ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বাজেটে পুঁজিবাজার: মুনাফার ওপর দ্বৈত কর পরিহারের আহ্বান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • ১১৫ বার

গেলো কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা চলছে পুঁজিবাজারে। সূচক কমার সাথে চলছে টানা দরপতন। তারল্য সংকটে লেনদেন নেমেছে তলানিতে। কোনোভাবেই আস্থা ফেরানো যাচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের।

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আগামী বাজেটে নীতি সহায়তা দেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চান তারা। যদিও কোনোভাবেই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার পক্ষে নয় বিশ্লেষকরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেকর সভাপতি (ডিএসই) শাকিল রিজভী বলেন, কালো টাকা বলবো না আমি। কোনও কারণে কর দেয়া হয়নি, এ রকম টাকা যদি কর দিয়ে পুঁজিবাজারে আনা যায়; পুঁজিবাজারে আসা মানে টাকাটা মেইনস্ট্রিমে ঢুকে গেলো। এইখান থেকে বিতাড়িত করা মানে টাকাটা অন্যদিকে চলে যাওয়া। সুতরাং এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত। অন্যথায় তারল্য সংকটের কষ্ট আরও পাইতে থাকবো।

ডিএসই স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, এখন যে সময় যাচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ে অনেক অর্থ কিন্তু বাজারে আনা যাবে। পুঁজিবাজারে এই অর্থটা যদি আসে তাহলে এইটা দেশের অর্থনীতিতে রুল করবে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় টাকাটা আসুক।

বাজেটে তালিকাভুক্ত ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়ানো, লেনদেনের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানো এবং মুনাফার ওপর থেকে দ্বৈত কর পরিহারের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

শাকিল রিজভী বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারকে টার্নআউট করতে গেলে বাজেটে একটা ভালো নীতি থাকা উচিত। ট্রেডিংয়ের ওপরে ভারতে এক লাখে কর হলো ৫ রূপি। আমরা কেন ৫০ টাকা রাখবো? আমাদের অর্থনীতির আকার তাদের চেয়ে তো অনেক ছোট। এ অবস্থায় আমার মার্কেট বড় হবে না। বড় না হলে তো করও আদায় হবে না।

আহমেদ রশীদ লালী বললেন, মুনাফার ওপর কর এক লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি করা… মুনাফার ওপর দ্বিগুণ নয়, তিন গুণ ট্যাক্সেশন হচ্ছে। সেদিকে একটা ব্যালেন্স পলিসি নেয়া উচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুজিবাজারে নীতি সহায়তা দিতে কর ছাড়ের সুযোগ দেয়া যেতে পারে বাজেটে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। এটা অনৈতিক ও সুশাসেনর পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, সৎ করদাতা যারা, যাদের বছরে আয় ৪ লাখ টাকা, তাদের কাছ থেকে জোর করে বেতন থেকে টাকা আদায় করে নেয়া হচ্ছে। আর যারা ধনী মানে শত শত কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে, তাদেরকে আমি একটা সুবিধা দিয়ে বাজারে নিয়ে আসবো, আমি এটার সঙ্গে একমত নই।

এর আগেও কালো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলেও তা খুব একটা কাজে লাগেনি বলে জানান বিশ্লেষকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

বাজেটে পুঁজিবাজার: মুনাফার ওপর দ্বৈত কর পরিহারের আহ্বান

আপডেট টাইম : ০৮:১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

গেলো কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা চলছে পুঁজিবাজারে। সূচক কমার সাথে চলছে টানা দরপতন। তারল্য সংকটে লেনদেন নেমেছে তলানিতে। কোনোভাবেই আস্থা ফেরানো যাচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের।

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আগামী বাজেটে নীতি সহায়তা দেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চান তারা। যদিও কোনোভাবেই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার পক্ষে নয় বিশ্লেষকরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেকর সভাপতি (ডিএসই) শাকিল রিজভী বলেন, কালো টাকা বলবো না আমি। কোনও কারণে কর দেয়া হয়নি, এ রকম টাকা যদি কর দিয়ে পুঁজিবাজারে আনা যায়; পুঁজিবাজারে আসা মানে টাকাটা মেইনস্ট্রিমে ঢুকে গেলো। এইখান থেকে বিতাড়িত করা মানে টাকাটা অন্যদিকে চলে যাওয়া। সুতরাং এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত। অন্যথায় তারল্য সংকটের কষ্ট আরও পাইতে থাকবো।

ডিএসই স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, এখন যে সময় যাচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ে অনেক অর্থ কিন্তু বাজারে আনা যাবে। পুঁজিবাজারে এই অর্থটা যদি আসে তাহলে এইটা দেশের অর্থনীতিতে রুল করবে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থনীতির মূলধারায় টাকাটা আসুক।

বাজেটে তালিকাভুক্ত ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়ানো, লেনদেনের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানো এবং মুনাফার ওপর থেকে দ্বৈত কর পরিহারের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

শাকিল রিজভী বলেন, বাজেটে পুঁজিবাজারকে টার্নআউট করতে গেলে বাজেটে একটা ভালো নীতি থাকা উচিত। ট্রেডিংয়ের ওপরে ভারতে এক লাখে কর হলো ৫ রূপি। আমরা কেন ৫০ টাকা রাখবো? আমাদের অর্থনীতির আকার তাদের চেয়ে তো অনেক ছোট। এ অবস্থায় আমার মার্কেট বড় হবে না। বড় না হলে তো করও আদায় হবে না।

আহমেদ রশীদ লালী বললেন, মুনাফার ওপর কর এক লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি করা… মুনাফার ওপর দ্বিগুণ নয়, তিন গুণ ট্যাক্সেশন হচ্ছে। সেদিকে একটা ব্যালেন্স পলিসি নেয়া উচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুজিবাজারে নীতি সহায়তা দিতে কর ছাড়ের সুযোগ দেয়া যেতে পারে বাজেটে। তবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না। এটা অনৈতিক ও সুশাসেনর পরিপন্থী।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, সৎ করদাতা যারা, যাদের বছরে আয় ৪ লাখ টাকা, তাদের কাছ থেকে জোর করে বেতন থেকে টাকা আদায় করে নেয়া হচ্ছে। আর যারা ধনী মানে শত শত কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে, তাদেরকে আমি একটা সুবিধা দিয়ে বাজারে নিয়ে আসবো, আমি এটার সঙ্গে একমত নই।

এর আগেও কালো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলেও তা খুব একটা কাজে লাগেনি বলে জানান বিশ্লেষকরা।