ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার একটি ছোট্ট গল্প

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১২৬ বার

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নাম মাহফুজা আক্তার শিমু। তাঁর বেড়ে ওঠা কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বাদলা গ্রামে। তিনি তাঁর বাবা- মায়ের ০৪ সন্তানের মধ্যে অতি আদারের ২য় সন্তান। উন্নত পড়াশোনার জন্য তিনি নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা সদরে পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর তাঁর খালার বাড়ি আসেন এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

এদিকে তাঁর বাবা-মা তাঁকে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিলো। যদিও তাঁর প্রবল ইচ্ছে ছিলো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার। কিন্তু বাবা-মা’র চাপের কাছে তিনি হেরে যান। তাঁর পড়াশোনা থেমে গেলো। তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হলো নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের রহিছ উদ্দিনের সাথে। শুরু হলো জীবন যুদ্ধ।

বিয়ের ১ বছরের মাথায় কোলে জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। তিনি আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান। একদিকে সংসার অন্য দিকে তাঁর ছেলে এবং পড়াশোনা। কি করবে, কি না করবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। প্রথম সন্তান জন্মের ১ বছর পর তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হন। বেড়ে যায় ব্যস্থাতা ও দুশ্চিন্তা। কিন্তু তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো পড়াশোনা। একপর্যায়ে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোন। সংসারের পাশাপাশি তিনি তাঁর কাংখিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ২০১৯ সালে এসএসসি পাশ করেন।

তারপর মদন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে পোষাক তৈরির উপর ০৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন এবং তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ৪ হাজার ৫ শত টাকা নিয়ে ০১ টি সেলাই মেশিন ক্রয় করে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেই থেকে শুরু হলো শিমুর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। তাঁর উপার্জিত আয় থেকে সন্তানদ্বয়ের খরচ চালিয়েছেন এবং অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় বেকার মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। নিজ বাড়িতে দিয়েছেন পোষাকের দোকান। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে গড়েছেন গরু ও ছাগলের ছোট্ট খামার। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। পৌর শহরে ১৫ লক্ষ টাকা মুল্যের ৬ শতাংশ জমিও ক্রয় করেছেন। “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন কারী নারী” ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে তিনি শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নির্বাচিত হন। সোমবার (৯ ডিসেম্বর-২০২৪) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর তাঁকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করেন। এখন তিনি একজন গর্বিত স্ত্রী, একজন গর্বিত মা এবং একজন গর্বিত নারী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার একটি ছোট্ট গল্প

আপডেট টাইম : ০১:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নাম মাহফুজা আক্তার শিমু। তাঁর বেড়ে ওঠা কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বাদলা গ্রামে। তিনি তাঁর বাবা- মায়ের ০৪ সন্তানের মধ্যে অতি আদারের ২য় সন্তান। উন্নত পড়াশোনার জন্য তিনি নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা সদরে পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর তাঁর খালার বাড়ি আসেন এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

এদিকে তাঁর বাবা-মা তাঁকে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিলো। যদিও তাঁর প্রবল ইচ্ছে ছিলো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার। কিন্তু বাবা-মা’র চাপের কাছে তিনি হেরে যান। তাঁর পড়াশোনা থেমে গেলো। তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হলো নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার পূর্ব জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের রহিছ উদ্দিনের সাথে। শুরু হলো জীবন যুদ্ধ।

বিয়ের ১ বছরের মাথায় কোলে জুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। তিনি আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যান। একদিকে সংসার অন্য দিকে তাঁর ছেলে এবং পড়াশোনা। কি করবে, কি না করবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। প্রথম সন্তান জন্মের ১ বছর পর তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হন। বেড়ে যায় ব্যস্থাতা ও দুশ্চিন্তা। কিন্তু তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো পড়াশোনা। একপর্যায়ে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হোন। সংসারের পাশাপাশি তিনি তাঁর কাংখিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ২০১৯ সালে এসএসসি পাশ করেন।

তারপর মদন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে পোষাক তৈরির উপর ০৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন এবং তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ৪ হাজার ৫ শত টাকা নিয়ে ০১ টি সেলাই মেশিন ক্রয় করে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সেই থেকে শুরু হলো শিমুর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রথম ধাপ। তাঁর উপার্জিত আয় থেকে সন্তানদ্বয়ের খরচ চালিয়েছেন এবং অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় বেকার মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। নিজ বাড়িতে দিয়েছেন পোষাকের দোকান। কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে গড়েছেন গরু ও ছাগলের ছোট্ট খামার। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করছেন। পৌর শহরে ১৫ লক্ষ টাকা মুল্যের ৬ শতাংশ জমিও ক্রয় করেছেন। “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন কারী নারী” ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে তিনি শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নির্বাচিত হন। সোমবার (৯ ডিসেম্বর-২০২৪) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর তাঁকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করেন। এখন তিনি একজন গর্বিত স্ত্রী, একজন গর্বিত মা এবং একজন গর্বিত নারী।