ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সুখবর যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড: অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সুসংবাদ! ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া সরকার : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ সমর্থন করা সংবাদমাধ্যমকে বয়কট করতে বললেন তথ্যমন্ত্রী মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি

দুধে পানি মেশানো কি না, ল্যাকটোমিটার ব্যবহার করে তা বুঝবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩
  • ৬০৮ বার

দুধকে বলা হয় সুপারফুড। ছোট-বড় সকলের জন্যই গরুর দুধ বেশ উপকারী খাবার। কিন্তু খাঁটি দুধ সর্বত্র মেলে না। ক্রমশ বেড়ে চলেছে ভেজাল দুধের দৌরাত্ম। এক সময় শুধু পানি মিশিয়ে ভেজাল করা হলেও, বর্তমানে গরুর দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার, ফরমালিন, গ্লুকোজ, সাবানসহ নানাকিছু মেশানো হচ্ছে। দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি, ঘনত্ব বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়িত্ব বৃদ্ধি কিংবা স্বাদ অপরিবর্তিত রাখার জন্য এসব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ খাঁটি দুধের পরিবর্তে সরবরাহ করা হচ্ছে রাসায়নিক দুধ। ভেজাল দুধ উপকারের পরিবর্তে সৃষ্টি করছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আপনি প্রতিদিন যার কাছ থেকে গরুর দুধ নিচ্ছেন, কিংবা দোখান থেকে নিচ্ছেন, তাদের থেকে খাঁটি দুধ দিচ্ছেন নাকি ভেজাল- বোঝার কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক।

দুধে পানি মেশানো কিনা বোঝার উপায় হলো, ঢালু কোনো মসৃণ পৃষ্ঠের ওপর কয়েক ফোঁটা দুধ ফেলুন। খাঁটি দুধ হলে তা আস্তে আস্তে গড়িয়ে যাবে এবং দুধের সাদা দাগ দেখা যাবে। ভেজাল হলে দুধ দ্রুত গড়িয়ে যাবে এবং সাদা দাগ দেখা যাবে না।

এছাড়া ল্যাক্টোমিটার নামক একটি যন্ত্র দিয়ে পানি মেশানো দুধ সহজেই শনাক্ত করা যায়। দুধ থেকে মাখন তুলে নিলে বা দুধে পানি মেশালে দুধের আপেক্ষিক ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটে। ল্যাকটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজেই এটি ধরা যায়। এই পরিমাপক যন্ত্রের মধ্যে লাল রেখা রয়েছে, যেখানে দুধের ঘনত্ব পরিমাপের জন্য কিছু নম্বর দেয়া থাকে। যখন এই লাল রেখা ৩০ নম্বরে থাকে তার মানে হচ্ছে দুধে অন্যান্য পদার্থের মিশ্রণ খুব কম।

যদি এই দাগ ৩০ এর উপর যায় তাহলে পরিমাপক যন্ত্র অনুযায়ী ১/৪ পানি, আরো উপরে গেলে অর্ধেক পানি অর্ধেক দুধ। লাল রেখাটি এর থেকেও উপরে যদি উঠতে থাকে তাতে বুঝা যাবে অল্প দুধ আর বাকিটুকু মিশ্রিত পানি। যদি লাল রেখাটি ৩০ এর ঘরে থাকে তাহলে দুধে পানির পরিমাণ খুব সীমিত অথবা নেই। ল্যাক্টোমিটার যন্ত্রটি আপনি নিকটস্থ বাজারে হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন।

দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো হয়েছে কিনা জানার উপায়: একটি গ্লাসে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার দুধ এবং সমপরিমাণ পানি নিয়ে কিছুক্ষণ ঝাঁকান। যদি ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো দুধ হয় তাহলে তাতে ঘন ফেনা দেখা যাবে। খাঁটি দুধে খুব পাতলা ফেনা সৃষ্টি হবে।

উচ্চ মাত্রার ভেজাল দিয়ে খাঁটি দুধের আদলে তৈরি করা হয় কৃত্রিম দুধ, যা সিনথেটিক দুধ হিসেবে পরিচিত। সিনথেটিক দুধের স্বাদ তেতো। সহজেই এই ভেজাল দুধ চেনার উপায় হচ্ছে, হাতের আঙুলে নিয়ে একটু ঘষলে সাবানের মতো অনুভূতি হবে। এছাড়া দুধ গরম করার পর হলদেটে রঙ ধারণ করবে।

দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে কিনা জানার উপায়: একটি কাচের গ্লাসে এক চা-চামচ দুধ নিন। এবার এতে হাফ চা-চামচ সয়াবিন বা অড়হর পাউডার মিশিয়ে মিশ্রণটি ঝাঁকান। ৫ মিনিট পর এতে একটি লাল লিটমাস পেপার ডুবান। ৩০ সেকেন্ড পর পেপারটি তুলে ফেলুন। যদি দেখেন লাল লিটমাস পেপারের ডুবানো অংশটি নীলচে রঙ ধারণ করেছে, তাহলে বুঝবেন দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে।

এদিকে গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য অতি উপকারী। দুধ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বৃদ্ধ–সবারই প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করা উচিত বলে অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সুখবর

দুধে পানি মেশানো কি না, ল্যাকটোমিটার ব্যবহার করে তা বুঝবেন যেভাবে

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩

দুধকে বলা হয় সুপারফুড। ছোট-বড় সকলের জন্যই গরুর দুধ বেশ উপকারী খাবার। কিন্তু খাঁটি দুধ সর্বত্র মেলে না। ক্রমশ বেড়ে চলেছে ভেজাল দুধের দৌরাত্ম। এক সময় শুধু পানি মিশিয়ে ভেজাল করা হলেও, বর্তমানে গরুর দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার, ফরমালিন, গ্লুকোজ, সাবানসহ নানাকিছু মেশানো হচ্ছে। দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি, ঘনত্ব বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়িত্ব বৃদ্ধি কিংবা স্বাদ অপরিবর্তিত রাখার জন্য এসব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ খাঁটি দুধের পরিবর্তে সরবরাহ করা হচ্ছে রাসায়নিক দুধ। ভেজাল দুধ উপকারের পরিবর্তে সৃষ্টি করছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আপনি প্রতিদিন যার কাছ থেকে গরুর দুধ নিচ্ছেন, কিংবা দোখান থেকে নিচ্ছেন, তাদের থেকে খাঁটি দুধ দিচ্ছেন নাকি ভেজাল- বোঝার কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক।

দুধে পানি মেশানো কিনা বোঝার উপায় হলো, ঢালু কোনো মসৃণ পৃষ্ঠের ওপর কয়েক ফোঁটা দুধ ফেলুন। খাঁটি দুধ হলে তা আস্তে আস্তে গড়িয়ে যাবে এবং দুধের সাদা দাগ দেখা যাবে। ভেজাল হলে দুধ দ্রুত গড়িয়ে যাবে এবং সাদা দাগ দেখা যাবে না।

এছাড়া ল্যাক্টোমিটার নামক একটি যন্ত্র দিয়ে পানি মেশানো দুধ সহজেই শনাক্ত করা যায়। দুধ থেকে মাখন তুলে নিলে বা দুধে পানি মেশালে দুধের আপেক্ষিক ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটে। ল্যাকটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজেই এটি ধরা যায়। এই পরিমাপক যন্ত্রের মধ্যে লাল রেখা রয়েছে, যেখানে দুধের ঘনত্ব পরিমাপের জন্য কিছু নম্বর দেয়া থাকে। যখন এই লাল রেখা ৩০ নম্বরে থাকে তার মানে হচ্ছে দুধে অন্যান্য পদার্থের মিশ্রণ খুব কম।

যদি এই দাগ ৩০ এর উপর যায় তাহলে পরিমাপক যন্ত্র অনুযায়ী ১/৪ পানি, আরো উপরে গেলে অর্ধেক পানি অর্ধেক দুধ। লাল রেখাটি এর থেকেও উপরে যদি উঠতে থাকে তাতে বুঝা যাবে অল্প দুধ আর বাকিটুকু মিশ্রিত পানি। যদি লাল রেখাটি ৩০ এর ঘরে থাকে তাহলে দুধে পানির পরিমাণ খুব সীমিত অথবা নেই। ল্যাক্টোমিটার যন্ত্রটি আপনি নিকটস্থ বাজারে হাতের কাছেই পেয়ে যাবেন।

দুধে ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো হয়েছে কিনা জানার উপায়: একটি গ্লাসে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার দুধ এবং সমপরিমাণ পানি নিয়ে কিছুক্ষণ ঝাঁকান। যদি ডিটারজেন্ট পাউডার মেশানো দুধ হয় তাহলে তাতে ঘন ফেনা দেখা যাবে। খাঁটি দুধে খুব পাতলা ফেনা সৃষ্টি হবে।

উচ্চ মাত্রার ভেজাল দিয়ে খাঁটি দুধের আদলে তৈরি করা হয় কৃত্রিম দুধ, যা সিনথেটিক দুধ হিসেবে পরিচিত। সিনথেটিক দুধের স্বাদ তেতো। সহজেই এই ভেজাল দুধ চেনার উপায় হচ্ছে, হাতের আঙুলে নিয়ে একটু ঘষলে সাবানের মতো অনুভূতি হবে। এছাড়া দুধ গরম করার পর হলদেটে রঙ ধারণ করবে।

দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে কিনা জানার উপায়: একটি কাচের গ্লাসে এক চা-চামচ দুধ নিন। এবার এতে হাফ চা-চামচ সয়াবিন বা অড়হর পাউডার মিশিয়ে মিশ্রণটি ঝাঁকান। ৫ মিনিট পর এতে একটি লাল লিটমাস পেপার ডুবান। ৩০ সেকেন্ড পর পেপারটি তুলে ফেলুন। যদি দেখেন লাল লিটমাস পেপারের ডুবানো অংশটি নীলচে রঙ ধারণ করেছে, তাহলে বুঝবেন দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে।

এদিকে গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য অতি উপকারী। দুধ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বৃদ্ধ–সবারই প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করা উচিত বলে অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।