ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

তিন দিনে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিল কৃষি বিভাগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২
  • ১৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিন দিনে রেকর্ড পরিমাণ ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু হয় গত রবিবার বিকেল থেকেই। এর পর থেকে বিপুল আবেদন জমা হতে থাকে; বুধবার পর্যন্ত ওই পরিমাণ পেঁয়াজের অনুমতি দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনে আরো এক লাখ টন যোগ হলে এই আমদানি অনুমতি বা আইপির পরিমাণ সাত লাখ টনে উন্নীত হবে।

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসার প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে স্থলবন্দর, দেশের পাইকারি ও খুচরা সবখানেই। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কোরবানি ঈদের আগেই পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এত দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা কম।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘গত বুধবার থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমাদের আড়তে এসেছে। ভারতীয় ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ আসার পর দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমে ৩৫ টাকায় নেমেছে। অথচ রবিবারও এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ’

তিনি বলেন, দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা নেই। আরো দাম কমবে এমন ভয়ে বাড়তি পেঁয়াজ কিনছে না। কোরবানির পর দাম আরো কমে যাবে।

পাইকারির পাশাপাশি চট্টগ্রামের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে পেঁয়াজের। ভারতীয় পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজিতে। আর দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও ক্রেতা নেই।

দাম ক্রমাগত কমার মূল কারণ হচ্ছে—ভারত থেকে দ্রুত পেঁয়াজ চলে আসা। সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে রবিবার বিকেলে। সোমবার সকাল থেকেই হিলি, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়ে যায়; যা কল্পনাতীত।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম বলেন, অনুমতি পাওয়ার পর বর্ডারের ওই প্রান্ত থেকে দ্রুত নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেকেই আগে-ভাগে বলে রেখেছিলেন ভারতীয় সরবরাহকারীদের। ফলে অনুমতির পর দ্রুত পেঁয়াজ আনতে বেগ পেতে হয়নি।

তিনি বলেন, ঈদের আগে আজ বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসেও ভালো পরিমাণ পেঁয়াজ ঢুকেছে। মূল পেঁয়াজ ঢুকবে ঈদের ছুটির পর ১৬ জুলাই থেকে।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিক বলেন, ‘প্রতিদিনই আমদানির অনুমতি বাড়ছে। রবিবার বিকেলে অনুমোদন ৫০০ টন ছিল; সোমবার সেটি বেড়ে ১৭ হাজার টনে দাঁড়ায়, মঙ্গলবার পৌনে চার লাখ টন। বুধবার ছয় লাখ টনে উন্নীত হয়। বৃহস্পতিবারের হিসাব পাওয়া যায়নি। কম সময়ে এত অনুমতি দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এর পরও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দিচ্ছি। ’

আমদানির অনুমতি মানেই পেঁয়াজ আসা নয়। আমদানির বিপরীতে কত টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে সেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে পারেনি উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর। তবে আমদানিকারকরা যে তথ্য দিচ্ছেন তাতে ঈদের আগ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

তিন দিনে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিল কৃষি বিভাগ

আপডেট টাইম : ১২:০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ জুলাই ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ তিন দিনে রেকর্ড পরিমাণ ছয় লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু হয় গত রবিবার বিকেল থেকেই। এর পর থেকে বিপুল আবেদন জমা হতে থাকে; বুধবার পর্যন্ত ওই পরিমাণ পেঁয়াজের অনুমতি দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনে আরো এক লাখ টন যোগ হলে এই আমদানি অনুমতি বা আইপির পরিমাণ সাত লাখ টনে উন্নীত হবে।

ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসার প্রভাব এরই মধ্যে পড়েছে স্থলবন্দর, দেশের পাইকারি ও খুচরা সবখানেই। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কোরবানি ঈদের আগেই পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এত দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা কম।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘গত বুধবার থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমাদের আড়তে এসেছে। ভারতীয় ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ আসার পর দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমে ৩৫ টাকায় নেমেছে। অথচ রবিবারও এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ’

তিনি বলেন, দাম কমলেও বাজারে ক্রেতা নেই। আরো দাম কমবে এমন ভয়ে বাড়তি পেঁয়াজ কিনছে না। কোরবানির পর দাম আরো কমে যাবে।

পাইকারির পাশাপাশি চট্টগ্রামের খুচরা বাজারেও দাম কমেছে পেঁয়াজের। ভারতীয় পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজিতে। আর দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও ক্রেতা নেই।

দাম ক্রমাগত কমার মূল কারণ হচ্ছে—ভারত থেকে দ্রুত পেঁয়াজ চলে আসা। সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে রবিবার বিকেলে। সোমবার সকাল থেকেই হিলি, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়ে যায়; যা কল্পনাতীত।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম বলেন, অনুমতি পাওয়ার পর বর্ডারের ওই প্রান্ত থেকে দ্রুত নিয়ে আসার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অনেকেই আগে-ভাগে বলে রেখেছিলেন ভারতীয় সরবরাহকারীদের। ফলে অনুমতির পর দ্রুত পেঁয়াজ আনতে বেগ পেতে হয়নি।

তিনি বলেন, ঈদের আগে আজ বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসেও ভালো পরিমাণ পেঁয়াজ ঢুকেছে। মূল পেঁয়াজ ঢুকবে ঈদের ছুটির পর ১৬ জুলাই থেকে।

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকারের কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিক বলেন, ‘প্রতিদিনই আমদানির অনুমতি বাড়ছে। রবিবার বিকেলে অনুমোদন ৫০০ টন ছিল; সোমবার সেটি বেড়ে ১৭ হাজার টনে দাঁড়ায়, মঙ্গলবার পৌনে চার লাখ টন। বুধবার ছয় লাখ টনে উন্নীত হয়। বৃহস্পতিবারের হিসাব পাওয়া যায়নি। কম সময়ে এত অনুমতি দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এর পরও অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দিচ্ছি। ’

আমদানির অনুমতি মানেই পেঁয়াজ আসা নয়। আমদানির বিপরীতে কত টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে সেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে পারেনি উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর। তবে আমদানিকারকরা যে তথ্য দিচ্ছেন তাতে ঈদের আগ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছবে।