ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বু-আম্মু ডাকা যাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
  • ১৭২ বার

প্রশ্ন: শ্বশুরকে আব্বু শাশুড়িকে আম্মু বলা ডাকা যাবে কি?

উত্তর: শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা নিষেধ নয়; বরং এটি সৌহার্দ্যতা ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। কেননা বংশপরিচয় প্রকাশ করা উদ্দেশ্য না হলে বরং কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মানপ্রদর্শন উদ্দেশ্য হলে তাকে বাবা কিংবা মা বলার নজির কুরআন-সুন্নায় রয়েছে।

যেমন পবিত্র কুরআনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা এবং ইব্রাহিম আলাইহিসসালামকে মুসলিম-উম্মাহর বাবা বলা হয়েছে।

নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তার স্ত্রীরা তাদের মা। (সুরা আহযাব ৬)

এটা তোমাদের বাবা ইব্রাহিমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ); তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’। (সুরা হাজ্জ ৭৮)

অনুরূপভাবে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচী আবু তালিবের স্ত্রী হজরত আলীর (রা.) মাকে মা বলে ডেকেছেন। তার নাম ছিল ফাতিমা বিনতে আসাদ বিন হাশিম (রা.)। ফাতিমা যখন মারা যান তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে এসে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন,

رحِمَك اللَّهُ يا أمِّي كنتِ أمِّي بعدَ أمِّي تجوعينَ وتُشبِعينَني وتَعرَينَ وتُكسينني وتمنعينَ نفسَك طيِّبَها وتطعمينَني تريدينَ بذلِك وجهَ اللَّهِ

অর্থাৎ, ও আম্মা! আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আমার মায়ের পর আপনিই আমার মা ছিলেন। আপনি ক্ষুধার্ত থেকেও আমাকে পেট ভরে খাইয়েছেন, আপনি নিজে কাপড় না পরেও আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, নিজেকে না দিয়ে আপনি আমাকে ভালো খাবার খাইয়েছেন, আপনি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখেরাত চেয়েছিলেন। (মাজমাউযযাওয়াইদ ১৫৩৯৯)

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচাবে সুরা কাহাফ

উল্লেখ্য, যেসব হাদিসে অন্যকে বাবা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, যেমন এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরের বাবাকে নিজের বাবা বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাবা নয়, সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। (বুখারি, ৬৩৮৫)

এ জাতীয় হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের বাবার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম উল্লেখ করা। যেমন-আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা বাবার নাম উল্লেখ করা জরুরি হয়, সেখানে যদি অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয় তাহলে তা হারাম হয়।

কিন্তু যেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না এবং গোপন করার উদ্দেশ্যও কারো থাকেনা, তাই শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলা হাদিসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় বিধায় তা জায়েজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বু-আম্মু ডাকা যাবে

আপডেট টাইম : ১০:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

প্রশ্ন: শ্বশুরকে আব্বু শাশুড়িকে আম্মু বলা ডাকা যাবে কি?

উত্তর: শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকা নিষেধ নয়; বরং এটি সৌহার্দ্যতা ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। কেননা বংশপরিচয় প্রকাশ করা উদ্দেশ্য না হলে বরং কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মানপ্রদর্শন উদ্দেশ্য হলে তাকে বাবা কিংবা মা বলার নজির কুরআন-সুন্নায় রয়েছে।

যেমন পবিত্র কুরআনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে মুমিনদের মা এবং ইব্রাহিম আলাইহিসসালামকে মুসলিম-উম্মাহর বাবা বলা হয়েছে।

নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তার স্ত্রীরা তাদের মা। (সুরা আহযাব ৬)

এটা তোমাদের বাবা ইব্রাহিমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ); তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’। (সুরা হাজ্জ ৭৮)

অনুরূপভাবে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচী আবু তালিবের স্ত্রী হজরত আলীর (রা.) মাকে মা বলে ডেকেছেন। তার নাম ছিল ফাতিমা বিনতে আসাদ বিন হাশিম (রা.)। ফাতিমা যখন মারা যান তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে এসে তার মাথার কাছে বসেন এবং বলেন,

رحِمَك اللَّهُ يا أمِّي كنتِ أمِّي بعدَ أمِّي تجوعينَ وتُشبِعينَني وتَعرَينَ وتُكسينني وتمنعينَ نفسَك طيِّبَها وتطعمينَني تريدينَ بذلِك وجهَ اللَّهِ

অর্থাৎ, ও আম্মা! আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আমার মায়ের পর আপনিই আমার মা ছিলেন। আপনি ক্ষুধার্ত থেকেও আমাকে পেট ভরে খাইয়েছেন, আপনি নিজে কাপড় না পরেও আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, নিজেকে না দিয়ে আপনি আমাকে ভালো খাবার খাইয়েছেন, আপনি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখেরাত চেয়েছিলেন। (মাজমাউযযাওয়াইদ ১৫৩৯৯)

দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচাবে সুরা কাহাফ

উল্লেখ্য, যেসব হাদিসে অন্যকে বাবা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, যেমন এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরের বাবাকে নিজের বাবা বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাবা নয়, সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। (বুখারি, ৬৩৮৫)

এ জাতীয় হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের বাবার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম উল্লেখ করা। যেমন-আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা বাবার নাম উল্লেখ করা জরুরি হয়, সেখানে যদি অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয় তাহলে তা হারাম হয়।

কিন্তু যেহেতু শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না এবং গোপন করার উদ্দেশ্যও কারো থাকেনা, তাই শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলা হাদিসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় বিধায় তা জায়েজ।