ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের আবেদন খারিজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩
  • ৭৫ বার

নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের ওপর ভর দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পারলেও আলোচিত তোশাখানা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা ইমরান খান।

ইসলামাবাদের অতিরিক্ত জেলা ও সেশন জজ জাফর ইকবাল বৃহস্পতিবার এক শুনানিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের এ সংক্রান্ত একটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগামী ১৮ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত আরও বলেছেন,পরোয়ানা স্থগিত করা যাবে না; ইমরান খান যদি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন— কেবল তাহলেই তা বাতিল হবে।

বৃহস্পতিবারের নির্দেশে আদালত বলেন, ‘আইনের প্রতিটি দিক পর্যালোচনা করে (জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারির) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (গ্রেপ্তার পরোয়ানা স্থগিতের) পিটিশনকারীদের যদি এ ব্যাপরে কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে তারা রায়ের বিস্তারিত অনুলিপি পড়ে দেখতে পারেন।’

বিচারক আরও বলেন, ‘আদালতের কাছ থেকে কোনও আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করার আগে ইমরান খানের উচিত আত্মসমর্পণ করা। যদি তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন— কেবল তাহলেই এই পরোয়ানা স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।’

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা তোশাখানা মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেদিন মামলার প্রধান আসামি ইমরান খান আদালতে উপস্থিত না থাকায় অভিযোগ গঠন করা যায়নি।

তারপর অভিযোগ গঠনের জন্য আরও ৪ বার দিন নির্ধারণ করেন আদালত; কিন্তু একবারও ইমরান হাজির না হওয়ায় গত ১৩ মার্চ তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।

সেই অনুযায়ী গত ১৪ মার্চ ইসলামাবাদ পুলিশের একটি দল ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে তার লাহোরের বাসভবনেও গিয়েছিল, কিন্তু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও হামলার কারণে তাকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরে যেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। বেশ কয়েকজন সদস্য পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহতও হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিচারকের লিখিত নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, ‘রেকর্ড থেকে এটি স্পষ্ট যে, আবেদনকারী কখনও আদালতে হাজির হননি। চারবার তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে (ইমরান) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে অনেক মানুষ আহত হয়েছে, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিটিআই প্রধান আদালতের মর্যাদা ও নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।’

‘পুলিশ তাদের কর্তব্য করতে গিয়ে বাধার মুখে শক্তি প্রয়োগ করেছে। এমন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটানোর পর আবেদনকারী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের দাবি করতে পারেন না।

‘আবেদনকারীর সৃষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি প্রক্রিয়াগত এবং আইনের দিক থেকে মঞ্জুর করা যায় এমন কিছু অধিকার হারিয়েছেন। আদালতের প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করায় তাকে আদতেই আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

তোশাখানা মামলা

গত শতকের সত্তরের দশকে পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ হিসেবে তোশাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই বিভাগটি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য বিশিষ্ট জনদের দেওয়া উপহার জমা রাখে।

তোশাখানার নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা বা সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের পাওয়া সব উপহার অবশ্যই এই বিভাগে জমা দিতে হবে। যারা এসব উপহার পেয়েছেন তারা পরে এগুলো কিনে নিতে পারবেন। কিনে নেওয়ার পর এসব উপহার বিক্রির বিষয়টি অবৈধ না হলেও অনেকেই এটিকে অনৈতিক বা নীতিগতভাবে ভুল বলে মনে করেন।

ইমরানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জিনিসের ৫৮টি বাক্স উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

গত বছর আগস্টে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের সবচেয়ে বড় শরিক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজের (পিএমএলএন) সদস্য মোহসিন নওয়াজ রানঝা ইমরানের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় তোষাখানা থেকে বিদেশি বিশিষ্টজনদের দেওয়া উপহার কিনলেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সেগুলোর উল্লেখ করেননি।

এ সম্পর্কে গত ২২ আগস্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ ‍নির্বাচনক কমিশনকে দেওয়া এক চিঠিতে ইমরান খানকে ‘অসৎ’ ঘোষণা করে তাকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজের ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তোশাখানা থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব উপহার নিয়েছেন এবং এসব উপহারের অধিকাংশই তিনি বিক্রি করেছেন।

উপহারের মধ্যে কিছু দামি হাতঘড়িও রয়েছে। এসব উপহারের আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপি। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ইমরান খান এসব উপহার গ্রহণ করেছিলেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন স্পিকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

ইমরান খানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের আবেদন খারিজ

আপডেট টাইম : ০১:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের ওপর ভর দিয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে পারলেও আলোচিত তোশাখানা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা ইমরান খান।

ইসলামাবাদের অতিরিক্ত জেলা ও সেশন জজ জাফর ইকবাল বৃহস্পতিবার এক শুনানিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানের এ সংক্রান্ত একটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগামী ১৮ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত আরও বলেছেন,পরোয়ানা স্থগিত করা যাবে না; ইমরান খান যদি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন— কেবল তাহলেই তা বাতিল হবে।

বৃহস্পতিবারের নির্দেশে আদালত বলেন, ‘আইনের প্রতিটি দিক পর্যালোচনা করে (জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারির) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (গ্রেপ্তার পরোয়ানা স্থগিতের) পিটিশনকারীদের যদি এ ব্যাপরে কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে তারা রায়ের বিস্তারিত অনুলিপি পড়ে দেখতে পারেন।’

বিচারক আরও বলেন, ‘আদালতের কাছ থেকে কোনও আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করার আগে ইমরান খানের উচিত আত্মসমর্পণ করা। যদি তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন— কেবল তাহলেই এই পরোয়ানা স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।’

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা তোশাখানা মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেদিন মামলার প্রধান আসামি ইমরান খান আদালতে উপস্থিত না থাকায় অভিযোগ গঠন করা যায়নি।

তারপর অভিযোগ গঠনের জন্য আরও ৪ বার দিন নির্ধারণ করেন আদালত; কিন্তু একবারও ইমরান হাজির না হওয়ায় গত ১৩ মার্চ তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।

সেই অনুযায়ী গত ১৪ মার্চ ইসলামাবাদ পুলিশের একটি দল ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে তার লাহোরের বাসভবনেও গিয়েছিল, কিন্তু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও হামলার কারণে তাকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরে যেতে হয় পুলিশ সদস্যদের। বেশ কয়েকজন সদস্য পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহতও হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিচারকের লিখিত নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, ‘রেকর্ড থেকে এটি স্পষ্ট যে, আবেদনকারী কখনও আদালতে হাজির হননি। চারবার তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে (ইমরান) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে অনেক মানুষ আহত হয়েছে, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিটিআই প্রধান আদালতের মর্যাদা ও নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।’

‘পুলিশ তাদের কর্তব্য করতে গিয়ে বাধার মুখে শক্তি প্রয়োগ করেছে। এমন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটানোর পর আবেদনকারী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিতের দাবি করতে পারেন না।

‘আবেদনকারীর সৃষ্ট আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি প্রক্রিয়াগত এবং আইনের দিক থেকে মঞ্জুর করা যায় এমন কিছু অধিকার হারিয়েছেন। আদালতের প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করায় তাকে আদতেই আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।’

তোশাখানা মামলা

গত শতকের সত্তরের দশকে পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ হিসেবে তোশাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই বিভাগটি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য বিশিষ্ট জনদের দেওয়া উপহার জমা রাখে।

তোশাখানার নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা বা সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের পাওয়া সব উপহার অবশ্যই এই বিভাগে জমা দিতে হবে। যারা এসব উপহার পেয়েছেন তারা পরে এগুলো কিনে নিতে পারবেন। কিনে নেওয়ার পর এসব উপহার বিক্রির বিষয়টি অবৈধ না হলেও অনেকেই এটিকে অনৈতিক বা নীতিগতভাবে ভুল বলে মনে করেন।

ইমরানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জিনিসের ৫৮টি বাক্স উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

গত বছর আগস্টে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের সবচেয়ে বড় শরিক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজের (পিএমএলএন) সদস্য মোহসিন নওয়াজ রানঝা ইমরানের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় তোষাখানা থেকে বিদেশি বিশিষ্টজনদের দেওয়া উপহার কিনলেও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সেগুলোর উল্লেখ করেননি।

এ সম্পর্কে গত ২২ আগস্ট পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ ‍নির্বাচনক কমিশনকে দেওয়া এক চিঠিতে ইমরান খানকে ‘অসৎ’ ঘোষণা করে তাকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজের ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তোশাখানা থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব উপহার নিয়েছেন এবং এসব উপহারের অধিকাংশই তিনি বিক্রি করেছেন।

উপহারের মধ্যে কিছু দামি হাতঘড়িও রয়েছে। এসব উপহারের আনুমানিক মূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপি। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ইমরান খান এসব উপহার গ্রহণ করেছিলেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন স্পিকার।