ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে দুই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা আব্বাস ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাসের সেরা ২ নারী গোয়েন্দা ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী দক্ষিণখানে অস্ত্র-মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

ইউরোপে মসজিদের ছবির অভিনব সংগ্রহ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩
  • ১৬৭ বার

বেলারুশের মতো দেশেও যে মসজিদ রয়েছে, সেটা ক’জন জানেন? এক জার্মান-ডেনিশ ফটোগ্রাফার ইউরোপের মসজিদ ও ইসলামি স্থাপত্যের ছবি তুলে সংকলন প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙতে চান তিনি।

প্রাচ্যদেশীয় অলংকার, ক্যালিগ্রাফি ও জমকালো ঝাড়বাতি হোক বা কোপেনহেগেনের প্রধান মসজিদের স্থাপত্য ও নান্দনিকতা– এমন সব স্থাপনা জার্মান-ডেনিশ আলোকচিত্রী একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেনকে মুগ্ধ করে। শুধু তাই নয়, সামগ্রিকভাবে তার কাছে মসজিদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

একহার্ড বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে শান্ত পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করে। মানুষ সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্যালিগ্রাফি পড়তে পারেন, অন্যান্য মুসলিমদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। অবশ্যই নামাজ পড়া তো যায়ই। শান্তিতে পরিবেশও উপভোগ করা যায়।’

ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি অনেক বছর ধরে ইউরোপের মসজিদ ও ইসলামি স্থাপত্য নথিভুক্ত করে চলেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো ইউরোপের ১৫টি দেশে তিনি ৭০টিরও বেশি মসজিদের ছবি তুলেছেন। সেই ছবির একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়েছে।

ইসলামি বিশ্বের সঙ্গে একটি পার্থক্য তিনি লক্ষ্য করেছেন। একহার্ডের মতে, মুসলিম দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপের মসজিদগুলোর আকার-আয়তন ও চাকচিক্য কম।

ইউরোপের মসজিদগুলোতে সাধারণত লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আযান দেওয়ার অনুমতি নেই। বহুকাল আযানের মিনার নির্মাণেরও অনুমতি ছিল না। তবে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেক মসজিদ বাইরে থেকেও সহজে চেনা যায়।

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন বলেন, ‘ডেনমার্কে নতুন ও আধুনিক মসজিদে মিনার তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। আগে সেটা সম্ভব ছিল না। ১৯৬৪ সালে কোপেনহেগেনের বাইরে প্রথম মসজিদ তৈরির সময়ে সেটা স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত আজ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন জার্মানির পশ্চিমে আখেন শহরে এক রক্ষণশীল খ্রিস্টান পরিবারে বড় হয়েছেন। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষে তিনি জার্মানি ছেড়ে এশিয়া ও আফ্রিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। মিসরে গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

১৯৯২ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হন। তখন তার বয়স তিরিশের শেষ দিকে। ইউরোপীয় মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয়ের খোঁজে তিনি ফটোগ্রাফিকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন।

একহার্ড বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম, আমি আসলে ইউরোপীয় ইসলামি স্থাপত্যের সন্ধান করছি। সেটা আমার এত ভালো লেগেছিল, যে আমি সরাসরি এই সব মসজিদ ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এগুলো আমারই মসজিদ, আমার বিশাল ভালোবাসা।’

দুই দশক ধরে একহার্ড যে সব মসজিদের ছবি তুলে চলেছেন, সেগুলো একাধিক প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে। তার বইয়ে ব্যক্তিগত স্তরে সবচেয়ে প্রিয় মসজিদগুলোর ছবি স্থান পেয়েছে।

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন বলেন, ‘বেলারুশের মসজিদ আমার সবচেয়ে প্রিয়। হলুদ আমার সবচেয়ে পছন্দের রং বলে হলুদ রংয়ের এই মসজিদ মনে ধরেছে। ডেনিশ ভাষায় একটি বই আমার অন্য প্রকল্প। সেটির মধ্যে এই বইয়ের তুলনায়ও বেশি অভিব্যক্তি ফুটে উঠবে।’

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন ডেনমার্কেই বাসা বেঁধেছেন। নিজের তোলা ছবির মধ্যে তিনি নিজের জীবনকাহিনীর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ইউরোপে মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ইউরোপে মসজিদের ছবির অভিনব সংগ্রহ

আপডেট টাইম : ১০:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩

বেলারুশের মতো দেশেও যে মসজিদ রয়েছে, সেটা ক’জন জানেন? এক জার্মান-ডেনিশ ফটোগ্রাফার ইউরোপের মসজিদ ও ইসলামি স্থাপত্যের ছবি তুলে সংকলন প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙতে চান তিনি।

প্রাচ্যদেশীয় অলংকার, ক্যালিগ্রাফি ও জমকালো ঝাড়বাতি হোক বা কোপেনহেগেনের প্রধান মসজিদের স্থাপত্য ও নান্দনিকতা– এমন সব স্থাপনা জার্মান-ডেনিশ আলোকচিত্রী একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেনকে মুগ্ধ করে। শুধু তাই নয়, সামগ্রিকভাবে তার কাছে মসজিদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

একহার্ড বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে শান্ত পরিবেশ আমাকে মুগ্ধ করে। মানুষ সেখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্যালিগ্রাফি পড়তে পারেন, অন্যান্য মুসলিমদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। অবশ্যই নামাজ পড়া তো যায়ই। শান্তিতে পরিবেশও উপভোগ করা যায়।’

ফটোগ্রাফার হিসেবে তিনি অনেক বছর ধরে ইউরোপের মসজিদ ও ইসলামি স্থাপত্য নথিভুক্ত করে চলেছেন। জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো ইউরোপের ১৫টি দেশে তিনি ৭০টিরও বেশি মসজিদের ছবি তুলেছেন। সেই ছবির একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়েছে।

ইসলামি বিশ্বের সঙ্গে একটি পার্থক্য তিনি লক্ষ্য করেছেন। একহার্ডের মতে, মুসলিম দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপের মসজিদগুলোর আকার-আয়তন ও চাকচিক্য কম।

ইউরোপের মসজিদগুলোতে সাধারণত লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আযান দেওয়ার অনুমতি নেই। বহুকাল আযানের মিনার নির্মাণেরও অনুমতি ছিল না। তবে ইউরোপে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অনেক মসজিদ বাইরে থেকেও সহজে চেনা যায়।

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন বলেন, ‘ডেনমার্কে নতুন ও আধুনিক মসজিদে মিনার তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। আগে সেটা সম্ভব ছিল না। ১৯৬৪ সালে কোপেনহেগেনের বাইরে প্রথম মসজিদ তৈরির সময়ে সেটা স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত আজ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন জার্মানির পশ্চিমে আখেন শহরে এক রক্ষণশীল খ্রিস্টান পরিবারে বড় হয়েছেন। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষে তিনি জার্মানি ছেড়ে এশিয়া ও আফ্রিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। মিসরে গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

১৯৯২ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হন। তখন তার বয়স তিরিশের শেষ দিকে। ইউরোপীয় মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয়ের খোঁজে তিনি ফটোগ্রাফিকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন।

একহার্ড বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম, আমি আসলে ইউরোপীয় ইসলামি স্থাপত্যের সন্ধান করছি। সেটা আমার এত ভালো লেগেছিল, যে আমি সরাসরি এই সব মসজিদ ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এগুলো আমারই মসজিদ, আমার বিশাল ভালোবাসা।’

দুই দশক ধরে একহার্ড যে সব মসজিদের ছবি তুলে চলেছেন, সেগুলো একাধিক প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে। তার বইয়ে ব্যক্তিগত স্তরে সবচেয়ে প্রিয় মসজিদগুলোর ছবি স্থান পেয়েছে।

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন বলেন, ‘বেলারুশের মসজিদ আমার সবচেয়ে প্রিয়। হলুদ আমার সবচেয়ে পছন্দের রং বলে হলুদ রংয়ের এই মসজিদ মনে ধরেছে। ডেনিশ ভাষায় একটি বই আমার অন্য প্রকল্প। সেটির মধ্যে এই বইয়ের তুলনায়ও বেশি অভিব্যক্তি ফুটে উঠবে।’

একহার্ড আহমেদ ক্রাউসেন ডেনমার্কেই বাসা বেঁধেছেন। নিজের তোলা ছবির মধ্যে তিনি নিজের জীবনকাহিনীর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ইউরোপে মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।