা করে তিনি কন্যা প্রিন্সেস উবোলরতানা রাজাকন্যার সঙ্গে যৌথভাবে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন।
চলতি এসইএ গেমস শনিবার শেষ হওয়ার কথা। পদক তালিকায় স্বাগতিক থাইল্যান্ড রয়েছে শীর্ষে, এরপর ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম। শুরুতে ১১টি দেশ অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা শঙ্কায় কম্বোডিয়া শেষ মুহূর্তে তাদের ক্রীড়াবিদদের প্রত্যাহার করে নেয়।
Reporter Name 

























