ঢাকা ০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

তবু ফিরে পেলেন না মেয়েকে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৬
  • ৩২৫ বার

জন্মের পরপর অপহৃত হওয়া শিশুটি এখন ১৯ বছরের তরুণী। বড় হয়েছেন অপহরণকারী নারীর কাছেই। এত দিন তাকেই মা বলে জেনে এসেছেন জেফানি নার্স (ছদ্মনাম)। অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ওই নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত।

এখন প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার কথা জেফানির। কিন্তু এই তরুণী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি ফিরে যাবেন না তার প্রকৃত মা-বাবার কাছে। এত দিন যাদের বাবা-মা জেনে এসেছেন তাদের কাছে থাকবেন তিনি। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, অপহৃত মেয়েটির প্রকৃত বাবা-মা হলেন সিলেস্ট ও মর্নে নার্স। তবে অভিযুক্ত নারী ও জেফানির প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

জেফানির পরিচয় উদ্ঘাটন হওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে জেফানি নার্স ও অন্য একটি শিশুর মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য দেখতে পায় সেখানকার লোকজন। পরে পুলিশ ওই দুই শিক্ষার্থীর ডিএনএ পরীক্ষা করে। তাতে বেরিয়ে আসে যে তারা আপন বোন। জেফানিকে যিনি অপহরণ করেন, ৫১ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতের বিচারক ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, জেফানির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। অপহরণের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম এর আগে সংবাদ প্রকাশ করেছিল, অপহরণকারী ওই নারীকে মা মনে করেন জেফানি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অপহরণকারীর স্বামী যাকে তিনি বাবা বলে ডাকেন, তার পরিবারেই থাকবেন। প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চান না তিনি।

আদালতের বাইরে জেফানির প্রকৃত দাদি মেরিলিন জানান, জেফানির কথায় তিনি খুশি হতে পারেননি। তবে তিনি আশাবাদী, এখন জেফানির সঙ্গে একটি বন্ধন তৈরির সুযোগ পাবে তার বাবা-মা এবং তাতে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠবে তাদের মধ্যে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মামলায় আসলে কেউ জয়ী হননি। জেফানি যাকে মা বলে ডাকেন তিনি চলে গেলেন কারাগারে। এই নারীর স্বামী বিচ্ছিন্ন হলেন স্ত্রী থেকে। আর জেফানির প্রকৃত মা-বাবা ফিরে পেলেন না তাদের মেয়েকে।

জেফানি নার্স ১৯৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপ টাউনের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের তিন দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

তবু ফিরে পেলেন না মেয়েকে

আপডেট টাইম : ১২:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৬

জন্মের পরপর অপহৃত হওয়া শিশুটি এখন ১৯ বছরের তরুণী। বড় হয়েছেন অপহরণকারী নারীর কাছেই। এত দিন তাকেই মা বলে জেনে এসেছেন জেফানি নার্স (ছদ্মনাম)। অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ওই নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত।

এখন প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার কথা জেফানির। কিন্তু এই তরুণী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি ফিরে যাবেন না তার প্রকৃত মা-বাবার কাছে। এত দিন যাদের বাবা-মা জেনে এসেছেন তাদের কাছে থাকবেন তিনি। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, অপহৃত মেয়েটির প্রকৃত বাবা-মা হলেন সিলেস্ট ও মর্নে নার্স। তবে অভিযুক্ত নারী ও জেফানির প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

জেফানির পরিচয় উদ্ঘাটন হওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে জেফানি নার্স ও অন্য একটি শিশুর মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য দেখতে পায় সেখানকার লোকজন। পরে পুলিশ ওই দুই শিক্ষার্থীর ডিএনএ পরীক্ষা করে। তাতে বেরিয়ে আসে যে তারা আপন বোন। জেফানিকে যিনি অপহরণ করেন, ৫১ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতের বিচারক ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, জেফানির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। অপহরণের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম এর আগে সংবাদ প্রকাশ করেছিল, অপহরণকারী ওই নারীকে মা মনে করেন জেফানি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অপহরণকারীর স্বামী যাকে তিনি বাবা বলে ডাকেন, তার পরিবারেই থাকবেন। প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চান না তিনি।

আদালতের বাইরে জেফানির প্রকৃত দাদি মেরিলিন জানান, জেফানির কথায় তিনি খুশি হতে পারেননি। তবে তিনি আশাবাদী, এখন জেফানির সঙ্গে একটি বন্ধন তৈরির সুযোগ পাবে তার বাবা-মা এবং তাতে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠবে তাদের মধ্যে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মামলায় আসলে কেউ জয়ী হননি। জেফানি যাকে মা বলে ডাকেন তিনি চলে গেলেন কারাগারে। এই নারীর স্বামী বিচ্ছিন্ন হলেন স্ত্রী থেকে। আর জেফানির প্রকৃত মা-বাবা ফিরে পেলেন না তাদের মেয়েকে।

জেফানি নার্স ১৯৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপ টাউনের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের তিন দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।