ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

আবারও ৫০ ওভার খেলতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৮০ বার

একটা কাল্পনিক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের আশা পূরণ হবে তো? বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারবে তো? তবে বাংলাদেশ শেষমেশ সেটা করা হয়নি। বাংলাদেশ ৫০ ওভার টিকতে পারেনি। অলআউট হলো ২ বল বাকি থাকতেই। অলআউট হওয়ার আগে দল তুলেছে ২০৭ রান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, ‘আমাদের ৫০ ওভার খেলতে হবে, শেষ তিনটি ম্যাচ আমরা তা করতে পারিনি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে মনে হয়েছে, জয় পরাজয় একপাশে থাকুক, আপাতত দলের চাওয়া যেন কোনোরকমে ৫০ ওভার ব্যাট করা যায়। নাহয় ৩০তম ওভারে ১০০ না ছোঁয়া, ৬ উইকেট হাতে রেখেও ৪০ ওভার শেষে ১৪০ রানের ব্যাখ্যাটা কী দাঁড় করাবেন আপনি?

দলের ওপেনিংয়ে চলতি বছর একটা ফিফটিও আসেনি। সে কারণে ইনিংসের গোড়াপত্তনে আজ আনা হয় সৌম্য সরকারকে, তানজিদ তামিম বাদ পড়েন। তবে আজ পরিণতিটা হলো আজও বাজে। ফর্মে থাকা সাইফ হাসান ফিরলেন প্রথমে, এরপর সৌম্যও যখন বিদায় নিচ্ছেন, দলের রান তখন দুই অঙ্কেও পৌঁছায়নি।

দলের মন্থর ব্যাটিংয়ের শুরু এরপর থেকে। নাজমুল হোসেন শান্ত তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়া শুরু করলেন, ১২০ বলে দুজন ৭১ রান যোগ করলেন তৃতীয় উইকেটে। তবে তাতে একটা কীর্তি অবশ্য গড়া হয়ে যায়, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তৃতীয় উইকেট থেকে আসে অন্তত ৫০ রান।

শান্ত ৫০ ছুঁইছুঁই স্ট্রাইক রেটে ৩২ রান করেন। ওপাশে তাওহীদ হৃদয় ফিফটি করেছেন, ৯১ বলে ৫১ করে বিদায় নিয়েছেন। অভিষিক্ত মাহিদুল অঙ্কনও ছিলেন ভীষণ মন্থর। ৭৬ বলে করেছেন ৪৬ রান। উদ্দেশ্য একটাই, যেন উইকেট না চলে যায়, ইনিংস যেন ধসে না পড়ে। মিরাজের ইনিংসটা ছিল ২৭ বলে ১৭ রানের। যার সম্মিলিত যোগফল ৪০ ওভারে ১৪০ রান। তখন মনে হচ্ছিল ৫০ ওভারে বুঝি ২০০ ও হবে না!

শেষমেশ তা পেরিয়েছে মূলত লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটে চড়ে। রিশাদ হোসেন ২৬ রানের ইনিংস খেলেন ২০০ স্ট্রাইক রেটে। একটা ছক্কাসহ তানভীর ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৯ রানে। নুরুল হাসান সোহান ৯ রান করেছেন ১০ বলে। যার ফলে শেষ ৯.৪ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৬৭ রান। তবে তার খেসারতটাও দিতে হয়েছে ৬ উইকেট খুইয়ে।

উইকেট ধরে রাখতে গেলে রান আসছে না, রান তুলতে গেলে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ছে ইনিংস। বিষয়টা যেন আজ আরেকবার জানান দিল, ওয়ানডের ব্যাটিংটাই ভুলে গেছে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আবারও ৫০ ওভার খেলতে ব্যর্থ বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ০৬:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

একটা কাল্পনিক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের আশা পূরণ হবে তো? বাংলাদেশ পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারবে তো? তবে বাংলাদেশ শেষমেশ সেটা করা হয়নি। বাংলাদেশ ৫০ ওভার টিকতে পারেনি। অলআউট হলো ২ বল বাকি থাকতেই। অলআউট হওয়ার আগে দল তুলেছে ২০৭ রান।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, ‘আমাদের ৫০ ওভার খেলতে হবে, শেষ তিনটি ম্যাচ আমরা তা করতে পারিনি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে মনে হয়েছে, জয় পরাজয় একপাশে থাকুক, আপাতত দলের চাওয়া যেন কোনোরকমে ৫০ ওভার ব্যাট করা যায়। নাহয় ৩০তম ওভারে ১০০ না ছোঁয়া, ৬ উইকেট হাতে রেখেও ৪০ ওভার শেষে ১৪০ রানের ব্যাখ্যাটা কী দাঁড় করাবেন আপনি?

দলের ওপেনিংয়ে চলতি বছর একটা ফিফটিও আসেনি। সে কারণে ইনিংসের গোড়াপত্তনে আজ আনা হয় সৌম্য সরকারকে, তানজিদ তামিম বাদ পড়েন। তবে আজ পরিণতিটা হলো আজও বাজে। ফর্মে থাকা সাইফ হাসান ফিরলেন প্রথমে, এরপর সৌম্যও যখন বিদায় নিচ্ছেন, দলের রান তখন দুই অঙ্কেও পৌঁছায়নি।

দলের মন্থর ব্যাটিংয়ের শুরু এরপর থেকে। নাজমুল হোসেন শান্ত তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়া শুরু করলেন, ১২০ বলে দুজন ৭১ রান যোগ করলেন তৃতীয় উইকেটে। তবে তাতে একটা কীর্তি অবশ্য গড়া হয়ে যায়, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তৃতীয় উইকেট থেকে আসে অন্তত ৫০ রান।

শান্ত ৫০ ছুঁইছুঁই স্ট্রাইক রেটে ৩২ রান করেন। ওপাশে তাওহীদ হৃদয় ফিফটি করেছেন, ৯১ বলে ৫১ করে বিদায় নিয়েছেন। অভিষিক্ত মাহিদুল অঙ্কনও ছিলেন ভীষণ মন্থর। ৭৬ বলে করেছেন ৪৬ রান। উদ্দেশ্য একটাই, যেন উইকেট না চলে যায়, ইনিংস যেন ধসে না পড়ে। মিরাজের ইনিংসটা ছিল ২৭ বলে ১৭ রানের। যার সম্মিলিত যোগফল ৪০ ওভারে ১৪০ রান। তখন মনে হচ্ছিল ৫০ ওভারে বুঝি ২০০ ও হবে না!

শেষমেশ তা পেরিয়েছে মূলত লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটে চড়ে। রিশাদ হোসেন ২৬ রানের ইনিংস খেলেন ২০০ স্ট্রাইক রেটে। একটা ছক্কাসহ তানভীর ইসলাম অপরাজিত ছিলেন ৯ রানে। নুরুল হাসান সোহান ৯ রান করেছেন ১০ বলে। যার ফলে শেষ ৯.৪ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৬৭ রান। তবে তার খেসারতটাও দিতে হয়েছে ৬ উইকেট খুইয়ে।

উইকেট ধরে রাখতে গেলে রান আসছে না, রান তুলতে গেলে হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ছে ইনিংস। বিষয়টা যেন আজ আরেকবার জানান দিল, ওয়ানডের ব্যাটিংটাই ভুলে গেছে বাংলাদেশ।