ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ফয়েজ উদ্দিন মানিক গোপদিঘী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনয়নে যোগ্য দাবিদার আমিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার—এমবাপ্পে ওয়াটার এটিএমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী টাকা ছাপতে এক বছরে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন পূজা চেরী, পাত্র কে ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি দেশে মোবাইল সংযোগ ১৯ কোটি ১০ লাখ: আইসিটি মন্ত্রী গর্ভাবস্থায় কোন ফলগুলো বেশি উপকারী

প্রার্থী হতে পারেন খালেদা জিয়া তারেক রহমান ও জুবাইদা জামায়াত প্রার্থীর নাম ঘোষণা, দল গোছাচ্ছে এনসিপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ৬১ বার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সাতটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। ছোট দলগুলো মাঠে না নামলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ব্যস্ত প্রচার-প্রচারণায়। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বগুড়ার সব আসনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করায় দলটি নির্বিঘ্নে তাদের প্রচার চালাচ্ছে। প্রতিটি আসনেই রয়েছে দলটির শক্ত অবস্থান। তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার সব আসনেই বিএনপির অবস্থা তুলনামূলক ভালো। প্রতিটি আসনেই দলটির সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী কাজ করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেই বগুড়ার সাতটি আসনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াত। এর মধ্যেই বগুড়া-৩ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলী মারা গেছেন। সেখানে এখনও নতুন প্রার্থীর নাম জানায়নি দলটি। বাকি প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করছেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার আমাদের সময়কে বলেন, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে আছে। শেরপুর-ধুনট, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি, সারিয়াকান্দি এই আসনগুলোতে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী।

এনসিপি বগুড়া জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহিত তাকি বলেন, এনসিপি যেহেতু জনগণের এবং নির্বাচনমুখী দল, অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এখন দল গোছানোর কাজ চলছে। দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও বগুড়া জেলা প্রধান সমন্বয়কারী সাকিব মাহাদী এবং কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিন রিয়াজ নির্বাচনে অংশ নেবেন।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) : এ আসনটি ১৯৭৩ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালে বিএনপির ওয়াজেদ হোসেন তরফদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও আসনটি বিএনপি পায়। ২০০৮ সালে মনোনয়ন দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানাকে। তাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আবদুল মান্নান বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল মান্নান। ২০১৯ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নান সংসদ সদস্য হন।

বর্তমানে মাঠে সরব বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম। আরও আছেন জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব। আর এই আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) : ১৯৭৩-এর নির্বাচনে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবুল হাসনাত চৌধুরী নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাফফর হোসেন, ১৯৮৮ সালে ফ্রিডম পার্টির সৈয়দ মাসকুরুল আলম চৌধুরী এবং ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী শাহাদাত-উজ-জামান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে এ আসনটিতে বিএনপির এ কে এম হাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে রেজাউল বারী ও ২০০৮ সালে এ কে এম হাফিজুর রহমান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ সংসদ সদস্য হন। আর ২০১৮ সালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জাপার শরিফুল ইসলামের কাছে হেরে যান।

এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতি। তবে আসছে নির্বাচনে জোটের হিসাবে আসনটি নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। আর এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) : ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাসান আলী তালুকদার নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবদুল মজিদ তালুকদার, ১৯৮৬ সালে জাসদ থেকে এ বি এম শাহজাহান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম শাহজাহান, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির আবদুল মজিদ তালুকদার, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির আবদুল মোমেন তালুকদার এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবার বিএনপি থেকে বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, বগুড়া বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান খান, আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন। আর জামায়াত দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুণাহার ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) : ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি জাসদকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন জাসদের রেজাউল করিম তানসেন। ২০১৪ সালেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ২০১৮ সালে তিনি জেলা বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের কাছে পরাজিত হন। পরে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে রেজাউল করিম আবার সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রেজাউল করিমকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এককভাবে মাঠে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। আর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলীর মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত দল থেকে নতুন প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) : ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মো. সিরাজের দখলে ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবর রহমান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান বিজয়ী হন।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ এবং তার ছেলে শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলমও মনোনয়নপ্রত্যাশী। আর জামায়াত একক প্রার্থী হিসেবে শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দবিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে।

বগুড়া-৬ (সদর) : ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার নুরুল ইসলাম বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজ বিজয়ী হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করলে আরেক উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন।

জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আসছে নির্বাচনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া-৬ আসনটি জিয়া পরিবারের আসন। এ ছাড়া জেলার সংসদীয় সাতটি আসনে কোথায় কাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হবে, সে ব্যাপারে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন। এ আসনে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো এ আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট পান। তবে প্রতিবারই খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচন হয়। তিনটি উপনির্বাচনে বিজয়ী হন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার। ২০০৮ সালের উপনির্বাচনে দলের স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য মওদুদ আহমদ জয়ী হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আলতাফ আলী সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালে রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেয় বিএনপি। ২০২৪ সালে এখানে আওয়ামী লীগের মোস্তফা আলম বিজয়ী হন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসছে নির্বাচনে এই আসনে জিয়া পরিবারের কারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম রব্বানীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফয়েজ উদ্দিন মানিক গোপদিঘী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনয়নে যোগ্য দাবিদার

প্রার্থী হতে পারেন খালেদা জিয়া তারেক রহমান ও জুবাইদা জামায়াত প্রার্থীর নাম ঘোষণা, দল গোছাচ্ছে এনসিপি

আপডেট টাইম : ১১:১৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সাতটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। ছোট দলগুলো মাঠে না নামলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ব্যস্ত প্রচার-প্রচারণায়। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বগুড়ার সব আসনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করায় দলটি নির্বিঘ্নে তাদের প্রচার চালাচ্ছে। প্রতিটি আসনেই রয়েছে দলটির শক্ত অবস্থান। তবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার সব আসনেই বিএনপির অবস্থা তুলনামূলক ভালো। প্রতিটি আসনেই দলটির সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী কাজ করছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেই বগুড়ার সাতটি আসনে দলীয় প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে জামায়াত। এর মধ্যেই বগুড়া-৩ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত ঘোষিত প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলী মারা গেছেন। সেখানে এখনও নতুন প্রার্থীর নাম জানায়নি দলটি। বাকি প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করছেন। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার আমাদের সময়কে বলেন, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও জামায়াত শক্তিশালী অবস্থানে আছে। শেরপুর-ধুনট, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি, সারিয়াকান্দি এই আসনগুলোতে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী।

এনসিপি বগুড়া জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহিত তাকি বলেন, এনসিপি যেহেতু জনগণের এবং নির্বাচনমুখী দল, অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এখন দল গোছানোর কাজ চলছে। দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও বগুড়া জেলা প্রধান সমন্বয়কারী সাকিব মাহাদী এবং কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিন রিয়াজ নির্বাচনে অংশ নেবেন।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) : এ আসনটি ১৯৭৩ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালে বিএনপির ওয়াজেদ হোসেন তরফদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও আসনটি বিএনপি পায়। ২০০৮ সালে মনোনয়ন দেওয়া হয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানাকে। তাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আবদুল মান্নান বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল মান্নান। ২০১৯ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নান সংসদ সদস্য হন।

বর্তমানে মাঠে সরব বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম। আরও আছেন জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব। আর এই আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) : ১৯৭৩-এর নির্বাচনে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবুল হাসনাত চৌধুরী নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাফফর হোসেন, ১৯৮৮ সালে ফ্রিডম পার্টির সৈয়দ মাসকুরুল আলম চৌধুরী এবং ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী শাহাদাত-উজ-জামান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে এ আসনটিতে বিএনপির এ কে এম হাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে রেজাউল বারী ও ২০০৮ সালে এ কে এম হাফিজুর রহমান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ সংসদ সদস্য হন। আর ২০১৮ সালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জাপার শরিফুল ইসলামের কাছে হেরে যান।

এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতি। তবে আসছে নির্বাচনে জোটের হিসাবে আসনটি নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। আর এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) : ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাসান আলী তালুকদার নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবদুল মজিদ তালুকদার, ১৯৮৬ সালে জাসদ থেকে এ বি এম শাহজাহান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম শাহজাহান, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির আবদুল মজিদ তালুকদার, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির আবদুল মোমেন তালুকদার এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এবার বিএনপি থেকে বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী, বগুড়া বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান খান, আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন। আর জামায়াত দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুণাহার ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে।

বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) : ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি জাসদকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন জাসদের রেজাউল করিম তানসেন। ২০১৪ সালেও তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ২০১৮ সালে তিনি জেলা বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের কাছে পরাজিত হন। পরে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে রেজাউল করিম আবার সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রেজাউল করিমকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এককভাবে মাঠে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। আর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তায়েব আলীর মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত দল থেকে নতুন প্রার্থীর নাম জানানো হয়নি।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) : ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আসনটি জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মো. সিরাজের দখলে ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবর রহমান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান বিজয়ী হন।

জেলা বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ এবং তার ছেলে শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলমও মনোনয়নপ্রত্যাশী। আর জামায়াত একক প্রার্থী হিসেবে শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দবিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে।

বগুড়া-৬ (সদর) : ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার নুরুল ইসলাম বিজয়ী হন। ২০১৮ সালে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় উপনির্বাচনে বিএনপির গোলাম মো. সিরাজ বিজয়ী হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করলে আরেক উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন।

জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, আসছে নির্বাচনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া-৬ আসনটি জিয়া পরিবারের আসন। এ ছাড়া জেলার সংসদীয় সাতটি আসনে কোথায় কাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হবে, সে ব্যাপারে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন। এ আসনে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো এ আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও তিনি বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট পান। তবে প্রতিবারই খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচন হয়। তিনটি উপনির্বাচনে বিজয়ী হন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার। ২০০৮ সালের উপনির্বাচনে দলের স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য মওদুদ আহমদ জয়ী হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আলতাফ আলী সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালে রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেয় বিএনপি। ২০২৪ সালে এখানে আওয়ামী লীগের মোস্তফা আলম বিজয়ী হন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসছে নির্বাচনে এই আসনে জিয়া পরিবারের কারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর এ আসনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম রব্বানীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।