ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সফটওয়্যার উন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৮ বার

প্রযুক্তির অগ্রগতির এ সময়ে বিশ্বব্যাপী বড় হচ্ছে সফটওয়্যার খাত। প্রসারিত হচ্ছে স্থানীয় বাজারও। একসময় দেশের এ উদীয়মান খাতে যে স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল না, এখন ধীরে ধীরে সে সাফল্য ধরা দিচ্ছে। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশের কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে সফটওয়্যার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ভরসা করছে দেশে তৈরি সফটওয়্যারে।

১৯৯৮ সালে দেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সেক্টরের জাতীয় সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে কেবল ১৮টি সদস্য কোম্পানি থাকলেও বর্তমানে বেসিসের সদস্যসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বেসিসের ২০২৪-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। স্থানীয় সফটওয়্যার বাজারে বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে সফটওয়্যার খাত হতে পারে গার্মেন্টস শিল্পের চেয়ে বড় আয়ের উৎস।স্থানীয় সফটওয়্যার খাতের বর্তমান চিত্র

গত দুই যুগের বেশি সময় দেশের স্থানীয় সফটওয়্যার বাজারে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশে প্রায় ১০০০-এর বেশি ছোট-বড় সফটওয়্যার এবং আইটি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি আইটি প্রফেশনাল কাজ করছে। এ সেক্টরের আকার প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বেশিরভাগ আইটি কোম্পানিই ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডাটা প্রসেসিং এবং সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্সের কাজ করে। বড় বড় কোম্পানিগুলো দেশের স্বার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, ই-গভর্ন্যান্স এবং ই-লার্নিংয়ের কাজ করে যাচ্ছে।স্থানীয় সফটওয়্যার খাতের দুর্বল দিক

দেশীয় সফটওয়্যার খাতে অনেক কোম্পানি আছে যারা আন্তর্জাতিক ও গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করছে। তাদের সেবার মান বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানির চেয়ে কোনো অংশে কম না। তবুও দেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো সাধারণত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো বড় ধরনের এন্টারপ্রাইজ সলিউশনসগুলো ব্যবহার করতে চান না। টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে সফটওয়্যার কিনে আনছে। নিজেদের বানানো সফটওয়্যারের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারছে না।

আবার ক্রেতারা স্থানীয় কোম্পানির কাছ থেকে সফটওয়্যার কেনার পর যে মানের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার কথা সেটা তারা পান না বলে মনে করেন অনেকে। সফটওয়্যার ডিপ্লয়মেন্টের পর বিক্রয়োত্তর সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেবা সরবরাহে পেশাদারির অভাব।পরিচিতি বাড়ানো

আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক ও সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশের পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা তখনই আসবে, যখন মানুষ সত্যিকার অর্থে জানবে যে আমাদের দেশে কত ভালো ভালো সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। প্রচারেই প্রসার। এক্ষেত্রে স্থানীয় পণ্যসেবার সঠিক ব্র্যান্ডিংয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমাদের স্থানীয় বাজারে তৈরিকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, মহাদেশে। কিন্তু কজন জানে এটা। কী কী সফটওয়্যার এদেশে তৈরি হয়, কোন বিষয়ে আমরা ভালো, দেশের কোন সেবাপণ্যের তুলনামূলক সুবিধা আমাদের দেশে বেশি। এগুলো মানুষকে জানাতে প্রয়োজন যথাযথ ব্র্যান্ডিং।

সঠিক মানদণ্ড

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সফটওয়্যারের মান যাচাইয়ের মানদণ্ড রয়েছে। স্থানীয় বাজারে সবাই নিজের মতো করে সফটওয়্যার বানাচ্ছে। এতে করে একটা সফল সফটওয়্যারের যে আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকা দরকার সেটা আর বজায় থাকছে না। সফটওয়্যারের মানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য মান যাচাইয়ের নীতিমালা চালু করা যেতে পারে।পরামর্শ

স্থানীয় বাজারে সফটওয়্যার শিল্পের উন্নয়নে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে।

বিদেশি সফটওয়্যার সেবা পণ্যের চাহিদা নিয়ে গবেষণা করে সে ধরনের আন্তর্জাতিক গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা।

বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে পরিচালনা করে তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে পরিপূর্ণ তথ্যের বাতায়ন তৈরি করতে হবে।

স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও সক্ষম ও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে বেসিসের ভূমিকাই মুখ্য। সাংগঠনিকভাবে, প্রত্যেক সদস্য ও সরকারের স্বতন্ত্র ভূমিকাও রয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এ মহাকর্ম পরিকল্পনায় তথ্যপ্রযুক্তিখাতের যে সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। বেসিসের অনেক সদস্যকোম্পানি এসব সমস্যার যোগ্য সমাধান দিতে সক্ষম ও অভিজ্ঞ। বেসিসের সদস্যদের মধ্যে যারা দক্ষ ও যোগ্য তাদের সহযোগিতায় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে এ খাত।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

স্থানীয় সফটওয়্যার উন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

প্রযুক্তির অগ্রগতির এ সময়ে বিশ্বব্যাপী বড় হচ্ছে সফটওয়্যার খাত। প্রসারিত হচ্ছে স্থানীয় বাজারও। একসময় দেশের এ উদীয়মান খাতে যে স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল না, এখন ধীরে ধীরে সে সাফল্য ধরা দিচ্ছে। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশের কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে সফটওয়্যার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ভরসা করছে দেশে তৈরি সফটওয়্যারে।

১৯৯৮ সালে দেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সেক্টরের জাতীয় সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে কেবল ১৮টি সদস্য কোম্পানি থাকলেও বর্তমানে বেসিসের সদস্যসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বেসিসের ২০২৪-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন। সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। স্থানীয় সফটওয়্যার বাজারে বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে সফটওয়্যার খাত হতে পারে গার্মেন্টস শিল্পের চেয়ে বড় আয়ের উৎস।স্থানীয় সফটওয়্যার খাতের বর্তমান চিত্র

গত দুই যুগের বেশি সময় দেশের স্থানীয় সফটওয়্যার বাজারে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দেশে প্রায় ১০০০-এর বেশি ছোট-বড় সফটওয়্যার এবং আইটি কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানিতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি আইটি প্রফেশনাল কাজ করছে। এ সেক্টরের আকার প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বেশিরভাগ আইটি কোম্পানিই ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডাটা প্রসেসিং এবং সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্সের কাজ করে। বড় বড় কোম্পানিগুলো দেশের স্বার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, ই-গভর্ন্যান্স এবং ই-লার্নিংয়ের কাজ করে যাচ্ছে।স্থানীয় সফটওয়্যার খাতের দুর্বল দিক

দেশীয় সফটওয়্যার খাতে অনেক কোম্পানি আছে যারা আন্তর্জাতিক ও গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করছে। তাদের সেবার মান বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানির চেয়ে কোনো অংশে কম না। তবুও দেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো সাধারণত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো বড় ধরনের এন্টারপ্রাইজ সলিউশনসগুলো ব্যবহার করতে চান না। টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে সফটওয়্যার কিনে আনছে। নিজেদের বানানো সফটওয়্যারের ওপর তারা আস্থা রাখতে পারছে না।

আবার ক্রেতারা স্থানীয় কোম্পানির কাছ থেকে সফটওয়্যার কেনার পর যে মানের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার কথা সেটা তারা পান না বলে মনে করেন অনেকে। সফটওয়্যার ডিপ্লয়মেন্টের পর বিক্রয়োত্তর সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেবা সরবরাহে পেশাদারির অভাব।পরিচিতি বাড়ানো

আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক ও সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশের পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা তখনই আসবে, যখন মানুষ সত্যিকার অর্থে জানবে যে আমাদের দেশে কত ভালো ভালো সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে। প্রচারেই প্রসার। এক্ষেত্রে স্থানীয় পণ্যসেবার সঠিক ব্র্যান্ডিংয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমাদের স্থানীয় বাজারে তৈরিকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, মহাদেশে। কিন্তু কজন জানে এটা। কী কী সফটওয়্যার এদেশে তৈরি হয়, কোন বিষয়ে আমরা ভালো, দেশের কোন সেবাপণ্যের তুলনামূলক সুবিধা আমাদের দেশে বেশি। এগুলো মানুষকে জানাতে প্রয়োজন যথাযথ ব্র্যান্ডিং।

সঠিক মানদণ্ড

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সফটওয়্যারের মান যাচাইয়ের মানদণ্ড রয়েছে। স্থানীয় বাজারে সবাই নিজের মতো করে সফটওয়্যার বানাচ্ছে। এতে করে একটা সফল সফটওয়্যারের যে আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকা দরকার সেটা আর বজায় থাকছে না। সফটওয়্যারের মানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য মান যাচাইয়ের নীতিমালা চালু করা যেতে পারে।পরামর্শ

স্থানীয় বাজারে সফটওয়্যার শিল্পের উন্নয়নে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে।

বিদেশি সফটওয়্যার সেবা পণ্যের চাহিদা নিয়ে গবেষণা করে সে ধরনের আন্তর্জাতিক গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা।

বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে পরিচালনা করে তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে হবে।

সফটওয়্যার খাতের উন্নয়নে পরিপূর্ণ তথ্যের বাতায়ন তৈরি করতে হবে।

স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও সক্ষম ও শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে বেসিসের ভূমিকাই মুখ্য। সাংগঠনিকভাবে, প্রত্যেক সদস্য ও সরকারের স্বতন্ত্র ভূমিকাও রয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এ মহাকর্ম পরিকল্পনায় তথ্যপ্রযুক্তিখাতের যে সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। বেসিসের অনেক সদস্যকোম্পানি এসব সমস্যার যোগ্য সমাধান দিতে সক্ষম ও অভিজ্ঞ। বেসিসের সদস্যদের মধ্যে যারা দক্ষ ও যোগ্য তাদের সহযোগিতায় সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে এ খাত।