ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হলো মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রূপান্তরের অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপ্নযাত্রায় ধীরগতি তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন দেখা হবে রাজপথে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রীকে কর্নেল অলি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২
  • ২২১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আমাদের মধ্যে অনেকেই ধবল বা শ্বেতী রোগে ভোগেন। ধবল বা শ্বেতী রোগ কি? চামড়া সাদা বা কালো যাই হোক, ত্বক বা চামড়ার স্বাভাবিক রং যখন থাকে না এবং ত্বকের একটি অস্বাভাবিক রং দেখতে পাই, তখন তাকে শ্বেতী বা ধবল রোগ বলা হয়।

ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ আছে যা মেলানিন নামক একটি রং উৎপাদন করে এবং এই মেলানিনের কারণেই আমরা ত্বকের স্বাভাবিক রংটি দেখতে পাই। এই মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে বা সংখ্যায় কমে গেলে কিংবা মরে গেলে মেলানিন নামক রং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই নির্দিষ্ট স্থানে সাদা দাগ পড়ে।

যাদের ডায়বেটিস আছে কিংবা থাইরয়েডের রোগ থাইরোডাইটিস আছে তাদের শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। বিশেষ এক জাতের রক্তশুন্যতা থেকেও এই রোগটি হতে পারে। শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে বা প্রাণঘাতী রোগ নয়।

শ্বেতী রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক বিরূপ ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারেননি। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

শ্বেতী রোগের কারণ

এটি কোনো বিপজ্জনক রোগ নয়। শ্বেতীরোগের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিম্নলিখিত কারনে এ রোগ হতে পারে-

বংশগত কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগ হতে পারে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম পরেও এ রোগ হতে দেখা যায়। প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যবহৃত ক্যামিক্যাল বা সিন্থেটিক জাতীয় জিনিস থেকে এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় শ্বেতী হতে পারে।

চশমার ফ্রেম বেশি আঁটসাঁট হলে তা থেকে নাকের দু’পাশে বা কানের কাছে সাদা হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি থাকলে হতে পারে। রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া অথবা মানসিক চাপ থেকে হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে কপালে পড়ার সিন্থেটিক টিপ থেকেও শ্বেতীর শুরু হতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে প্লাস্টিক বা রাবারের জুতা, ঘড়ি প্রভৃতি ব্যবহারের ফলেও শ্বেতী বা অন্যান্য চামড়ার সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

শ্বেতী বা ধবল রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে সহজেই এই রোগের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন- ত্বকের উপর সাদা দাগ পড়বে, অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু অথবা দাড়ি সাদা বা ধূসর হয়ে যাবে, মুখের ভিতরের কলাগুলো বর্ণহীন হবে অথবা চোখের ভিতরের অংশে রংয়ের পরিবর্তন হলে বা রংহীন হলে ধরে নিতে হবে ঐ ব্যক্তি ধবল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

চিকিৎসা

শ্বেতী রোগের চিকিৎসা অনেক সময়সাপেক্ষ আবার পুরোপুরি নাও সারতে পারে। সাধারণভাবে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। শ্বেতীর চিকিৎসায় সেরে উঠার জন্য রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। দেহের লোমশ অংশের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় কিন্তু যেসব অংশে লোম থাকে না, যেমন আঙুল, ঠোঁট ইত্যাদির চিকিৎসায় দীর্ঘসময় লেগে যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিজে নিজেই সেরে যেতে পারে।

সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সবার ক্ষেত্রে সব চিকিৎসা পদ্ধতি একরকম ফল দেয় না। চিকিৎসা পদ্ধতি বাছাই করার ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, রোগের স্থান এবং ব্যাপ্তি দেখে নির্ধারণ করা হয়। শ্বেতী চিকিৎসার জন্য যে সব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

করণীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

টাইট ফিটিং, যা ত্বকে দাগ দিতে, মত স্থিতিস্থাপক অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে যা ত্বক রক্তসংবহন সমস্যার সৃষ্টি করে। প্রারম্ভিক, চুলকানি অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। কোন আঘাত নতুন প্যাচ বৃদ্ধি দিতে হবে। প্লাস্টিক ও রাবার পরিধান এড়িয়ে চলা উচিত। প্লাস্টিক অলঙ্কার, ত্বকে কোন স্টিকার এড়িয়ে চলা উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আমাদের মধ্যে অনেকেই ধবল বা শ্বেতী রোগে ভোগেন। ধবল বা শ্বেতী রোগ কি? চামড়া সাদা বা কালো যাই হোক, ত্বক বা চামড়ার স্বাভাবিক রং যখন থাকে না এবং ত্বকের একটি অস্বাভাবিক রং দেখতে পাই, তখন তাকে শ্বেতী বা ধবল রোগ বলা হয়।

ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ আছে যা মেলানিন নামক একটি রং উৎপাদন করে এবং এই মেলানিনের কারণেই আমরা ত্বকের স্বাভাবিক রংটি দেখতে পাই। এই মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে বা সংখ্যায় কমে গেলে কিংবা মরে গেলে মেলানিন নামক রং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ওই নির্দিষ্ট স্থানে সাদা দাগ পড়ে।

যাদের ডায়বেটিস আছে কিংবা থাইরয়েডের রোগ থাইরোডাইটিস আছে তাদের শ্বেতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। বিশেষ এক জাতের রক্তশুন্যতা থেকেও এই রোগটি হতে পারে। শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে বা প্রাণঘাতী রোগ নয়।

শ্বেতী রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক বিরূপ ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই রোগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারেননি। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।

শ্বেতী রোগের কারণ

এটি কোনো বিপজ্জনক রোগ নয়। শ্বেতীরোগের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিম্নলিখিত কারনে এ রোগ হতে পারে-

বংশগত কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগ হতে পারে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম পরেও এ রোগ হতে দেখা যায়। প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যবহৃত ক্যামিক্যাল বা সিন্থেটিক জাতীয় জিনিস থেকে এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় শ্বেতী হতে পারে।

চশমার ফ্রেম বেশি আঁটসাঁট হলে তা থেকে নাকের দু’পাশে বা কানের কাছে সাদা হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি থাকলে হতে পারে। রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া অথবা মানসিক চাপ থেকে হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে কপালে পড়ার সিন্থেটিক টিপ থেকেও শ্বেতীর শুরু হতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে প্লাস্টিক বা রাবারের জুতা, ঘড়ি প্রভৃতি ব্যবহারের ফলেও শ্বেতী বা অন্যান্য চামড়ার সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

শ্বেতী বা ধবল রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে সহজেই এই রোগের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যেমন- ত্বকের উপর সাদা দাগ পড়বে, অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু অথবা দাড়ি সাদা বা ধূসর হয়ে যাবে, মুখের ভিতরের কলাগুলো বর্ণহীন হবে অথবা চোখের ভিতরের অংশে রংয়ের পরিবর্তন হলে বা রংহীন হলে ধরে নিতে হবে ঐ ব্যক্তি ধবল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

চিকিৎসা

শ্বেতী রোগের চিকিৎসা অনেক সময়সাপেক্ষ আবার পুরোপুরি নাও সারতে পারে। সাধারণভাবে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ রোগীর চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। শ্বেতীর চিকিৎসায় সেরে উঠার জন্য রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। দেহের লোমশ অংশের চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয় কিন্তু যেসব অংশে লোম থাকে না, যেমন আঙুল, ঠোঁট ইত্যাদির চিকিৎসায় দীর্ঘসময় লেগে যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিজে নিজেই সেরে যেতে পারে।

সঠিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। সবার ক্ষেত্রে সব চিকিৎসা পদ্ধতি একরকম ফল দেয় না। চিকিৎসা পদ্ধতি বাছাই করার ক্ষেত্রে রোগীর বয়স, রোগের স্থান এবং ব্যাপ্তি দেখে নির্ধারণ করা হয়। শ্বেতী চিকিৎসার জন্য যে সব ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

করণীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

টাইট ফিটিং, যা ত্বকে দাগ দিতে, মত স্থিতিস্থাপক অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে যা ত্বক রক্তসংবহন সমস্যার সৃষ্টি করে। প্রারম্ভিক, চুলকানি অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। কোন আঘাত নতুন প্যাচ বৃদ্ধি দিতে হবে। প্লাস্টিক ও রাবার পরিধান এড়িয়ে চলা উচিত। প্লাস্টিক অলঙ্কার, ত্বকে কোন স্টিকার এড়িয়ে চলা উচিত।