ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

কিশোরগঞ্জের ইতিহাসের একটি আকর্ষণীয় দিক হাওর : মোঃ জাকির হোসাইন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৬
  • ৫৯৮ বার

কিশোরগঞ্জের হাওর । কেবল ভু-প্রকৃতিগত বৈচিত্রের কারনে নয়, অর্থনৈ্তিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রকৃতিক সৌ্ন্দর্য্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও হাওর এক বিরাট স্হান জুড়ে আছে ।হাওর মুলতঃ সাগর শব্দের অপভ্রংশ মাত্র। উচ্চারণ বিকৃতিতে সাগর থেকে সায়র এবং সায়র থেকে হাওর হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। বর্ষাকালে বিশাল হাওর এলাকায় অথৈ জলরাশি দেখলে সাগরের কথাই মনে করিয়ে দেয়। হাওর আর কিছু নয়,এটা অপেক্ষাকৃত বড় জলাভূমি।

শীতকালে যে প্রান্তর ফসলে পূর্ণ বা শুকনো মাঠ কিংবা বালুচর, বর্ষাকালে সেখানে এমন জলধারা যে চারদিক প্লাবিত করতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। শুধু পানির প্রবাহ নয় প্রচন্ড ঢেঊ আর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি সাগরের বিশালত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয় ।দ্বীপের মত গ্রামগুলি যেন ভেসে থাকে জলের বুকে। বর্ষাকালে যে হাওরের পাগল করা ঢেউয়ের দোলায় তিন বৈঠার নৌকা পাল উড়িয়ে চলার সময় উল্টিয়ে পড়তে যায়,শুষ্ক মৌসুমে সেখানে পানি থাকেনা এক ফোঁটা,যতদূর চোখ যায় শুধু ধানের সবুজ শীষ বা সোনারঙা ধানের সুবিপুল সমারোহ ।কোন বছর অকাল বন্যা হলে আবার এই বোর ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

“বড় হাওর”। নামেই পরিচিয়। সীমানা দক্ষিণে অষ্টগ্রাম থানা উওরে মিঠামইন,উওর পূর্বকোণে ইটনা, উওর-পশ্চিমে কটিয়াদী,পশ্চিমে নিকলী এবং পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানা। অষ্টগ্রাম থানার ৭টি ইউনিয়নের ৫৯টি মৌজার ৪৫,৩১০,৩৬ একর, ইটনা থানার ৮টি ইউনিয়নের ৮৪টি মৌজার ৭০,১৬৬,৭৩ একর, মিঠামইন থানার ৫টি ইউনিয়নের ৫৯টি মৌজার ২৮,৯৩৩,৮৩ একর এবং নিকলী থানার ৬টি ইউনিয়নের ৪৬টি মৌজার ৭৬,১৫০,৬৩ একর জমি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার বড় হাওরের অবস্হান। এ ছাড়া হবিগঞ্জ জেলায়ও এই বড় হাওরের বিস্তৃতি রয়েছে। বর্ষাকালে বড় হাওরে নৌকা ভাসালে মনে হয় অকুল দরিয়া পার হতে হচ্ছে ।কুল নাই কিনার নাই,শুধু অশান্ত ঊর্মিমালা উঠানামা করছে বিরামহীন ভাবে। প্রত্যুষে যখন সূর্য উঠছে,তখন এই ঢেউয়ের ছন্দদোলায় মনে হবে রক্তলাল সূর্য একবার পানির নীচে ডুবছে, আবার ভেসে উঠছে। শ্রী দীনেশ চন্দ্র দেবনাথের স্মৃতিচারণ হাওর এলাকায় বর্ষাকালে রুপ অন্যরকম,চারদিকে কেবল জল আর জল,মাঝে মাঝে জলের উপর ভাসমান গ্রাম। বর্ষাকালে নৌকায় উঠে যে কোন একদিকে রওনা দিলো তখন মনে হয় অনেকটা আকাশে বিমান নিয়ে ঘোরাফেরার মত। দার্জিলিং পাহাড়ে টাইগার হিলে বসে সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। বইপত্রে এর মনোরম বর্ণনা পড়েছি ।বিদ্যুৎ বিহীন জোৎস্না মাখা হাওর এলাকাও অনুপম। বড় হাওর ছাড়া কিশোরগঞ্জে আরো অনেক হাওর রয়েছে। যেমন-হুমাইপুর হাওর (বাজিতপুর), সোমাই হাওর (অষ্টগ্রাম), বাড়ির হাওর (মিঠামইন), তল্লার হাওর (বাজিতপুর-নিকলী-অষ্টগ্রাম), মাহমুদপুর হাওর (নিকলী), সুরমা বাউলার হাওর (নিকলী) ইত্যাদি। সম্পাদকীয়

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

কিশোরগঞ্জের ইতিহাসের একটি আকর্ষণীয় দিক হাওর : মোঃ জাকির হোসাইন

আপডেট টাইম : ০২:০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৬

কিশোরগঞ্জের হাওর । কেবল ভু-প্রকৃতিগত বৈচিত্রের কারনে নয়, অর্থনৈ্তিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রকৃতিক সৌ্ন্দর্য্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও হাওর এক বিরাট স্হান জুড়ে আছে ।হাওর মুলতঃ সাগর শব্দের অপভ্রংশ মাত্র। উচ্চারণ বিকৃতিতে সাগর থেকে সায়র এবং সায়র থেকে হাওর হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। বর্ষাকালে বিশাল হাওর এলাকায় অথৈ জলরাশি দেখলে সাগরের কথাই মনে করিয়ে দেয়। হাওর আর কিছু নয়,এটা অপেক্ষাকৃত বড় জলাভূমি।

শীতকালে যে প্রান্তর ফসলে পূর্ণ বা শুকনো মাঠ কিংবা বালুচর, বর্ষাকালে সেখানে এমন জলধারা যে চারদিক প্লাবিত করতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। শুধু পানির প্রবাহ নয় প্রচন্ড ঢেঊ আর দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি সাগরের বিশালত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয় ।দ্বীপের মত গ্রামগুলি যেন ভেসে থাকে জলের বুকে। বর্ষাকালে যে হাওরের পাগল করা ঢেউয়ের দোলায় তিন বৈঠার নৌকা পাল উড়িয়ে চলার সময় উল্টিয়ে পড়তে যায়,শুষ্ক মৌসুমে সেখানে পানি থাকেনা এক ফোঁটা,যতদূর চোখ যায় শুধু ধানের সবুজ শীষ বা সোনারঙা ধানের সুবিপুল সমারোহ ।কোন বছর অকাল বন্যা হলে আবার এই বোর ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

“বড় হাওর”। নামেই পরিচিয়। সীমানা দক্ষিণে অষ্টগ্রাম থানা উওরে মিঠামইন,উওর পূর্বকোণে ইটনা, উওর-পশ্চিমে কটিয়াদী,পশ্চিমে নিকলী এবং পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানা। অষ্টগ্রাম থানার ৭টি ইউনিয়নের ৫৯টি মৌজার ৪৫,৩১০,৩৬ একর, ইটনা থানার ৮টি ইউনিয়নের ৮৪টি মৌজার ৭০,১৬৬,৭৩ একর, মিঠামইন থানার ৫টি ইউনিয়নের ৫৯টি মৌজার ২৮,৯৩৩,৮৩ একর এবং নিকলী থানার ৬টি ইউনিয়নের ৪৬টি মৌজার ৭৬,১৫০,৬৩ একর জমি নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার বড় হাওরের অবস্হান। এ ছাড়া হবিগঞ্জ জেলায়ও এই বড় হাওরের বিস্তৃতি রয়েছে। বর্ষাকালে বড় হাওরে নৌকা ভাসালে মনে হয় অকুল দরিয়া পার হতে হচ্ছে ।কুল নাই কিনার নাই,শুধু অশান্ত ঊর্মিমালা উঠানামা করছে বিরামহীন ভাবে। প্রত্যুষে যখন সূর্য উঠছে,তখন এই ঢেউয়ের ছন্দদোলায় মনে হবে রক্তলাল সূর্য একবার পানির নীচে ডুবছে, আবার ভেসে উঠছে। শ্রী দীনেশ চন্দ্র দেবনাথের স্মৃতিচারণ হাওর এলাকায় বর্ষাকালে রুপ অন্যরকম,চারদিকে কেবল জল আর জল,মাঝে মাঝে জলের উপর ভাসমান গ্রাম। বর্ষাকালে নৌকায় উঠে যে কোন একদিকে রওনা দিলো তখন মনে হয় অনেকটা আকাশে বিমান নিয়ে ঘোরাফেরার মত। দার্জিলিং পাহাড়ে টাইগার হিলে বসে সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। বইপত্রে এর মনোরম বর্ণনা পড়েছি ।বিদ্যুৎ বিহীন জোৎস্না মাখা হাওর এলাকাও অনুপম। বড় হাওর ছাড়া কিশোরগঞ্জে আরো অনেক হাওর রয়েছে। যেমন-হুমাইপুর হাওর (বাজিতপুর), সোমাই হাওর (অষ্টগ্রাম), বাড়ির হাওর (মিঠামইন), তল্লার হাওর (বাজিতপুর-নিকলী-অষ্টগ্রাম), মাহমুদপুর হাওর (নিকলী), সুরমা বাউলার হাওর (নিকলী) ইত্যাদি। সম্পাদকীয়