ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবন যাপন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
  • ১১৫ বার

গোলসান আরা বেগমঃ যতবার গ্রামের বাড়িতে যাই ততবার আশপড়শি মানুষের শুকনা মুখের জীবন যাপন দেখে মন খারাপ করে ঢাকায় ফিরি। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দারিদ্র্যতার সাথে লাড়াই দেখে, নিজেকে প্রশ্ন করি — এ কি দেখছি। এর জন্যই কি পূর্ব পুরুষরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলো।শহর ও গাঁয়ের মানুষের জীবন যাপনের মধ্যেই-বা এতো ব্যবধান কেন?

শহরের কেউ কেউ ফাস্ট ফুড,রিচ ফুড মুখে তুলে, এসি ঘরে আয়েসি জীবন কাটায়।কেউ-বা প্রচুর খাটাখাটি করে লবণ লংকায় বেঁচে থাকে। মধ্যবিত্তরা হাতে ভাতে পার করে দিন রাত। শহরে রয়েছে আলো ঝলমল চোখ ধাঁধানো ভোগ বিলাসের আয়োজন, হাইরাইজ ভবনে ফাটাফাটি বিলাসিতা। পা পরে না মাটিতে, ঘি ভাতের জীবন তাদের।

গ্রামের কথা কি আর বলবো। একজন বলছে দাঁতে তার পোকা হয়েছে,ভীষন দাঁতে ব্যথা।গতকাল দাঁত থেকে পোকা বের করেছে চারটা।আজকে একটু ভালো।
তার কাছে আমার সব বিদ্যাই ব্যর্থ।দাঁতে যে পোকা হয় না বুঝাতে পারলাম না।আবার বলছে বাম হাতে কিছু খেতে নেই, বাম হাত না কি শয়তানের হাত। এ কি কুসংস্কার?

অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে কেউ কেউ মাথায় রাখছে হাত। না পারছে সন্তানকে পড়াশোনা করাতে, না পারছে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার পরিবেশ দিতে। তাদেরকে কিছু বলতে পারছি না। মাটি ভিটে নাই,এক মাত্র হাত পা সম্বল। তারপরও একের পর এক সন্তান জন্ম দিচ্ছে। বিয়ে দিচ্ছে যৌবনের ফুল ফোটার আগেই। আবার বাচ্চাও হচ্ছে অপরিনত বয়সে।জন সংখ্যা বাড়ছে, খাবারের মুখ বাড়ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বাড়ছে,পারিবারিক বা জাতীয় উন্নয়ন হবে কি করে। এ ক্ষেত্রেও কিছু বলতে পারছি না।তাদের দৃঢ় বিশ্বাস মুখ দিয়েছে যে আধার দিবে সে। এ সব বোয়া কথা। জন্ম নিয়ন্ত্রনে সরকারের কঠোর আইন থাকা দরকার।

গ্রামের মাঠে ঘাটে ঢেউ খেলানো সবুজ তারণ্যের স্বাক্ষর,আকাশ ছোঁয়া উদাস প্রান্তর, জ্যোস্না রাতে আলো আঁধারের লুকোচুরি, হুক্কাহুয়া শিয়ালের ডাকাডাকি, ঘরের পাশে শান্ত দুপুর গড়ায়, টিনের চালে টাপুরটুপুর বৃস্টি পড়ে, বাতাসে ধান কাউনের সবুজ দুলুনি উড়ে, পূর্ণিমা রাতে ভয় ভয় ভৌতিকতা,জোনাক জ্বলা রাত ইত্যাদি সবই ভালো লাগে। ভালো লাগে গ্রামের মানুষের সারল্যে ভরা মন মানষিকতা।একে অপরের শোকে দুঃখে হাত বাড়িয়ে রাখে। পেটে ভাত না থাকলেও আন্তরিকতার অভাব নেই।

গ্রামের নারীরা জানে না তার মৌলিক অধিকার কি? কখন সন্তান ধারন করবে।জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা কি বলছে।রাষ্ট্রপতি কে হবে। ঘূর্ণি ঝড় কেন হয়। সাগর কত বড়,পাহাড় কতটুকু উচু। বাংলাদেশ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে অবস্থিত। কেন মহামারি দেখা দেয় পৃথিবীতে। তারা জানে কত ধানে কত চাল হয়। ডালে, তরকারিতে কতটুকু লবণ তেল দিতে হয়। নিজে না খেয়ে হলেও সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে হয়। মুষ্ঠির চাল চুরি করে হলেও ছেলে সন্তানটিকে মোবাইল কিনে দিতে হয়। নারী আধাপেট ভরে খায় ঘুমায়,রান্নাবান্না করে, প্রতিদিনের কাজের রুটিন উল্টায়। সকাল থেকে সন্ধ্যাবধি নিদারুন পরিশ্রম করে। সে ব্যক্তিগত চাহিদার দিকেও নজর দিতে পারে না। তার যে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি নেই,সে ব্যাপারেও নেই মাথা ব্যথা।

বিদ্যুত না থাকলেও কূপি বাতির নীচে সাজায় সন্ধ্যায় রান্নার পসরা।সন্ধ্যায় হাঁস মুরগী ঘরে তোলে। চালের গুড়ায় নূনচিটা দিয়ে যে পিঠা বানায়, তা সন্তানেরা চূলার পাশে বসে খায় আর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এদিকে ঘরের উপর ঘর ওঠছে, কৃষিজমি কমে আসছে, পরবর্তী প্রজন্মের উপায় কি হবে গ্রামের পুরুষরা ভাবছে না।তারা বাড়ির পাশের দোকানে বা বাজারে বসে গালগপ্প করছে আর তূণাধোলা করছে রাজনীতির। সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাচ্ছ,ওঠাচ্ছে,মাটিতে আচাড় মারছে — এই হলো গ্রাম্য সংস্কৃতির হালচাল।

গ্রামের নারীরা সবালম্বী হওয়ার জন্য কেউ কেউ হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা। গরু মোটাতাজা করন,ছাগল পালন, হাঁসমুরগীর খামার করা, কুটির শিল্প স্থাপন ইত্যাদি নানা কাজ করে ছোট আঙ্গিকে কলে অর্থনৈতিক ক্ষতায়নে রাখছে অবদান। কেউবা হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার,সচেতন করছে অন্য নারীকে। গ্রামের রাস্তা মেরামত করতে দৈনিক মুজুরির ভিত্তিতে নারীরা কাজ করছে।কেউ বিদেশে পারি জমাচ্ছে আয় রোজগারের জন্য। মাটি কাটা, ইট ভাঙ্গা, চাষবাস করা সহ সকল কাজই নারীরা করছে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে।

অথচ নেই সেই নারীর জঠর নিসৃত সন্তানের উপর মালিকানা। সংসারের হাড়িপাতিল, ঘটিবাটিতে সূঁই তূল্য পরিমান অধিকার নাই।স্বামী মারা গেলে সমগ্র সম্পদের দু’আনা পাবে স্ত্রী,বাবা মারা গেলে এক ভাইয়ের অর্ধেক পরিমান সম্পদ পাবে বোনে মুসলিম শরীয়া আইন মোতাবেক। তাও দিতে চায় না বা নারী তা উদ্ধার করতে পারে না।স্বামী তিন তালাকের পত্রটি ধরিয়ে দিলে, সে নারীর রাস্তায় নামা ছাড়া কোন গতি থাকে না, যদি বাবা ভাই তাদের দয়ার দরজা বন্ধ করে দেয়। নারী যদি অর্থে বিত্তে স্বাবলম্বি হয়, তা হলে অন্য কথা। আমি বলছি তৃণমূল পর্যায়ের ছিন্নমূল নারী প্রসঙ্গে।

যখন দেখি কাঠফাটা দুপুরে কৃষি কাজে ব্যস্ত কৃষক, গোবর মাথায় নিয়ে যায় ক্ষেতে। ঘাম ঝরিয়ে কৃষানি বানায় গোবর দিয়ে রান্নার জ্বালনী উপাদান ঘৈটা, রোগে শোকে মরছে ধুকে ধুকে, তখন চোখ মুখ স্থির রাখতে পারি না। তারাও উন্নত জীবন উপভোগ করতে পারতো।আমিও তো তাদের পাশের ঘরে কাদামাটিতে জন্ম নিয়ে ওঠে এসেছি শহরের উচু তলায়।তবে সাধনার বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে। আমিও জানি কি কষ্ট তৃণমুলের জীবনে। শিশিরে ফুটে তাদের স্বপ্ন আবার শিশিরে ঝরে যায়। ভুলতে পারি না তাদের কষ্টের ইতি আদি কথা, তাই হাতে তুলেছি কলম।হায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কষ্টের জীবন যাপন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

হায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবন যাপন

আপডেট টাইম : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

গোলসান আরা বেগমঃ যতবার গ্রামের বাড়িতে যাই ততবার আশপড়শি মানুষের শুকনা মুখের জীবন যাপন দেখে মন খারাপ করে ঢাকায় ফিরি। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দারিদ্র্যতার সাথে লাড়াই দেখে, নিজেকে প্রশ্ন করি — এ কি দেখছি। এর জন্যই কি পূর্ব পুরুষরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলো।শহর ও গাঁয়ের মানুষের জীবন যাপনের মধ্যেই-বা এতো ব্যবধান কেন?

শহরের কেউ কেউ ফাস্ট ফুড,রিচ ফুড মুখে তুলে, এসি ঘরে আয়েসি জীবন কাটায়।কেউ-বা প্রচুর খাটাখাটি করে লবণ লংকায় বেঁচে থাকে। মধ্যবিত্তরা হাতে ভাতে পার করে দিন রাত। শহরে রয়েছে আলো ঝলমল চোখ ধাঁধানো ভোগ বিলাসের আয়োজন, হাইরাইজ ভবনে ফাটাফাটি বিলাসিতা। পা পরে না মাটিতে, ঘি ভাতের জীবন তাদের।

গ্রামের কথা কি আর বলবো। একজন বলছে দাঁতে তার পোকা হয়েছে,ভীষন দাঁতে ব্যথা।গতকাল দাঁত থেকে পোকা বের করেছে চারটা।আজকে একটু ভালো।
তার কাছে আমার সব বিদ্যাই ব্যর্থ।দাঁতে যে পোকা হয় না বুঝাতে পারলাম না।আবার বলছে বাম হাতে কিছু খেতে নেই, বাম হাত না কি শয়তানের হাত। এ কি কুসংস্কার?

অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে কেউ কেউ মাথায় রাখছে হাত। না পারছে সন্তানকে পড়াশোনা করাতে, না পারছে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার পরিবেশ দিতে। তাদেরকে কিছু বলতে পারছি না। মাটি ভিটে নাই,এক মাত্র হাত পা সম্বল। তারপরও একের পর এক সন্তান জন্ম দিচ্ছে। বিয়ে দিচ্ছে যৌবনের ফুল ফোটার আগেই। আবার বাচ্চাও হচ্ছে অপরিনত বয়সে।জন সংখ্যা বাড়ছে, খাবারের মুখ বাড়ছে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বাড়ছে,পারিবারিক বা জাতীয় উন্নয়ন হবে কি করে। এ ক্ষেত্রেও কিছু বলতে পারছি না।তাদের দৃঢ় বিশ্বাস মুখ দিয়েছে যে আধার দিবে সে। এ সব বোয়া কথা। জন্ম নিয়ন্ত্রনে সরকারের কঠোর আইন থাকা দরকার।

গ্রামের মাঠে ঘাটে ঢেউ খেলানো সবুজ তারণ্যের স্বাক্ষর,আকাশ ছোঁয়া উদাস প্রান্তর, জ্যোস্না রাতে আলো আঁধারের লুকোচুরি, হুক্কাহুয়া শিয়ালের ডাকাডাকি, ঘরের পাশে শান্ত দুপুর গড়ায়, টিনের চালে টাপুরটুপুর বৃস্টি পড়ে, বাতাসে ধান কাউনের সবুজ দুলুনি উড়ে, পূর্ণিমা রাতে ভয় ভয় ভৌতিকতা,জোনাক জ্বলা রাত ইত্যাদি সবই ভালো লাগে। ভালো লাগে গ্রামের মানুষের সারল্যে ভরা মন মানষিকতা।একে অপরের শোকে দুঃখে হাত বাড়িয়ে রাখে। পেটে ভাত না থাকলেও আন্তরিকতার অভাব নেই।

গ্রামের নারীরা জানে না তার মৌলিক অধিকার কি? কখন সন্তান ধারন করবে।জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা কি বলছে।রাষ্ট্রপতি কে হবে। ঘূর্ণি ঝড় কেন হয়। সাগর কত বড়,পাহাড় কতটুকু উচু। বাংলাদেশ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে অবস্থিত। কেন মহামারি দেখা দেয় পৃথিবীতে। তারা জানে কত ধানে কত চাল হয়। ডালে, তরকারিতে কতটুকু লবণ তেল দিতে হয়। নিজে না খেয়ে হলেও সন্তানের মুখে ভাত তুলে দিতে হয়। মুষ্ঠির চাল চুরি করে হলেও ছেলে সন্তানটিকে মোবাইল কিনে দিতে হয়। নারী আধাপেট ভরে খায় ঘুমায়,রান্নাবান্না করে, প্রতিদিনের কাজের রুটিন উল্টায়। সকাল থেকে সন্ধ্যাবধি নিদারুন পরিশ্রম করে। সে ব্যক্তিগত চাহিদার দিকেও নজর দিতে পারে না। তার যে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি নেই,সে ব্যাপারেও নেই মাথা ব্যথা।

বিদ্যুত না থাকলেও কূপি বাতির নীচে সাজায় সন্ধ্যায় রান্নার পসরা।সন্ধ্যায় হাঁস মুরগী ঘরে তোলে। চালের গুড়ায় নূনচিটা দিয়ে যে পিঠা বানায়, তা সন্তানেরা চূলার পাশে বসে খায় আর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এদিকে ঘরের উপর ঘর ওঠছে, কৃষিজমি কমে আসছে, পরবর্তী প্রজন্মের উপায় কি হবে গ্রামের পুরুষরা ভাবছে না।তারা বাড়ির পাশের দোকানে বা বাজারে বসে গালগপ্প করছে আর তূণাধোলা করছে রাজনীতির। সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাচ্ছ,ওঠাচ্ছে,মাটিতে আচাড় মারছে — এই হলো গ্রাম্য সংস্কৃতির হালচাল।

গ্রামের নারীরা সবালম্বী হওয়ার জন্য কেউ কেউ হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা। গরু মোটাতাজা করন,ছাগল পালন, হাঁসমুরগীর খামার করা, কুটির শিল্প স্থাপন ইত্যাদি নানা কাজ করে ছোট আঙ্গিকে কলে অর্থনৈতিক ক্ষতায়নে রাখছে অবদান। কেউবা হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার,সচেতন করছে অন্য নারীকে। গ্রামের রাস্তা মেরামত করতে দৈনিক মুজুরির ভিত্তিতে নারীরা কাজ করছে।কেউ বিদেশে পারি জমাচ্ছে আয় রোজগারের জন্য। মাটি কাটা, ইট ভাঙ্গা, চাষবাস করা সহ সকল কাজই নারীরা করছে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে।

অথচ নেই সেই নারীর জঠর নিসৃত সন্তানের উপর মালিকানা। সংসারের হাড়িপাতিল, ঘটিবাটিতে সূঁই তূল্য পরিমান অধিকার নাই।স্বামী মারা গেলে সমগ্র সম্পদের দু’আনা পাবে স্ত্রী,বাবা মারা গেলে এক ভাইয়ের অর্ধেক পরিমান সম্পদ পাবে বোনে মুসলিম শরীয়া আইন মোতাবেক। তাও দিতে চায় না বা নারী তা উদ্ধার করতে পারে না।স্বামী তিন তালাকের পত্রটি ধরিয়ে দিলে, সে নারীর রাস্তায় নামা ছাড়া কোন গতি থাকে না, যদি বাবা ভাই তাদের দয়ার দরজা বন্ধ করে দেয়। নারী যদি অর্থে বিত্তে স্বাবলম্বি হয়, তা হলে অন্য কথা। আমি বলছি তৃণমূল পর্যায়ের ছিন্নমূল নারী প্রসঙ্গে।

যখন দেখি কাঠফাটা দুপুরে কৃষি কাজে ব্যস্ত কৃষক, গোবর মাথায় নিয়ে যায় ক্ষেতে। ঘাম ঝরিয়ে কৃষানি বানায় গোবর দিয়ে রান্নার জ্বালনী উপাদান ঘৈটা, রোগে শোকে মরছে ধুকে ধুকে, তখন চোখ মুখ স্থির রাখতে পারি না। তারাও উন্নত জীবন উপভোগ করতে পারতো।আমিও তো তাদের পাশের ঘরে কাদামাটিতে জন্ম নিয়ে ওঠে এসেছি শহরের উচু তলায়।তবে সাধনার বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে। আমিও জানি কি কষ্ট তৃণমুলের জীবনে। শিশিরে ফুটে তাদের স্বপ্ন আবার শিশিরে ঝরে যায়। ভুলতে পারি না তাদের কষ্টের ইতি আদি কথা, তাই হাতে তুলেছি কলম।হায় তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কষ্টের জীবন যাপন।