ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৯ বার

শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

‎‎শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, এর জন্য যে পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন তা আমরা দিতে পারিনি। বর্তমান সরকার ‘‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’’ অবস্থায় ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল ও অবসর ভাতা তাদের প্রাপ্য এবং আমরা  তাৎক্ষণিকভাবে দিতে চাই। আগে এ কাজগুলো স্বেচ্ছাচারীভাবে করা হয়েছে। এ কারণে এ টাকা শিক্ষদের সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের হাতে টাকা থাকলে দিতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু যে ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছিল সেই ব্যাংকে টাকা নেই। খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আমাদের চলতে হচ্ছে।’

‎সি আর আবরার বলেন, ‘শিক্ষকরা পথপ্রদর্শক, তারা আলো জ্বালান। মা-বাবা-অভিভাবকরা শিক্ষকদের হাতে সন্তানদের তুলে দেন। তাই শিক্ষা পরিবারের দায়িত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের শুধু অক্ষন জ্ঞান শেখালে হবে না, নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঋদ্ধ করতে পারে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে, সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। যাতে দেশকে, দশকে ও পৃথিবীকে তার কিছু দিতে পার।’

‎শিক্ষক রাজনীতির বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা হওয়ায় কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করেছে তা উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই। আমার আহ্বান থাকবে যারা রাজনীতি করতে চান অবশ্যই রাজনীতি করবেন, কিন্তু শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতি দিয়ে কুলষিত করার কোনো মানে হয় না। আমরা মনে করি, শিক্ষাকেন্দ্রগুলো রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের বড় রকরে ভূমিকা রয়েছে।’

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন একটি গল্পের উদাহরণ টেনে বলেন,  ‘সরকারের ওপর যারা বিশেষ সন্তুষ্ট তাদের দেখাশোনার কাজ দুর্নীতি দমন কমিশনের।  সরকারে ওপর তারা সন্তুষ্ট থাকতে পারে যারা সরকারকে চুষে চুষে খেতে পারে, সরকারের আইন-কানুন দুমড়েমুচড়ে টাকা পয়সা আদায় করতে পারে।’

‎তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বলি, রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি করবেন না। লেজুরবৃত্তিতে লাভ আছে, তবে তাতে সত্যিকারের শিক্ষক হওয়া যায় না। যদি লেজুরবৃত্তি না করেন তাহলে ভালো থাকতে পারবেন। ‘

‎দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা রাজনীতি করেন তাদের যারা শিক্ষক তারা সবাই তো এখানে। শিক্ষকরা রাজনীতিবিদ ছাত্রদের কী ভাষা শেখান? রাজনীতিবিদদের ভাষা অনেক সময় আমাদের বিব্রত করে, আমরা অসন্তুষ্ট হই। এখানেও কেউ কেউ এ জাতীয় ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছেন। জোর গলায় কথা বলে কোনো লাভ হয় না। ভালো গলায়, যত আস্তে ভালো কথা বলা যায়, তাতে কাজ হয়। তাই শিক্ষকদের কাছে আমার আবেদন আপনাদের ভাষাই তো রাজনীতিবিদরা শিখবে। রাজনীতিবিদ ছাত্রদের মুখ থেকে আমরা শিক্ষকদের শেখানো ভাষা শুনতে চাই।’

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাউশি ঢাকা অঞ্চলের  পরিচালক  ফকির মইনুদ্দিন, মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ বি এম আব্দুল হান্নান,  যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান  এ বি এম সাত্তার, অধ্যাপক রিজভী জামান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

এতে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে ‘শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

‎‎শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, এর জন্য যে পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ বিনিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন তা আমরা দিতে পারিনি। বর্তমান সরকার ‘‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’’ অবস্থায় ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল ও অবসর ভাতা তাদের প্রাপ্য এবং আমরা  তাৎক্ষণিকভাবে দিতে চাই। আগে এ কাজগুলো স্বেচ্ছাচারীভাবে করা হয়েছে। এ কারণে এ টাকা শিক্ষদের সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। আমাদের হাতে টাকা থাকলে দিতে সমস্যা ছিল না। কিন্তু যে ব্যাংকে টাকা রাখা হয়েছিল সেই ব্যাংকে টাকা নেই। খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আমাদের চলতে হচ্ছে।’

‎সি আর আবরার বলেন, ‘শিক্ষকরা পথপ্রদর্শক, তারা আলো জ্বালান। মা-বাবা-অভিভাবকরা শিক্ষকদের হাতে সন্তানদের তুলে দেন। তাই শিক্ষা পরিবারের দায়িত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের শুধু অক্ষন জ্ঞান শেখালে হবে না, নৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঋদ্ধ করতে পারে। তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে, সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। যাতে দেশকে, দশকে ও পৃথিবীকে তার কিছু দিতে পার।’

‎শিক্ষক রাজনীতির বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা হওয়ায় কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করেছে তা উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই। আমার আহ্বান থাকবে যারা রাজনীতি করতে চান অবশ্যই রাজনীতি করবেন, কিন্তু শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে রাজনীতি দিয়ে কুলষিত করার কোনো মানে হয় না। আমরা মনে করি, শিক্ষাকেন্দ্রগুলো রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের বড় রকরে ভূমিকা রয়েছে।’

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন একটি গল্পের উদাহরণ টেনে বলেন,  ‘সরকারের ওপর যারা বিশেষ সন্তুষ্ট তাদের দেখাশোনার কাজ দুর্নীতি দমন কমিশনের।  সরকারে ওপর তারা সন্তুষ্ট থাকতে পারে যারা সরকারকে চুষে চুষে খেতে পারে, সরকারের আইন-কানুন দুমড়েমুচড়ে টাকা পয়সা আদায় করতে পারে।’

‎তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বলি, রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি করবেন না। লেজুরবৃত্তিতে লাভ আছে, তবে তাতে সত্যিকারের শিক্ষক হওয়া যায় না। যদি লেজুরবৃত্তি না করেন তাহলে ভালো থাকতে পারবেন। ‘

‎দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা রাজনীতি করেন তাদের যারা শিক্ষক তারা সবাই তো এখানে। শিক্ষকরা রাজনীতিবিদ ছাত্রদের কী ভাষা শেখান? রাজনীতিবিদদের ভাষা অনেক সময় আমাদের বিব্রত করে, আমরা অসন্তুষ্ট হই। এখানেও কেউ কেউ এ জাতীয় ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছেন। জোর গলায় কথা বলে কোনো লাভ হয় না। ভালো গলায়, যত আস্তে ভালো কথা বলা যায়, তাতে কাজ হয়। তাই শিক্ষকদের কাছে আমার আবেদন আপনাদের ভাষাই তো রাজনীতিবিদরা শিখবে। রাজনীতিবিদ ছাত্রদের মুখ থেকে আমরা শিক্ষকদের শেখানো ভাষা শুনতে চাই।’

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাউশি ঢাকা অঞ্চলের  পরিচালক  ফকির মইনুদ্দিন, মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক ফকীর মোহাম্মদ বি এম আব্দুল হান্নান,  যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান  এ বি এম সাত্তার, অধ্যাপক রিজভী জামান, অধ্যাপক কাকলি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

এতে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলা মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নেন।