ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন রাষ্ট্র ঘোষণা করার পুতিন কে, প্রশ্ন বাইডেনের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২
  • ১৯৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বিশাল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রাখার পর দিন দু’য়েক আগে ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে মস্কো ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর যার সূচনা হয়।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রতিবেশীর ভূখণ্ডে পুতিনের নতুন রাষ্ট্র ঘোষণার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় মস্কো। এমনকি স্বীকৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে সেনা পাঠানোর নির্দেশও দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ চরমে ওঠে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশ্ন করেন, প্রতিবেশী দেশের মালিকানায় থাকা ভূখণ্ডে তথাকথিত নতুন রাষ্ট্র ঘোষণার অধিকার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মানছে না এবং মস্কোর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

জো বাইডেন আরও বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। কিন্তু সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষার অঙ্গীকার করেন তিনি।

এছাড়া ইউক্রেনে চলমান উত্তেজনার কারণে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বন্ধের হুমকি দিয়েছেন জো বাইডেন। রুশ এই গ্যাস পাইপলাইনটি নর্ড স্ট্রিম ২ নামে পরিচিত এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস জার্মানি তথা পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইনটি যেন আর সামনে না এগোয়, সেটি নিশ্চিত করতে জার্মানির সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া যদি আগ্রাসন অব্যাহত রাখে তাহলে দেশটিকে এর চেয়েও কঠোর মূল্য দিতে হবে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে মস্কো ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ায় মঙ্গলবার রাশিয়ার দু’টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন জো বাইডেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা রুশ সরকারকে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করে দেবে।

তার ভাষায়, ‘পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এখন আর কোনো অর্থ পাবে না রাশিয়া।’ বাইডেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাশিয়া যদি তার বাহিনী নিয়ে পশ্চিমে ইউক্রেনের দিকে অগ্রসর হয়, তবে তাকে আরও নিষেধাজ্ঞাসহ আরও বেশি মূল্য দিতে হবে।

পুতিন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘তিনি সরাসরি ইউক্রেনের অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ করেছেন। কূটনৈতিক পথ ধরে সংকট নিরসনের মধ্য দিয়ে একটি পরিপূর্ণ আক্রমণের মতো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানোর সময় এখনও আছে।’

শেষে ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা রাশিয়াকে তার কাজ দিয়ে বিচার করতে যাচ্ছি, কথা দিয়ে নয়।

এর আগে গত সোমবার রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সেনা মোতায়েনকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রাষ্ট্র ঘোষণা করার পুতিন কে, প্রশ্ন বাইডেনের

আপডেট টাইম : ১১:৫০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বিশাল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রাখার পর দিন দু’য়েক আগে ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে মস্কো ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর যার সূচনা হয়।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রতিবেশীর ভূখণ্ডে পুতিনের নতুন রাষ্ট্র ঘোষণার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

পূর্ব ইউরোপে রাশিয়ার সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় মস্কো। এমনকি স্বীকৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে সেনা পাঠানোর নির্দেশও দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ চরমে ওঠে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশ্ন করেন, প্রতিবেশী দেশের মালিকানায় থাকা ভূখণ্ডে তথাকথিত নতুন রাষ্ট্র ঘোষণার অধিকার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মানছে না এবং মস্কোর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

জো বাইডেন আরও বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। কিন্তু সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষার অঙ্গীকার করেন তিনি।

এছাড়া ইউক্রেনে চলমান উত্তেজনার কারণে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বন্ধের হুমকি দিয়েছেন জো বাইডেন। রুশ এই গ্যাস পাইপলাইনটি নর্ড স্ট্রিম ২ নামে পরিচিত এবং এর মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস জার্মানি তথা পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইনটি যেন আর সামনে না এগোয়, সেটি নিশ্চিত করতে জার্মানির সঙ্গে কাজ করবেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া যদি আগ্রাসন অব্যাহত রাখে তাহলে দেশটিকে এর চেয়েও কঠোর মূল্য দিতে হবে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি রুশপন্থি অঞ্চলকে মস্কো ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ায় মঙ্গলবার রাশিয়ার দু’টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন জো বাইডেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা রুশ সরকারকে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ বন্ধ করে দেবে।

তার ভাষায়, ‘পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এখন আর কোনো অর্থ পাবে না রাশিয়া।’ বাইডেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাশিয়া যদি তার বাহিনী নিয়ে পশ্চিমে ইউক্রেনের দিকে অগ্রসর হয়, তবে তাকে আরও নিষেধাজ্ঞাসহ আরও বেশি মূল্য দিতে হবে।

পুতিন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘তিনি সরাসরি ইউক্রেনের অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ করেছেন। কূটনৈতিক পথ ধরে সংকট নিরসনের মধ্য দিয়ে একটি পরিপূর্ণ আক্রমণের মতো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানোর সময় এখনও আছে।’

শেষে ডেমোক্র্যাটিক এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা রাশিয়াকে তার কাজ দিয়ে বিচার করতে যাচ্ছি, কথা দিয়ে নয়।

এর আগে গত সোমবার রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে পূর্ব ইউক্রেনে রুশ সেনা মোতায়েনকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।