ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

ঐশীর বয়স বিবেচনাধীন নয়, সাঈদীর কেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০১৬
  • ১০২০ বার

২০১৩ সালে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশ পরিদর্শক ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার দায়ে তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশীকে গত বছর ফাঁসির আদেশ দেন আদালত৷ ঐশীর দণ্ড মকুবের আবেদন জানিয়েছেন অনেকে৷এবিসি রেডিওর ফেসবুক পাতায় একটি লিঙ্ক শেয়ার করে লেখা হয়, ‘ঈদের আগেই ঐশীর ফাঁসি কার্যকর’৷ যদিও লিংক ক্লিক করে কোনো সংবাদই পাওয়া যায়নি৷ তারপরও শিরোনাম দেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়৷ কবি, সাহিত্যিকসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই এতে প্রতিক্রিয়া জানান৷ যদিও পরে অনেকেই এ খবরের সত্যতা পাননি৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন অনেকেই৷

গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত৷ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছিলেন, ‘‘ঐশী পরিকল্পিতভাবে, সময় নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়৷ সে খুনের সময় সুস্থ স্বাভাবিক ছিল৷ আসামিপক্ষ তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বললেও তা প্রমাণ করতে পারেনি৷ সে মাদকাসক্ত হলেও বাবা-মাকে সে হত্যা করেছিল সুস্থ মস্তিষ্কে৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরি গায়েন তার ফেসবুক পাতায় দুটি মন্তব্য করেছেন৷ প্রথমটি খবরটি দেখার পর৷ যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘যাঁরা মানবতাবিরোধী ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তাঁদেরও দেখি ঐশীর মৃত্যুদণ্ডে উল্লসিত৷ বিশ্বের মানবতাবাদী সংগঠনগুলোও কেউ উচ্চবাচ্য করছে না৷ ঐশী একা তার মা-বাবাকে খুন করেছে, এটা আমি বিশ্বাস করি না৷ আমার ধারণা, ঐশীর পেছনের ক্রীনড়কদের বের করা সম্ভব হয়নি৷

তবে ঐশী একা এই কাজ সত্যি ঘটিয়ে থাকলেও তার বয়স বিবেচনা করে ঐশীর মৃতুদণ্ড বাতিলের জোর দাবি জানাই৷ তার জীবন মাত্র শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যদি কেউ হয়ে থাকে তবে ঐশী নিজে৷ ঐশীকে তার ভুল শোধরানোর সুযোগ দেয়া হোক৷ তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সংশোধিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মানবিক ব্যবস্থা নেয়া হোক৷”

এই লেখায় মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ মোরশেদুল মারাজ লিখেছেন, ‘‘ঐশিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার রায়ে বয়স কেন বিবেচনা করা হয়নি সেটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়…৷”

এর উত্তরে কাবেরি গায়েন আবার লিখেছেন, ‘‘কিন্তু সাঈদীর ৭১ সালের বয়স অনেকের কাছেই খুব বড় বিবেচনার বিষয়৷”

এছাড়া সরকার মুহাম্মদ আব্বাস লিখেছেন, ‘‘মাননীয় বিচারকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বলতে চাই, রায় প্রকাশের আগেই অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন ছিল, যা বিচারক করাতে পারতেন৷”

সংবাদটি ভুল জানার পর কাবেরি গায়েন আবার লিখেছেন, ‘‘আমি ফেসবুকে ঐশীর মৃত্যুদণ্ড বহাল নামে একটি খবর দেখে আমার বিস্ময় এবং অবিশ্বাস জানিয়ে দু’লাইনের একটি পোস্ট দিয়েছিলাম৷ বেশ কয়েক ঘন্টা পরেও এ বিষয়ে নতুন কোনো খবর মূল ধারার পত্রিকায় না পেয়ে পোস্টটি মুছে দিচ্ছি৷ আশা করি আমাদের সবার আকাঙ্খাই বাস্তবায়িত হবে৷ ঐশীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হবে৷”

এবিসি রেডিও’র ফেসবুক পাতায় লেখা ছিল – ‘‘ঐশীর ফাঁসি কার্যকরের ব্যাপারে আপনার কি মতামত? কমেন্টে ‍জানান এবং জনমত গড়তে শেয়ার করুন৷”

বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণও এ খবর দেখে ঐশীর সাজা কমানোর জন্য রাষ্ট্রপতির বরাবর একটি লেখা লিখেছেন ফেসবুকে৷

২০০৪ সালে ভুটানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেয়া হয়৷ দেশটিতে সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৭৪ সালে৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘ঐশীর প্রাণরক্ষার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আকুল আবেদন৷ ঐশীর মৃত্যুদণ্ড মকুব করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করার বিষয়টি নিয়ে আমিও ভাবছিলাম৷ একটু দ্বিধার মধ্যে ছিলাম৷ এমন সময় ঐশীর প্রাণদণ্ড মকুব করার জন্য মাননীয় রাষ্টপতির উদ্দেশে লেখা কবি সৈয়দ তারিকের আবেদনটি চোখে পড়ল৷ দেখলাম কবি তারিকের আবেদনটির প্রতি বহু মানুষের সমর্থনও আছে৷ তারা নেশার কবলে পড়ে বিবেক বা চৈতন্য হারানো কিশোরী ঐশীকে প্রাণভিক্ষা দেবার পক্ষে৷ আমিও ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাকে অন্য কোনো লঘু দণ্ড দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি৷”

‘‘এই স্বকর্মদোষে অভিভাবকহারা, প্রায়-মস্তিষ্ক-বিকৃত কিশোরী ঐশীর পক্ষ থেকে আমি মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে মেয়েটির প্রাণরক্ষার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি৷ মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি ঐশীকে প্রাণ ভিক্ষা দিন৷ তাতে কবরে শায়িত হতভাগিনী ঐশীর মা-বাবাও অখুশি হবেন বলে আমার মনে হয় না৷ আমার ধারণা, দেশের অধিকাংশ মানুষও ঐশীকে ফাঁসির রশিতে ঝুলতে দেখতে চাইছেন না৷”

তাঁর লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার হয়েছে ৭৩ বার৷ মন্তব্য অসংখ্য৷ রাসেল তার লেখাটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘সবারই একটা দ্বিতীয় সুযোগ প্রাপ্য৷ তাকে এমনভাবে তৈরি করার জন্য আমাদের সমাজও অনেকাংশে দায়ী৷”

তামিম চৌধুরী লেখাটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘ঐশীকে প্রাণদণ্ড নয়, বরঞ্চ সমাজকে মাদকমুক্ত করা হোক৷ আমার মতে ঐশীর প্রাণদণ্ড মানে রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জা এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যর্থতা, যেহেতু রাষ্ট্রব্যবস্থাই নাগরিককে পরোক্ষভাবে ঢেলে দিচ্ছে মাদকের দিকে৷ মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটুকু তৎপর – এই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে৷” -ডচভেলে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

ঐশীর বয়স বিবেচনাধীন নয়, সাঈদীর কেন

আপডেট টাইম : ১২:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০১৬

২০১৩ সালে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশ পরিদর্শক ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার দায়ে তাদের একমাত্র মেয়ে ঐশীকে গত বছর ফাঁসির আদেশ দেন আদালত৷ ঐশীর দণ্ড মকুবের আবেদন জানিয়েছেন অনেকে৷এবিসি রেডিওর ফেসবুক পাতায় একটি লিঙ্ক শেয়ার করে লেখা হয়, ‘ঈদের আগেই ঐশীর ফাঁসি কার্যকর’৷ যদিও লিংক ক্লিক করে কোনো সংবাদই পাওয়া যায়নি৷ তারপরও শিরোনাম দেখে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়৷ কবি, সাহিত্যিকসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই এতে প্রতিক্রিয়া জানান৷ যদিও পরে অনেকেই এ খবরের সত্যতা পাননি৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন অনেকেই৷

গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে তাদের মেয়ে ঐশী রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত৷ রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছিলেন, ‘‘ঐশী পরিকল্পিতভাবে, সময় নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়৷ সে খুনের সময় সুস্থ স্বাভাবিক ছিল৷ আসামিপক্ষ তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বললেও তা প্রমাণ করতে পারেনি৷ সে মাদকাসক্ত হলেও বাবা-মাকে সে হত্যা করেছিল সুস্থ মস্তিষ্কে৷”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরি গায়েন তার ফেসবুক পাতায় দুটি মন্তব্য করেছেন৷ প্রথমটি খবরটি দেখার পর৷ যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘যাঁরা মানবতাবিরোধী ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তাঁদেরও দেখি ঐশীর মৃত্যুদণ্ডে উল্লসিত৷ বিশ্বের মানবতাবাদী সংগঠনগুলোও কেউ উচ্চবাচ্য করছে না৷ ঐশী একা তার মা-বাবাকে খুন করেছে, এটা আমি বিশ্বাস করি না৷ আমার ধারণা, ঐশীর পেছনের ক্রীনড়কদের বের করা সম্ভব হয়নি৷

তবে ঐশী একা এই কাজ সত্যি ঘটিয়ে থাকলেও তার বয়স বিবেচনা করে ঐশীর মৃতুদণ্ড বাতিলের জোর দাবি জানাই৷ তার জীবন মাত্র শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যদি কেউ হয়ে থাকে তবে ঐশী নিজে৷ ঐশীকে তার ভুল শোধরানোর সুযোগ দেয়া হোক৷ তার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে সংশোধিত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মানবিক ব্যবস্থা নেয়া হোক৷”

এই লেখায় মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ মোরশেদুল মারাজ লিখেছেন, ‘‘ঐশিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার রায়ে বয়স কেন বিবেচনা করা হয়নি সেটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়…৷”

এর উত্তরে কাবেরি গায়েন আবার লিখেছেন, ‘‘কিন্তু সাঈদীর ৭১ সালের বয়স অনেকের কাছেই খুব বড় বিবেচনার বিষয়৷”

এছাড়া সরকার মুহাম্মদ আব্বাস লিখেছেন, ‘‘মাননীয় বিচারকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই বলতে চাই, রায় প্রকাশের আগেই অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন ছিল, যা বিচারক করাতে পারতেন৷”

সংবাদটি ভুল জানার পর কাবেরি গায়েন আবার লিখেছেন, ‘‘আমি ফেসবুকে ঐশীর মৃত্যুদণ্ড বহাল নামে একটি খবর দেখে আমার বিস্ময় এবং অবিশ্বাস জানিয়ে দু’লাইনের একটি পোস্ট দিয়েছিলাম৷ বেশ কয়েক ঘন্টা পরেও এ বিষয়ে নতুন কোনো খবর মূল ধারার পত্রিকায় না পেয়ে পোস্টটি মুছে দিচ্ছি৷ আশা করি আমাদের সবার আকাঙ্খাই বাস্তবায়িত হবে৷ ঐশীর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করা হবে৷”

এবিসি রেডিও’র ফেসবুক পাতায় লেখা ছিল – ‘‘ঐশীর ফাঁসি কার্যকরের ব্যাপারে আপনার কি মতামত? কমেন্টে ‍জানান এবং জনমত গড়তে শেয়ার করুন৷”

বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণও এ খবর দেখে ঐশীর সাজা কমানোর জন্য রাষ্ট্রপতির বরাবর একটি লেখা লিখেছেন ফেসবুকে৷

২০০৪ সালে ভুটানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান তুলে নেয়া হয়৷ দেশটিতে সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৭৪ সালে৷

তিনি লিখেছেন, ‘‘ঐশীর প্রাণরক্ষার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের আকুল আবেদন৷ ঐশীর মৃত্যুদণ্ড মকুব করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করার বিষয়টি নিয়ে আমিও ভাবছিলাম৷ একটু দ্বিধার মধ্যে ছিলাম৷ এমন সময় ঐশীর প্রাণদণ্ড মকুব করার জন্য মাননীয় রাষ্টপতির উদ্দেশে লেখা কবি সৈয়দ তারিকের আবেদনটি চোখে পড়ল৷ দেখলাম কবি তারিকের আবেদনটির প্রতি বহু মানুষের সমর্থনও আছে৷ তারা নেশার কবলে পড়ে বিবেক বা চৈতন্য হারানো কিশোরী ঐশীকে প্রাণভিক্ষা দেবার পক্ষে৷ আমিও ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে তাকে অন্য কোনো লঘু দণ্ড দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি৷”

‘‘এই স্বকর্মদোষে অভিভাবকহারা, প্রায়-মস্তিষ্ক-বিকৃত কিশোরী ঐশীর পক্ষ থেকে আমি মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে মেয়েটির প্রাণরক্ষার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি৷ মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি ঐশীকে প্রাণ ভিক্ষা দিন৷ তাতে কবরে শায়িত হতভাগিনী ঐশীর মা-বাবাও অখুশি হবেন বলে আমার মনে হয় না৷ আমার ধারণা, দেশের অধিকাংশ মানুষও ঐশীকে ফাঁসির রশিতে ঝুলতে দেখতে চাইছেন না৷”

তাঁর লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার হয়েছে ৭৩ বার৷ মন্তব্য অসংখ্য৷ রাসেল তার লেখাটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘সবারই একটা দ্বিতীয় সুযোগ প্রাপ্য৷ তাকে এমনভাবে তৈরি করার জন্য আমাদের সমাজও অনেকাংশে দায়ী৷”

তামিম চৌধুরী লেখাটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘ঐশীকে প্রাণদণ্ড নয়, বরঞ্চ সমাজকে মাদকমুক্ত করা হোক৷ আমার মতে ঐশীর প্রাণদণ্ড মানে রাষ্ট্রের জন্য চরম লজ্জা এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যর্থতা, যেহেতু রাষ্ট্রব্যবস্থাই নাগরিককে পরোক্ষভাবে ঢেলে দিচ্ছে মাদকের দিকে৷ মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটুকু তৎপর – এই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে৷” -ডচভেলে