ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি বাতিলের দাবি মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের দাবিতে ভিকারুননিসা অ্যালামনাইয়ের ব্যাখ্যা যে ৭ সবজি অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে যে পাঁচটি সিনেমা ভ্রমণপিপাসুদের অবশ্যই দেখা উচিত সৌদিতে মিসাইল হামলায় দগ্ধ প্রবাসী মামুনের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা রাজধানী দেশে প্রথমবারের মতো চালু পেট অ্যাম্বুলেন্স, নেটিজেনদের প্রশংসা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নুতন এআই টুল আনছে মেটা

লিবিয়ার উপকূলে শরণার্থী নৌকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্তত ৫০

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫০ বার

উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ার উপকূলে একটি শরণার্থী বহনকারী নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এই নৌকায় মোট ৭৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মঙ্গলবার লিবিয়ার উপকূলে এই নৌকায় আগুন লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নৌকায় থাকা মানুষেরা ইউরোপগামী অভিবাসী এবং শরণার্থী ছিলেন। আইওএম জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা পূর্বে ও সম্প্রতি বারবার ঘটছে, এবং সমুদ্রপথে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঠেকানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ২৪ জন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছে। গাদ্দাফির শাসনামলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা লিবিয়ায় কাজ পেতেন, কিন্তু গাদ্দাফির পতনের পর দেশটি মিলিশিয়াদের সংঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়ে।

গত বছর মাত্রই ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২ হাজার ৪৫২ অভিবাসী মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। এর আগে, আগস্ট মাসে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুন মাসে লিবিয়া উপকূলে দুটি জাহাজডুবিতে অন্তত ৬০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বলছে, লিবিয়ায় শরণার্থী ও অভিবাসীরা নিয়মিত নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সরঞ্জাম ও অর্থ সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু সেই কোস্টগার্ডের সঙ্গে মিলিশিয়াদের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ লিবিয়ায় আটকা পড়ছে এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য

লিবিয়ার উপকূলে শরণার্থী নৌকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্তত ৫০

আপডেট টাইম : ১১:১৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ার উপকূলে একটি শরণার্থী বহনকারী নৌকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এই নৌকায় মোট ৭৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

মঙ্গলবার লিবিয়ার উপকূলে এই নৌকায় আগুন লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নৌকায় থাকা মানুষেরা ইউরোপগামী অভিবাসী এবং শরণার্থী ছিলেন। আইওএম জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা পূর্বে ও সম্প্রতি বারবার ঘটছে, এবং সমুদ্রপথে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঠেকানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ২৪ জন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি ইউরোপগামী অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে লিবিয়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছে। গাদ্দাফির শাসনামলে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা লিবিয়ায় কাজ পেতেন, কিন্তু গাদ্দাফির পতনের পর দেশটি মিলিশিয়াদের সংঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়ে।

গত বছর মাত্রই ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২ হাজার ৪৫২ অভিবাসী মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে। এর আগে, আগস্ট মাসে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুন মাসে লিবিয়া উপকূলে দুটি জাহাজডুবিতে অন্তত ৬০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়।

মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বলছে, লিবিয়ায় শরণার্থী ও অভিবাসীরা নিয়মিত নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে সরঞ্জাম ও অর্থ সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু সেই কোস্টগার্ডের সঙ্গে মিলিশিয়াদের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ লিবিয়ায় আটকা পড়ছে এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা