বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই নাজমুল হোসেন শান্ত প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ দলকে। তাই ক্রিকেটের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে জীবন। ২২ গজের বাইরে তার জীবনটা কেমন, সেটাই জানতে চেয়েছেন দেশ রূপান্তর-এর সামীউর রহমান।
প্রশ্ন: অনূর্ধ-১৯ দল থেকে জাতীয় দল, খেলার সুবাদে দীর্ঘদিনই ক্যাম্পে বা হোটেলে থাকতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রুমমেট হিসেবে পেয়েছেন কাকে? সবচেয়ে মজার অভিজ্ঞতা কার সঙ্গে রুম ভাগাভাগি করে?
নাজমুল হোসেন শান্ত: মিরাজ। মিরাজের সঙ্গে বেশ অনেকদিন থাকার সুযোগ হয়েছে। মোসাদ্দেকের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছে অনেকগুলো ট্যুরে। এই দুজনের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি সুযোগ হয়েছে থাকার। কিছুদিন করে সাইফ (হাসান), জাকির (হাসান) ওদের সঙ্গেও সুযোগ হয়েছে। একেকজন একেক রকম। মোসাদ্দেক খুব মজা করতে পছন্দ করে, ঘুরতে পছন্দ করে, শপিং করতে পছন্দ করে। একটু বাইরে যাওয়া, এই করা, সেই করা… মিরাজও মজা করতে পছন্দ করে তবে মিরাজ একেকদিন একেক রকম। ওর ক্যারেক্টার বোঝা মুশকিল। আমার সুবিধাটা হচ্ছে, আমার রুমে লাইট জ্বালিয়ে রাখা নিয়েও সমস্যা নেই, মিউজিক চললেও সমস্যা নেই, না চললেও সমস্যা নেই। আমি যদি মনে করি এখন ঘুমাব, তাহলে পৃথিবীর কেউ আমাকে আটকায় রাখতে পারবে না, আমি ঘুমায় যাব। আমার রুমমেটদের দিয়ে আমার বা আমাকে নিয়ে তাদের ঘুমের সমস্যা কখনো হয় নাই। তবে যে দুইজনের নাম বললাম, তারা ২ জন ২ রকম চরিত্র।
প্রশ্ন: একটা সিরিজ যখন চলে বা বিদেশ সফরে যখন থাকেন, তখন দেখা যায় দিনের অর্ধেকটা সময় হয়তো চলে যায় খেলা বা অনুশীলনে। বাকি সময়টা হোটেলেই কাটে, নিরাপত্তা ও খ্যাতির বিভ্রাট এড়াতে হয়তো ইচ্ছে করেই বাইরে কম বেরোন। হোটেলে সময়টা কাটে কি করে?
শান্ত: একেক জন একেক রকম। আমি ব্যক্তিগতভাবে রুমে একা থাকতে পছন্দ করি। ঐ সময়টায় বা এখনো যখন ফাঁকা সময় পাই, অনেক সিনেমা দেখি। আমি সিনেমা দেখতে পছন্দ করি, ওয়েব সিরিজও আছে অনেক। বাকি অনেকেই আছে গান শুনতে পছন্দ করে, অনেকে আড্ডা দিতে পছন্দ করে। একেকজন একেক রকম, তবে আমি কিছু সময় সিনেমা দেখে কাটাই, কিছু সময় আড্ডা মেরে কাটাই। আমাদের আড্ডাটাও অবশ্য ক্রিকেট নিয়েই হয়।
প্রশ্ন: আপনার টি-শার্টে মাইকেল জর্ডানের ছবি, ক্রিকেটের বাইরে কি বাস্কেটবল প্রিয় খেলা? কোন খেলাটা বেশি দেখা হয়? অন্য খেলার প্রিয় তারকা?
শান্ত: বিশ্বকাপের সময় ফুটবল দেখা হয়। বাস্কেটবল দেখা হয় না, তবে মাইকেল জর্ডানের ফ্যান বলতে পারেন। ওর ইউটিউবে মাঝে মাঝে ম্যাচগুলো দেখার ইচ্ছা হয়। তখন দেখি। এমনি ফুটবল খুব পছন্দ। খেলতেও ভাল লাগে। বিশ্বকাপ ছাড়া দেখা হয় না কারণ বেশিরভাগ সময়েই অনেক রাতে খেলা হয়। অন্য খেলায় প্রিয় লিওনেল মেসি।
প্রশ্ন: নাফিস ইকবাল (ম্যানেজার) বলছিলেন আপনাকে গাড়ি বদলাতে… আপনি কি খুব গাড়ি প্রিয় মানুষ নাকি? ঘন ঘন গাড়ির মডেল বদলান?
শান্ত: আমি গাড়ি চালাতে খুব একটা পছন্দ করি না, তবে গাড়ির প্রতি আমার অনেক নেশা। তবে বাংলাদেশে এই শখটা না থাকাই ভাল। দূর্ভাগ্যজনক ভাবে আমার এই শখটা আছে। আমি জানি না আল্লাহ যদি কোনদিন সহায় হোন, তাহলে চেষ্টা করব পছন্দ মত একটা গাড়ি কেনার। এখন যেটা আছে সেটা নিয়ে আমি খুশি (হোন্ডা সিভিক), যেটা বললাম যে আমার গাড়ির শখ। ভাল গাড়ি, বড় গাড়ি, বসে অনেক আরাম, এই জিনিসগুলো আমার শখ। শুধু গাড়ির ক্ষেত্রে না, আমি একটু আরামে থাকতে পছন্দ করি। মাঠে যেরকম সবকিছু দিয়ে দেই, মাঠের বাইরে আমি খুবই অলস একজন মানুষ। আমি আরাম প্রিয়। একটু ভাল আরামদায়ক বাসা, একটু ভাল গাড়ি, যে গুলোতে আরামে চলাচল করা যায়। যেহেতু যানজট অনেক বেশি, সব মিলিয়ে এসব আমার পছন্দ। তবে বাংলাদেশে এই ধরণের শখ পূরণ করা কঠিন। না থাকাই ভাল।
প্রশ্ন: কোন স্বপ্নের গাড়ি, যে গাড়িটার মালিক হবার স্বপ্ন দেখেন?
শান্ত: বিএমডাব্লিউ খুব ভাল লাগে। আরেকটা আছে যেটার কথা আমি বলতে চাই না। (বুগাতি?) না, না, এসব না। এসব গাড়ি বাংলাদেশে চালাইলে বলবে ভাল গাড়ি না। এই মুহূর্তে বিএমডাব্লিউ খুবই টপ লিস্টে আছে।
প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। আপনাকে যদি ১০ জন ক্রিকেটারকে বাছাই করার সুযোগ দেয়া হয়, যাদেরকে দলে নিলে আপনি অজেয় একটা দল গড়তে পারবেন। সেই দলে কোন ক্রিকেটারদের নেবেন?
শান্ত: ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস, গ্লেন ম্যাকগ্রা, মুত্তিয়া মুরালিধরণ; এই পাঁচজনকে পেলেই তো খেলা জিতে যাব! উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারা, ওপেনার হিসেবে ম্যাথু হেইডেন না বীরেন্দ শেবাগ। হেইডেনকেই নিলাম আর শচীন টেন্ডুলকার। (টেন্ডুলকার কিন্তু টেস্টে চারে খেলে… ) আপনি বলেছেন আমার পছন্দের দল, আমার পছন্দ মত নিব না! লারা তিনে খেলবে, আমি চারে খেলব। সাঙ্গাকারা পাঁচে খেলবে।পেসার; ওয়াসিম আকরাম, কার্টলি অ্যামব্রোস, একজন স্পিন অলরাউন্ডার নিব। আছেই তো একজন, সাকিব আল হাসান। এই দলে আমি খেলব না, আমি আমাকে নিতে চাই না। এর চেয়ে আমি ম্যানেজার থাকি, আমার জায়গায় ডেল স্টেইনকে নিয়ে নেই। এদের সঙ্গে আমাকে দেখলে মানুষ গালি দিবে, এমনিই অনেক গালি খাই!
Reporter Name 
























