আইপিএলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুকেশ আম্বানি-নীতা আম্বানিদের মালিকানাধীন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। তবে এত সাফল্যের পেছনে একটা কারণও আছে। তরুণ খেলোয়াড় তুলে আনায় তাদের জুড়ি মেলা ভার। আইপিএলের মুম্বাই থেকেই পরবর্তীতে ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে আলো ছড়াচ্ছেন হার্দিক পান্ডিয়া, জাসপ্রিত বুমরাহর মতো ক্রিকেটাররা।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে দীর্ঘদিন খেলেছেন হার্দিকের ভাই ক্রুনাল পান্ডিয়াও। এক দলে খেলে মুম্বাইকে সাফল্য এনে দিয়েছেন অনেক। তাদের দুই ভাইয়ের মুম্বাই ডেরায় আগমনের কথা এখনো মনে আছে নীতা আম্বানির। প্রায় একযুগ আগে একটি প্রস্তুতিমূলক শিবিরে দুই ভাইকে দেখেছিলেন নীতা।
হার্দিক ও ক্রুনালকে প্রথম দেখার মুহূর্ত নিয়ে নিয়ে নীতা বলেন, ‘আইপিএলে, আমাদের সকলেরই একটি নির্দিষ্ট বাজেট থাকে, তাই প্রতিটি দল নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারে। তাই আমাদের প্রতিভা খুঁজে বের করার নতুন উপায় সম্পর্কে ভাবতে হয়েছিল। আমরা প্রতিভা খোঁজার চেষ্টা করতাম এবং প্রতিটি রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে ও ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে যেতাম। একদিন আমাদের কর্মকর্তারা দুজন তরুণ, চিকন, রোগা ছেলেকে ক্যাম্পে নিয়ে এল।’
‘আমি তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম এবং তারা তখন বলেছিল, নিজেদের কাছে কোনো টাকা না থাকার কারণে তিন বছর ধরে ম্যাগি নুডুলস ছাড়া কিছু খায়নি। কিন্তু আমি তাদের মধ্যে স্পিরিট দেখেছি, কিছু করার আবেগ ও ক্ষুধা দেখেছি, তারা বড় জায়গায় যেতে চেয়েছে। সেই দুই ভাই ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও ক্রনাল পান্ডিয়া। ২০১৫ সালে আমি নিলামে হার্দিক পান্ডিয়াকে ১০ হাজার মার্কিন ডলারে কিনেছিলাম, এবং আজ সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের গর্বিত অধিনায়ক।’
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়েও স্মৃতিচারণ করেছেন নীতা। বর্তমানে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলা এই তারকাকে নিয়ে মুম্বাই মালিক বলেন, ‘আমাদের (মুম্বাই) কর্মকর্তারা অদ্ভুত অ্যাকশনের একজন তরুণ ক্রিকেটারকে পেয়েছিল। তারা বলেছিল, তাকে (বুমরাহ) বল করতে দেখো। আমরা তাকে দেখেছিলাম, সে শুধু বলের সঙ্গে কথা বলতে পারে। এটাই ছিল আমাদের বুমরাহ, বাকিটা ইতিহাস। গত বছর আমরা তিলক ভার্মাকে অভিষেক করিয়েছিলাম, এবং এখন সে টিম ইন্ডিয়ার একজন গর্বিত সদস্য। তাই আমার মনে হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ভারতে ক্রিকেটের নার্সারি বলা হয়।’