‘টারব্যান্ড টর্নেডো’ খ্যাত ভারতের শতবর্ষী ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিং আর নেই। পাঞ্জাবের জালান্ধারে আদমপুর-ভোজপুর সড়কে মঙ্গলবার বিকেলে অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১১৪ বছর। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার পর জালান্ধারে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফৌজা সিংকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অজ্ঞাতনামা চালকের বিপক্ষে ইতোমধ্যেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে।
জালান্ধারের বিয়াস গ্রামে ১৯১১ সালে ফৌজা সিংয়ের জন্ম। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। স্ত্রী গিয়ান কৌরের মৃত্যুর পর ১৯৯২ সালে তিনি পূর্ব লন্ডনে পাড়ি জমান।
১৯৯৪ সালে পঞ্চম সন্তান কুলদ্বীপ সিংয়ের মৃত্যুর পর ফৌজা সিং শোক কাটিয়ে উঠতে আবারো রানিং শুরু করেন। তিনি প্রায়ই বলতেন যে ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণার জন্য দৌড়ানোই সেরা চিকিৎসা।
লন্ডনে কোচ হারমান্দার সিংয়ের অধীনে ফৌজা সিং অনুশীলন শুরু করেন ও ৮৯ বছর বয়সে পেশাদার রানিংয়ে নতুন করে নাম লেখান।
২০০০ সালে আন্তর্জাতিকভাবে তিনি স্বীকৃতি পান। ঐ সময় ছয় ঘণ্টা ৫৪ মিনিটে তিনি লন্ডন ম্যারাথন সমাপ্ত করেছিলেন। ৯০ ঊর্ধ্ব ক্যাটাগরিতে এটি একটি বিশ্ব রেকর্ড।
ক্যারিয়ারে তিনি আটটি পরিপূর্ণ ম্যারাথন সম্পূর্ণ করেছেন।
২০০৩ সালে টরেন্টো ওয়াটারফ্রন্ট ম্যারাথনে ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করে তিনি ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ের রেকর্ড গড়েন।
১০০ বছর বয়সে ফৌজা সিং ২০১১ সালে লন্ডনে পরিপূর্ণ ম্যারাথনে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাত ঘণ্টা ৪৯ মিনিটে দৌড় শেষ করেন।
২০১৩ সালে এক ঘণ্টা ৩২ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে হংকং ম্যারাথনে ১০ কিলোমিটার সম্পন্ন করে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আয়োজন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন। এই টাইমিং ছিল আগের বছরের পারফরমেন্সের তুলনায় মাত্র আধা মিনিট কম।
২০১২ সালে ফৌজা সিং লন্ডন গেমসে আরো বেশ কয়েকজন তারকার সাথে অলিম্পিক টর্চও বহন করেছেন।
Reporter Name 
























