ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া সরকার : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ সমর্থন করা সংবাদমাধ্যমকে বয়কট করতে বললেন তথ্যমন্ত্রী মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • ১১৮ বার

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের জমি দখল করে বহুলতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। নেত্রকোণার মদনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে গড়েছে মার্কেট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসী। কিন্ত অদৃশ্য কারণে নিরব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, জাহাঙ্গীরপুর মৌজায় ০৬ নং খতিয়ানে ৫৪৮ ও ৫৪৭ দাগে ২ একর ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের। ৫৪৮ দাগের ২ একর ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে বাউন্ডারি করে নির্মাণ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কোয়ার্টার। বাকী ৫৪৭ দাগের ১৬ শতাংশ জমি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি তোতা মিয়াসহ আরও কয়েকজন দখল করে বহুতল একাধিক ভবন নির্মান করে। একটি ভবনে তোতা মিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসী ও মার্কেট করেছেন।

মঙ্গলবার সরজমিন গেলে , ৫৩৩ দাগে জমি ক্রয় করে পাশে থাকা ৫৪৭ দাগের হাসপাতালের জমি প্রভাব খাটিয়ে দখল নিয়ে গড়েছেন একাধিক ভবন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উক্ত ভূমির ১৪২৮-২৯ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে। কিন্তু পরবর্তিতে অনলাইন খাজনা পরিশোধের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারনে খাজনা পরিশোধ করছে না। ভূমি অফিস সর্বশেষ ৬ মে ২০২৪ ইং তারিখে খাজনা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রেরণ করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে এ বিষয়ে একেবারেই নিরব ভুমিকা পালন করছেন। প্রভাবশালীদের দখলে যাওয়া জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা সারোয়ার জাহান মুকুল জানান, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ফকরুল হাসান টিপুর দায়িত্বকালীন সময়ে হাসপাতালের ভূমি নির্ধারণ করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে এ্যাসিলেন্ড মহোদয়ের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার হাসপাতালের জমি মেপে নির্ধারণ করেন। ৫৪৭ দাগের ১৬ শতাংশ জমি তোতা মিয়ার ভবনসহ হাসপাতালের নির্ধারিত হয়। তবে অদৃশ্য কারনে বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।

জমির একাংশের মালিক দাবীদার তোতা মিয়া জানান, ৫৪৭ দাগে ভুলবশত হাসপাতালের নামে রেকর্ড হওয়ায় ২০১৪ সালে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং ৪৭০২৫। আমার বিশ্বাস আদালত থেকে আমি ন্যায় বিচার পাব।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূরুল হুদা খান জানান, আমি এ বিষয়ে এ্যাসিলেন্ড সাহেবের নিকট জমিটি মাপার করার জন্য আবেদন করব। যদি তারা হাসপাতালের জমি দখলে নিয়ে ভবন নির্মাণ করে তাহলে ভূমি মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজোয়ান ইফতেকার জানান, এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সাথে আপনি কথা বলেন, ইউএনও স্যারের নিকট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে তিনি আমাকে অভিযোগের কপি ফরওয়ার্ড করবেন এর পর ব্যবস্থা নেব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

আপডেট টাইম : ০৪:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪

নিজাম (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের জমি দখল করে বহুলতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। নেত্রকোণার মদনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে গড়েছে মার্কেট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসী। কিন্ত অদৃশ্য কারণে নিরব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, জাহাঙ্গীরপুর মৌজায় ০৬ নং খতিয়ানে ৫৪৮ ও ৫৪৭ দাগে ২ একর ৮৬ শতাংশ জমি রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের। ৫৪৮ দাগের ২ একর ৭০ শতাংশ জমির মধ্যে বাউন্ডারি করে নির্মাণ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কোয়ার্টার। বাকী ৫৪৭ দাগের ১৬ শতাংশ জমি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি তোতা মিয়াসহ আরও কয়েকজন দখল করে বহুতল একাধিক ভবন নির্মান করে। একটি ভবনে তোতা মিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মেসী ও মার্কেট করেছেন।

মঙ্গলবার সরজমিন গেলে , ৫৩৩ দাগে জমি ক্রয় করে পাশে থাকা ৫৪৭ দাগের হাসপাতালের জমি প্রভাব খাটিয়ে দখল নিয়ে গড়েছেন একাধিক ভবন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উক্ত ভূমির ১৪২৮-২৯ বাংলা সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করে। কিন্তু পরবর্তিতে অনলাইন খাজনা পরিশোধের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও অদৃশ্য কারনে খাজনা পরিশোধ করছে না। ভূমি অফিস সর্বশেষ ৬ মে ২০২৪ ইং তারিখে খাজনা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রেরণ করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে এ বিষয়ে একেবারেই নিরব ভুমিকা পালন করছেন। প্রভাবশালীদের দখলে যাওয়া জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা সারোয়ার জাহান মুকুল জানান, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ফকরুল হাসান টিপুর দায়িত্বকালীন সময়ে হাসপাতালের ভূমি নির্ধারণ করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে এ্যাসিলেন্ড মহোদয়ের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার হাসপাতালের জমি মেপে নির্ধারণ করেন। ৫৪৭ দাগের ১৬ শতাংশ জমি তোতা মিয়ার ভবনসহ হাসপাতালের নির্ধারিত হয়। তবে অদৃশ্য কারনে বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।

জমির একাংশের মালিক দাবীদার তোতা মিয়া জানান, ৫৪৭ দাগে ভুলবশত হাসপাতালের নামে রেকর্ড হওয়ায় ২০১৪ সালে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং ৪৭০২৫। আমার বিশ্বাস আদালত থেকে আমি ন্যায় বিচার পাব।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূরুল হুদা খান জানান, আমি এ বিষয়ে এ্যাসিলেন্ড সাহেবের নিকট জমিটি মাপার করার জন্য আবেদন করব। যদি তারা হাসপাতালের জমি দখলে নিয়ে ভবন নির্মাণ করে তাহলে ভূমি মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজোয়ান ইফতেকার জানান, এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সাথে আপনি কথা বলেন, ইউএনও স্যারের নিকট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে তিনি আমাকে অভিযোগের কপি ফরওয়ার্ড করবেন এর পর ব্যবস্থা নেব।