ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

একজন বাবার কান্না ও ভিআইপিদের ট্রিটমেন্ট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩
  • ২৪২ বার

ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেন রাত ৩ টায়। ট্রিটমেন্ট শুরু হয়েছে সকাল ৭ টায়। যা হবার তাই হয়েছে। বিকেল ৪ টায় মারা গেলো ৬ বছরের শিশু সন্তান তাশফিন। বাবা হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, আর বলছিলেন, রাতে জুনিয়র ডাক্তাররা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছিলেন না। তাকে বলা হলো, সকালে বড় ডাক্তাররা এলে ট্রিটমেন্ট শুরু করবেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনটুকু দিতে পারছিলেন না কর্তব্যরত চিকিৎসক। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাচ্চাটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে, সেই গাড়ি থেকে নিয়ে অক্সিজেন দিতে বলেন। তাই করলেন বাবা। তারপরও শিশুটিকে বাঁচানো গেলো না। বাবার আক্ষেপ, রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পরপর ট্রিটমেন্ট শুরু করলে বাচ্চাটিকে হয়তো বাঁচানো যেতো। এই আক্ষেপ নিয়েই হয়তো বাবাকে বাকী জীবন কাটাতে হবে। বাবা আরটিভি অনলাইনের সিনিয়র সাব-এডিটর আবুল হাসান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার হাতে সন্তানের লাশ দাফন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার কি কোনো উন্নতি হয়েছে? একজন বাবা রাত তিনটায় অক্সিজেন পাবেন না, আইসিইউ পাবেন না, সিনিয়র ডাক্তার পাবেন না, তাহলে কিসের উন্নতি? তদবির ছাড়া, উৎকোচ ছাড়া কেউ কি সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পেয়েছেন? এখনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের দুর্ব্যবহারে ব্যথিত রোগী ও তাদের স্বজনরা। বারবার সাধারণ জনগণ দাবি জানিয়ে আসছেন, ভিআইপিদের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে করানোর। সেই দাবিও উপেক্ষিত হয়ে আসছে। জনগণের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালের চিত্র পাল্টে যেত। ভিআইপিরা সারাদিন দেশপ্রেমের বুলি আওড়াবেন, আর চিকিৎসা করাবেন বিদেশে কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে, এটা জনগণের সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া আর কি!

লেখক : আকতার হোসেন
বার্তা সম্পাদক, আরটিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

একজন বাবার কান্না ও ভিআইপিদের ট্রিটমেন্ট

আপডেট টাইম : ১২:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩

ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেন রাত ৩ টায়। ট্রিটমেন্ট শুরু হয়েছে সকাল ৭ টায়। যা হবার তাই হয়েছে। বিকেল ৪ টায় মারা গেলো ৬ বছরের শিশু সন্তান তাশফিন। বাবা হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, আর বলছিলেন, রাতে জুনিয়র ডাক্তাররা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছিলেন না। তাকে বলা হলো, সকালে বড় ডাক্তাররা এলে ট্রিটমেন্ট শুরু করবেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে অক্সিজেনটুকু দিতে পারছিলেন না কর্তব্যরত চিকিৎসক। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাচ্চাটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে, সেই গাড়ি থেকে নিয়ে অক্সিজেন দিতে বলেন। তাই করলেন বাবা। তারপরও শিশুটিকে বাঁচানো গেলো না। বাবার আক্ষেপ, রক্তের প্লাটিলেট কমে যাচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পরপর ট্রিটমেন্ট শুরু করলে বাচ্চাটিকে হয়তো বাঁচানো যেতো। এই আক্ষেপ নিয়েই হয়তো বাবাকে বাকী জীবন কাটাতে হবে। বাবা আরটিভি অনলাইনের সিনিয়র সাব-এডিটর আবুল হাসান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাবার হাতে সন্তানের লাশ দাফন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার কি কোনো উন্নতি হয়েছে? একজন বাবা রাত তিনটায় অক্সিজেন পাবেন না, আইসিইউ পাবেন না, সিনিয়র ডাক্তার পাবেন না, তাহলে কিসের উন্নতি? তদবির ছাড়া, উৎকোচ ছাড়া কেউ কি সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পেয়েছেন? এখনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের দুর্ব্যবহারে ব্যথিত রোগী ও তাদের স্বজনরা। বারবার সাধারণ জনগণ দাবি জানিয়ে আসছেন, ভিআইপিদের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে করানোর। সেই দাবিও উপেক্ষিত হয়ে আসছে। জনগণের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালের চিত্র পাল্টে যেত। ভিআইপিরা সারাদিন দেশপ্রেমের বুলি আওড়াবেন, আর চিকিৎসা করাবেন বিদেশে কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে, এটা জনগণের সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া আর কি!

লেখক : আকতার হোসেন
বার্তা সম্পাদক, আরটিভি