আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবার কথা বলেছেন তার ফুটবল-জীবনের শেষ পর্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। বুধবার মায়ামির কেসিয়া সেন্টারে আয়োজিত আমেরিকা বিজনেস ফোরাম-এ বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলি এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোসহ রাজনীতি, ক্রীড়া ও অর্থনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মায়ামির মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজের সঙ্গে কথোপকথনে মেসি বলেন, “আমার ক্রীড়া জীবন খুব দীর্ঘ হয়েছে। এখনো চলছে। আগে আমার আশপাশে সবসময় ভরসাযোগ্য মানুষ ছিল যারা সবকিছু দেখত। কিন্তু এখন আমি নিজেই জানতে আগ্রহী হচ্ছি কীভাবে বিষয়গুলো চলে, কী করা যায়। ফুটবলেরও মেয়াদ আছে, একসময় এটা শেষ হয়। তাই আমি দেখতে চাইছি এরপর কী করা যায়। ব্যবসার দিকটা আমার ভালো লাগে, আমি শিখতে চাই, কারণ আমি এখনই শুরু করছি এই পথে।”
মেসি এখন ইন্টার মায়ামির মালিকানার অংশীদার ছাড়াও ফ্লোরিডায় নতুন এক মিলানেসা রেস্তোরাঁ, একটি হোটেল চেইন ও স্পোর্টস ড্রিংক ব্র্যান্ডের ব্যবসায় জড়িত। তিনি বলেন, “সবসময় ১০০ শতাংশ মনোযোগ দিয়েছি ফুটবলে, কিন্তু জানি এর পরেও একটা নতুন দুনিয়া আছে, যেখানে ধীরে ধীরে আমি ঢুকছি।”
ধূসর স্যুট ও সাদা শার্ট পরে মঞ্চে ওঠার সময় দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসেন মেসি। মেয়র তাকে জিজ্ঞেস করেন, “চ্যাম্পিয়নরা তৈরি হয়, না জন্মায়?”
মেসির জবাব, “ঈশ্বর আমাকে এক বিশেষ প্রতিভা দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই এটা আমার মধ্যে ছিল। তবে এটাকে শক্তিশালী করতে আমি প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করেছি। পৃথিবীতে অনেক প্রতিভাবান মানুষ আছে, কিন্তু পেশাদার হতে হলে বড় ত্যাগ লাগে। আমি সবসময় সেটা লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলাম।”
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বজয় প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ” সেই মুহূর্তের অনুভূতি ব্যাখ্যা করা কঠিন। আর্জেন্টিনার মানুষের উদযাপনই বলে দেয়, এই জয়ের মানে কী ছিল। এটা ছিল ক্যারিয়ারের শীর্ষে ওঠা। আমার কাছে এটা সন্তানের জন্মের মতোই আবেগময় এক অনুভূতি।”
তিনি যোগ করেন, “সব অর্জনের পরও আমি এখনো আগের মতোই জীবন যাপন করি। জেতার ইচ্ছাটা এখনো একই আছে। তবে সব কিছু জিতে ফেলার এক ধরণের মানসিক শান্তি পেয়েছি।”
মেসি বলেন, অতীতের ব্যর্থতা তাকে শেখায় ধৈর্য ও ইতিবাচকতা, “হারা মানে ব্যর্থতা নয়। পরিবার ও আপন মানুষদের পাশে পেয়ে আমি সবসময় সামলে উঠেছি।”
মেসি জানান, তার আসার পর ইন্টার মায়ামি ও এমএলএসের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে, “প্রতিটি শহরে পূর্ণ গ্যালারি পাচ্ছি। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে।”
আলোচনা শেষে মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ তাকে ‘মায়ামি শহরের চাবি’ সম্মাননা তুলে দেন।
Reporter Name 
























