ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনার এক প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়কের জীবনকথা নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা ‘আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ’, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা কঠিন বিপদে বা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যে ৩ আমল বেশি বেশি করবেন টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু দেশে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ১০ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচার, সতর্ক করল পুলিশ বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল জনতার, কোনো রাজনৈতিক দলের নয় : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এক দিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
  • ১৪৩ বার

বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-ব্যাংক খাতে গত জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে।

এই ৩ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ, সুদহার, বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর সার্বিক মূলধন কমেছে। তবে ঋণের স্থিতি বাড়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ বেড়েছে আর খেলাপি ঋণ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এখন মোট খেলাপি ঋণের ৪৫ শতাংশের বেশি রয়েছে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের কাছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত জুনে যেখানে চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল, সেপ্টেম্বরে তা বেড়েছে পাঁচটিতে। এছাড়া গত জুনে সুদের হারজনিত কারণে একটি ব্যাংক ঝুঁকিতে থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দুটিতে দাঁড়িয়েছে। প্রতি ৩ মাস পরপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের প্রতিবেদনটি গত বছরের জুন-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের, যা প্রায় ৭ মাস পর প্রকাশ করা হয়।

আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংকগুলো পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। আগ্রাসী ব্যাংকিং বন্ধ করতে হবে। পরিচালকদের চাপ কমাতে হবে। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপিদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে, ব্যাংক হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণ। ব্যাংক দুর্বল হলে অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংক এখন অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দিতে পারছে না। এ সংকট কাটাতে তাই আমানত বাড়াতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। ঋণ আদায় করতে হবে। বিদেশে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তার সঠিক হিসাব বের করে ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এর ফলে দেশে ডলার সংকট কিছুটা হলেও কাটবে। অবশ্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া যে খেলাপিদের ধরা যাবে না, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যারা ঋণখেলাপি বা জাল-জালিয়াতি করে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের ছায়ার মধ্যেই থাকে। তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। কাজেই সরকার থেকে বার্তা না পেলে ব্যাংক তাদের ধরতে পারবে না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে সরকার ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে এটাই কাম্য।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান বিজ্ঞান, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনার এক প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়কের জীবনকথা

ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি

আপডেট টাইম : ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-ব্যাংক খাতে গত জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে।

এই ৩ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ, সুদহার, বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর সার্বিক মূলধন কমেছে। তবে ঋণের স্থিতি বাড়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ বেড়েছে আর খেলাপি ঋণ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এখন মোট খেলাপি ঋণের ৪৫ শতাংশের বেশি রয়েছে শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের কাছে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত জুনে যেখানে চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল, সেপ্টেম্বরে তা বেড়েছে পাঁচটিতে। এছাড়া গত জুনে সুদের হারজনিত কারণে একটি ব্যাংক ঝুঁকিতে থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দুটিতে দাঁড়িয়েছে। প্রতি ৩ মাস পরপর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের প্রতিবেদনটি গত বছরের জুন-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের, যা প্রায় ৭ মাস পর প্রকাশ করা হয়।

আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংকগুলো পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। আগ্রাসী ব্যাংকিং বন্ধ করতে হবে। পরিচালকদের চাপ কমাতে হবে। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খেলাপিদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

মনে রাখতে হবে, ব্যাংক হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণ। ব্যাংক দুর্বল হলে অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংক এখন অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দিতে পারছে না। এ সংকট কাটাতে তাই আমানত বাড়াতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। ঋণ আদায় করতে হবে। বিদেশে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তার সঠিক হিসাব বের করে ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

এর ফলে দেশে ডলার সংকট কিছুটা হলেও কাটবে। অবশ্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া যে খেলাপিদের ধরা যাবে না, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে যারা ঋণখেলাপি বা জাল-জালিয়াতি করে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের ছায়ার মধ্যেই থাকে। তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। কাজেই সরকার থেকে বার্তা না পেলে ব্যাংক তাদের ধরতে পারবে না। এসব বিষয় আমলে নিয়ে সরকার ব্যাংক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে এটাই কাম্য।